সিসিক মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ : নগরে মানববন্ধন ও প্রতীকী আত্মাহূতি

প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯

সিসিক মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ : নগরে মানববন্ধন ও প্রতীকী আত্মাহূতি
সিলেট :: সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগে প্রদীপ্ত সিলেটের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়েছে। মানববন্ধনে কাফনের কাপড় ও ফুলের মালা পড়ে প্রতীকী আত্মাহূতি করেন দূর্নীতির শিকার ব্যবসায়ী সঞ্জয় রায়।
মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে উক্ত মানববন্ধন  ও প্রতীকী আত্মাহূতি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল সাড়ে দশটায় এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে দূর্নীতির শিকার ব্যবসায়ী সঞ্জয় রায় বলেন, আমি একজন শান্তিপ্রিয়, আইন মান্যকারী লোক । ২০১৪ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে নগর ভবন নির্মাণের জন্য একটি ওয়ার্ক অর্ডার হয়। উক্ত ওয়ার্ক ওয়ার্ডারটি ষোল কোটি আট লক্ষ টাকা মূল্যে মাহবুব ব্রার্দাসকে প্রাঃ লিঃ প্রদান করা হয়। মাহবুব ব্রাদার্স কাজটি সম্পাদনের জন্য ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর সম্পাতপা এন্টারপ্রাইজ এর প্রোপাইটর আমি সঞ্জয় রায় এর সাথে চুক্তি করে।
তিনি জানান, কাজ শুরুর পর নগর ভবন থেকে মাহবুব ব্রার্দাসকে প্রাঃ লিঃ এর নামে বিল ইস্যু করা হত এবং মাহাবুব ব্রাদার্স অফিস থেকে তিনি নিয়মিত চেক গ্রহণ করে আমার মনোনীত একাউন্টে লেনদেন করতেন। মোট কাজের আনুমানিক ৫ শতাংশ কাজ বাকী থাকাবস্থায় সঞ্জয় রায়ের লিভার সিরোসিজ রোগ ধরা পড়লে তিনি জরুরী ভাবে ইন্ডিয়াতে চিকিৎসা নিতে চলে যান। সেসময় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মূল ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্সকে জিম্মি করে  দুই কোটি ছেষট্টি লক্ষ টাকার চুড়ান্ত বিল সঞ্জয় রায়ের অগোচরে রেখে আত্মসাৎ করে।
সঞ্জয় রায় বলেন, এক পর্যায়ে ২ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর কাজের বিপরীতে সিটি কর্পোরেসনে রক্ষিত জামানতের এক কোটি আটান্ন লক্ষ টাকা মেয়র আরিফ মাহাবুব ব্রাদার্সকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সহযোগি হোটেল ক্যাপিটালের পরিচালক তোফায়েল খানের ব্যাংক একাউন্টে নিয়ে আসে। ওই সময় মেয়র আরিফ মাহবুব ব্রাদার্সকে এই বলে আশ্বস্থ করে যে, এই জামানতের টাকা মেয়র নিজের তত্ত্বাবধানে আমাকে প্রদান করবে।
সঞ্জয় রায় আরো বলেন, জামানতের এই টাকার চেক তোফায়েল খানের একাউন্টে আনার সময় ১৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছয়ফুল আমীন বাকের, সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কিছু দিন পর আমি জানতে পারি চূড়ান্তু বিলের ন্যায় আমার জামানতের টাকা  আত্মসাত করা হয়েছে।  তখন আমি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে  গিয়ে আমার টাকা দাবী করলে মেয়র আরিফ আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখায়।  শুধু তাই নয়, আমাকে তার বাসায় আটকে রেখে আমার বাসা থেকে একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক আনিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়।  ব্ল্যাঙ্ক চেক রেখে আমাকে বলে যে, আমি যদি চূড়ান্ত বিল কিংবা জামানতের টাকা কোনদিন চাইতে আসি তাহলে ব্ল্যাঙ্ক চেক ইচ্ছেমতো টাকা বসিয়ে মামলা দিয়ে জেলে দিবে।
তিনি বলেন, আমি প্রাণের ভয়ে এতোদিন এসব কাউকে বলি নাই। আমার পাগলপ্রায় অবস্থা দেখে, পরিবার পরিজন ও বন্ধু বান্ধব বিস্তারিত ঘটনা জানতে চাইলে আমি সব খুলে বলি। তাদের পরামর্শে আমি আইনের আশ্রয়ের জন্য পুলিশ স্টেশন, জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি এবং দুদকে জানানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। তাছাড়া আজকের এই মানববন্ধন ও প্রতীকী আত্মহূতি’র মধ্য দিয়ে সিলেট নগরবাসী ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমার এই আবেদন, আমি আমার প্রাপ্য টাকা যথাশীঘ্র ফেরত পেতে চাই। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কর্তৃক যেসকল দূর্নীতি হয়েছে, তার যথাযথ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করছি। যথাশীঘ্র আমার দু’টি দাবী মানা না হলে, আমি সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নগরবাসীর সামনে আত্মহূতি দেবো।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

February 2019
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728  

সর্বশেষ খবর

………………………..