সিলেট ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানে জিম্মি দশা থেকে দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামাল ও অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল রাতে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদে রণকেলী গ্রামের মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার প্রবাসী বন্ধু মাহফুজ আলী (২৫)-কে মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে কৌশলে প্রলুব্ধ করে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেয় চক্রের সদস্য আব্দুল জলিল ও জায়েদ আহমদ। তারা ভিকটিমদের যতরপুর এলাকার ‘নবপুষ্প-১১৩’ নম্বর বাসার ৫ম তলার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়।
সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল চক্রের নারী সদস্য জেসমিন আক্তার। পরবর্তীতে মূলহোতা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহাসহ আরও ৪/৫ জন ওই বাসায় প্রবেশ করে। চক্রের সদস্যরা ভিকটিমদের ধারালো চাকুর ভয় দেখিয়ে এবং ইলেকট্রিক শক দিয়ে কাবু করে ফেলে। এরপর জোরপূর্বক তাদের বিবস্ত্র করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়।
আসামিরা ভিকটিম রিফাতের ব্যবহৃত আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স, নগদ ৮,৫০০ টাকা এবং মাহফুজ আলীর ৫ ভরি ওজনের রূপার চেইন, ব্রেসলেট ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে ভিকটিমদের পরিবারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। লোকলজ্জার ভয়ে ভিকটিমরা তাৎক্ষণিকভাবে আত্মীয়দের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা এনে দিলেও তাদের মুক্তি দেওয়া হয়নি।
ভিকটিমদের পরিবারের সন্দেহ হলে তারা দ্রুত কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরের নির্দেশনায় এসআই আনোয়ারুল ইসলাম পাঠান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমদের অবস্থান শনাক্ত করেন। ১০ এপ্রিল ভোর ৪:২০ ঘটিকায় ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৪ আসামিকে গ্রেফতার এবং ২ ভিকটিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), মোঃ আব্দুল জলিল (৩০), জেসমিন আক্তার (২২), মোঃ জায়েদ আহমদ (৩৫)।
অভিযানকালে পুলিশ ঘটনার কাজে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেট কার, ১টি সিএনজি অটোরিকশা, ৩টি সাধারণ মোবাইল এবং ভিকটিমের ছিনতাই হওয়া আইফোন ও বাটন ফোন উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় দণ্ডবিধি এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-১৯, তারিখ-১০/০৪/২০২৬) রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের যথাযথ পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
একটি প্রেসব্রিফিংয়ের মাধমে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উত্তরের ডিসি সাইফুল ইসলাম।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd