হাজীগঞ্জে হিন্দু ছাত্রী নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মুসলিম শিক্ষক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২০

হাজীগঞ্জে হিন্দু ছাত্রী নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মুসলিম শিক্ষক গ্রেপ্তার

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এক হিন্দু ছাত্রী নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মুসলিম শিক্ষক শরীফ হোসেন (৩১) কে আটক করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। একইসাথে হিন্দু ছাত্রীকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রযুক্তির সহায়তায় কুমিল্লা থেকে উদ্ধার হওয়া ছাত্রী ও শিক্ষককে হাজীগঞ্জ আনা হয়েছে বুধবার বিকেলে। একই ঘটনায় শ্যালককে সহায়তা করার অপরাধে বোনজামাইকে আটক করে পুলিশ। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কোনো এক সময় ছাত্রী ও শিক্ষক হাজীগঞ্জ ছাড়ে। ঘটনার পরেই ছাত্রীর পরিবার হাজীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ছাত্রীটি হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলিত বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু ব্যবহারিক পরীক্ষা না দিয়ে মেয়েটি প্রেমের টানে শিক্ষকের হাত ধরে পালিয়ে যায়। শরীফ হোসেন একই বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগে এনটিআরসি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। সে হাজীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার তারাপাল্লা গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ জানায়, প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা প্রথমে তাদের সনাক্ত করে গাজীপুরের একটি এলাকায়। এরপরে সাভারে। সাভার থেকে ঢাকার উত্তরা। উত্তরা থেকে কুমিল্লা। সর্বশেষ কুমিল্লা থেকে তাদের আনা হয়েছে। এই ঘটনায় শ্যালককে সহায়তার অপরাধে শরীফ হোসেনের বোন জামাই মনির হোসেনকে আটক করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি শিক্ষক নিবন্ধনের মাধ্যমে ২০১৭ সালে শিক্ষক শরীফ হোসেন মানবিক বিভাগের শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। বালিকা বিদ্যালয় হওয়ার কারণে নিয়োগের পর থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শরীফ হোসেনকে বিয়ের জন্য বারবার তাগিদ দেয়।

এমনকি বিষয়টি তার বাবাকে জানানো হয়। সর্বশেষ শরীফ হোসেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করেন যে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বিয়ে করবেন। এরই মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফরিদগঞ্জে একটি মেয়েকে বিয়ের জন্যে দেখাশুনা করছেন বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।

উক্ত বিদ্যালয়ের অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, চলতি বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার শেষের দিকে গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২২, ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ছুটি নেন শিক্ষক শরীফ হোসেন। ২৫ তারিখ থেকে শরীফ হোসেন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্রীর পরিবারের মাধ্যমে আমি ম্যাসেজ পাই মেয়েটিকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ সময় শরীফ হোসেনের পরিবারের সাথে কথা বললে তারা বলেন শরীফ বাসায় ফিরেনি। তার ফোন বন্ধ রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন আরো জানান, ছাত্রীটির সাথে এ শিক্ষকের ফোনে কথাবার্তা চলতো। এই বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীর পরিবার থেকে অভিযোগ আসলে আমরা উভয়কে ডাকলে দু’জনই বলেছে আমরা ছাত্রী-শিক্ষক হিসেবে কথা বলেছি। এর বাইরে কিছু নয়। ভিন্ন এক প্রশ্নে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২৫ তারিখ থেকে শরীফ হোসেন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে, বিধি অনুযায়ী আমরা তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি ।

অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনির সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে আসামীকে আটকসহ ভিকটিমকে উদ্ধার করার বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রশিদ জানান, ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা অপহরণ মামলায় আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষককে আটক ও ছাত্রীকে উদ্ধার করি।

ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আর শরীফ হোসেনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..