এসএমপির থানাগুলোতে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার জব্দ গাড়ী

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৯

এসএমপির থানাগুলোতে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার জব্দ গাড়ী

মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় সিলেট মহানগরীর ছয়টি থানায় জব্দ করা গাড়ীগুলো অযতœ-অবহেলায় পড়ে আছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। আর সরকারী বঞ্চিত হচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব থেকে। থানা আঙিনায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা যানবাহনের মধ্যে আছে বেশির ভাগ মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশা। জায়গা সংকট থাকায় খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে একটির উপর আরেকটি গাড়ী। কোনটির দরজা খোলা, কোনটি টোপ খাওয়া, আবার কোনটির ইঞ্জিনের সামনের অংশ ভাঙা। বছরের পর বছর পড়ে থাকায় এসবের গা বেয়ে জন্মেছে আগাছা। বৃষ্টিতে অনেক মাইক্রবাসের ভেতরে জমেছে পানি। আবার অনেক মোটরসাইকেল দীর্ঘদিন থেকে পড়ে থাকায় পুরো গাড়ী আগাছায় ঢেকে গেছে। বেশির ভাগ গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এমন চিত্র মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি, শাহপরাণ (রহ.), জালালাবাদ, এয়ারপোর্ট, মোগলাবাজার ও দক্ষিণ সুরমা থানায় দেখা গেছে। এ দিকে জব্দ করা গাড়িগুলো নিয়ে নতুন বিপত্তি দেখা দিয়েছে। বছরের পর বছর থানা আঙিনায় পড়ে থাকা প্রাইভেট কার, সিএনজি, মোটরসাইকেলে জমা পানিতে জন্ম নিতে পারে এডিস মশা। থানাগুলোর আঙ্গিনার এমন বহু জায়গা আছে যেখানে মশার লার্ভা চোখ দিয়ে তাকালেই দেখা যাবে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেও এর কার্যক্রম চোখে পড়েনি  থানা ও ডাম্পিং স্টেশনগুলোতে।

সূত্রে জানা গেছে, থানায় আটক যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে মোটরসাইকেল। এগুলো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ে ব্যবহার করা হয়েছে। এর অধিকাংশেরই বৈধ কাগজপত্র নেই অথবা চোরাই। জব্দ করা এসব যানবাহনের বেশিরভাগই ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি বা দুর্ঘটনায় পতিত। আবার অনেকটি মাদকদ্রব্য বহনকারী যানবাহন হিসাবে মামলার আলামত হিসাবে জব্দ করা। থানা চত্বরে বছরের পর বছর অযতœ-অবহেলায় পড়ে থাকা যানবাহনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আদালতে মামলা জটের কারণে নিষ্পত্তি না হওয়ায় যানবাহনগুলো নিলামেও উঠে না। আদালতের নির্দেশনা না পাওয়ায় বছরের পর বছর এগুলো বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকার হাজার হাজার টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যেমন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারাও বেগ পেতে হচ্ছে। অতিদ্রুত যানবাহনগুলো বিক্রি করা না হলে পুরোটাই নষ্ট হয়ে যাবে। পরে কেজি দরে বিক্রি করতে হবে।

তবে পুলিশ বলছে, লোকবল সংকটসহ নানা কারণে মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে এবং যানবাহনের মালিকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে এ সংকট নিরসন করা সম্ভব এমনটি বলছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

August 2019
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..