সিলেট ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯
গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর ‘মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের প্রভাষক মাহবুবুর রউফ বহিস্কার’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সাথে ভিন্নমত পোষন করেছেন প্রভাষক মাহবুবুর রউফ।
রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে তিনি বলেন, বিগত ১৫ আগস্টে মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস-২০১৯ পালন করা হয়নি। এর প্রতিবাদে আমি জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন গনমাধ্যমে তথ্য দিলে ১৮ আগস্ট সিলেটের বিভিন্ন পত্রিকায় ‘শোক দিবস পালন করেনি মইন উদ্দিন মহিলা কলেজ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত ৫ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মুহা মুনতাজ মইন উদ্দিন মহিলা কলেজে তদন্ত করার জন্য যান। এর ফলে অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৯ ফেব্র“য়ারির বহিস্কারের সংবাদ ৭ সেপ্টেম্বর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেন। যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন না করার প্রতিবাদ করায় অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আমার বিরুদ্ধে এমন তথ্য দিয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।
প্রভাষক মাহবুবুর রউফ আরো বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি বিধি মোতাবেক মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজে বিগত ২০১৬ সালের ১ ফেব্র“য়ারি থেকে অনার্স কোর্সের নিয়মিত প্রভাষক হিসেবে যোগদান করি। যোগদানের পর ওই কলেজের অনার্স শিক্ষকদেরকে মাসিক সম্মানিত ভাতা দেওয়া হতো সর্বসাকূল্যে ৫ হাজার টাকা। কিন্তু আমি এবং আমার অন্যান্য সহকর্মীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার কর্তৃক প্রেরিত ০১/০৬/২০১৬ সালে অনার্স মাস্টার্স কোর্সের শতভাগ বেতন ভাতা ২২ হাজার টাকা প্রদানের প্রজ্ঞাপন পাওয়ার পরপরই অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিনের নিকট শতভাগ বেতন ভাতা দেওয়ার জোড়ালো দাবি জানাই। এরপর থেকেই অধ্যক্ষ আমাকে চাকুরীচ্যূত করার জন্য বিভিন্ন সুযোগ খুজতে থাকেন। এর কয়েক মাস পরেই অধ্যক্ষের কিছু দুর্নীতি ও অনিয়ম আমার নজরে আসায় আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর মৌখিকভাবে জানাই। দুর্নীতি অনিয়মগুলো হলো: গ্র্যাচুয়িটির নামে কলেজ ফান্ড থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করার অপচেষ্টা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করে একই সাথে মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ ও মইন উদ্দিন সামসী স্কুল অব ক্রিয়েটিব লার্নিং এর অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করা অন্যতম। যার ফলে অধ্যক্ষ প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আমার সন্তান সমতূল্য দ্বাদশ শ্রেণির ৮/১০ জন শিক্ষার্থীদেরকে ভুল বুঝিয়ে আমার বিপক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ ২৫/০৯/২০১৮ইং দাড় করান। অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের ওই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত না করে এমনকি আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বিগত ২৯/০১/২০১৯ইং সালে আমাকে গভর্নিং বডির মাধ্যমে শোকজ ও সাময়িক বরখাস্ত করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের শোকজের চিঠি পেয়ে এ অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমি লিখিতভাবে ০৪/০২/২০১৯ইং তারিখে এর জবাব দেই। জবাব দেওয়ার পর অধ্যক্ষ আমার উপর আরো প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরীর শর্তাবলীর রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৫ আইন ও তদন্ত কমিটি অমান্য করে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাকে ১৯/০২/২০১৯ইং তারিখে বহিস্কার করেন। এরপর ০১/০৪/২০১৯ইং তারিখে আমার সহকর্মী ও আমার ভার্সিটি লাইফের ডিপার্টমেন্টের ছোট বোন সৈয়দা ফাতেমা আমার বিরুদ্ধে যে সাধারণ ডায়েরী করেছেন। তাও অধ্যক্ষের প্ররোচনায়। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই আমার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করানো হয়েছে বলে আমি মনে করি।
বিগত ০৫/০৩/২০১৯ইং তারিখে অধ্যক্ষের দেওয়া বরখাস্তের চিঠি পাওয়ার পরপরই আমি ওই অবৈধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর ১৪/০৩/২০১৯ইং তারিখে আপিল করি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আমার আপীল মঞ্জুর করে বিগত ০২/০৫/২০১৯ইং তারিখে উভয়পক্ষের শুনানী করে। আমি আশা করছি খুব শীঘ্রই আমার পক্ষে আপিলের রায় পেয়ে যাবো।’
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd