সিলেটে আমেরিকান কন্যা সেজে প্রবাসীর টাকা-গয়না লুট, অপরাধীরা এখনো অধরা

প্রকাশিত: ৮:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২০

সিলেটে আমেরিকান কন্যা সেজে প্রবাসীর টাকা-গয়না লুট, অপরাধীরা এখনো অধরা

স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেট নগরীর বাসিন্দা এক প্রবাসীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তার কাছ থেকে বিভিন্ন কিস্তিতে ছয় লক্ষ টাকা সাথে গয়না হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এই প্রতারকরা তাদের দলের সদস্য ফাতেমা বেগমকে আমেরিকান কন্যা সাজিয়ে ওই প্রবাসীর সাথে ভয়ংকর প্রতারণা করে।পরে প্রবাসী দেশে ফিরে তাদের প্রতারণা বুঝতে পেরে নিরুপায় হয়ে এসএমপির জালালবাদ থানায় গত বৃহস্পতিবার একটি মামলা করেন। মামলার পর এই অপরাধীরা এখনো অধরা। মামলায় আসামিরা হলেন, জালাবাদ থানার কুমারগাঁওয়ের বাসিন্ধা মৃত নূরুউদ্দিনের ছেলে প্রতারক জিল্লুর রহমান, একই এলাকার সাইফুল ইসলামের স্ত্রী প্রতারক আফিয়া বেগম, প্রতারক হাসান মিয়া, প্রতারক ফাতেমা বেগম ও বিয়ানীবাজার উপজেলার কসবা গ্রামের বাসিন্ধা প্রতারক আলা উদ্দিন খান লিটন, বর্তমানে হাজী আজিম উল্লাহ রোডে বাসিন্ধা।

এই চক্রটি ফাতেমা নামের ওই তুরণীকে আমেরিকান কন্যা সাজিয়ে ও প্রতারক আফিয়া বেগমকে আমেরিকান কন্যার মা অথবা খালা বানিয়ে বেপরোয়া ভাবে প্রতারণা করে যাচ্ছে। সর্বশেষ সিলেটের এক প্রবাসী যুবককে প্রতারণা করে ফেঁসে গেছেন তারা। তাদের এই প্রতারণা নিয়ে সিলেট জুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী প্রবাসে যাওয়ার আগে প্রতারক চক্রের সদস্য লিটনের সাথে তার পরিচয় হয়। পরে তিনি প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে লিটন মিয়ার সাথে প্রায়ই মোবাইলে যোগাযোগ করতেন। যোগাযোগের এক পর্যয়ে লিটন বলেন, আমার কাছে একটি আমেরিকান কন্যা আছে, চাইলে তাকে বিয়ে করতে পারবে। লিটনের এমন প্রস্তাবে তিনি রাজি হয়ে কন্যার মামা প্রতারক জিল্লুর রহমানের সাথে লিটনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তারা তাদের প্রতারক চক্রের সদস্য ফাতেমা কন্যা সাজিয়ে ছবি দেখান। এমনকি প্রতারক জিল্লুর রহমান বলেন, ফাতেমা এখন আমেরিকা আছে। সে দেশে আসার পর বিয়ে হবে। পরে ওই প্রবাসী তিনি দেশে আসার পর ফাতেমার সাথে মোবাইলে কথা বলেন। ফাতেমা নিজেকে আমেরিকান প্রবাসী হিসাবে দাবি করেন। তিনি সরল বিশ্বাসে তাদের কথামতো টাকা পয়সা’সহ স্বর্ণালংকার দিয়ে থাকেন। ওই প্রবাসীর কাছ থেকে বিভিন্ন কিস্তিতে ওই প্রতারক চক্রটি ছয় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

সর্বশেষ প্রতারকদের কথা অনুযায়ী তিনি গত এক ফেব্রুয়ারি বিয়ের জন্য দেশে আসেন। এরপর তিনি জানতে পারেন সব কিছু প্রতারণা। এরা একটি প্রতারক চক্র।

এরা এভাবে প্রতারণা করে বিভিন্ন লোকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এই প্রতারক চক্রের সদস্যের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান ওই প্রবাসী। বর্তমানে এসএমপির জালাবাদ থানার এসআই দয়াময় দাস মামলাটি তদন্ত করছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন আসামি আটক হয়নি।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..