সিলেট ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৩০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাংলা বাজার ও বালি হাওর এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির মূলহোতা আলী হোসেনকে (৪০)-কে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাউরবাগ হাওর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আলী হোসেন উপজেলার মধ্যজাফলং ইউনিয়নের বাংলা বাজার গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বালির হাওর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই বালু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি দৈনিক লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করতেন। স্থানীয় বিএনপির একটি শক্তিশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় এতদিন তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।
সম্প্রতি বালু সিন্ডিকেটের এই দৌরাত্ম্য ও ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বাউরবাগ হাওরের বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে থানার এসআই মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আলী হোসেনকে আটক করে।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ওসি (তদন্ত) কবির হোসেন জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে আসামিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে আলী হোসেন আটকের পর থেকেই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। শুরুতে তারা থানায় গিয়ে জোর তদবির চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই মামলার বাদী জুয়েল মিয়াকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সরাসরি হুমকি প্রদান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বাদী জুয়েল মিয়া জানান, “আলী হোসেন গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সিন্ডিকেটের লোকজন আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
দীর্ঘদিন পর বালু খেকো এই সিন্ডিকেটের প্রধান আটক হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, বাদিকে হুমকির ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী এই অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের সমূলে বিনাশ এবং জড়িত বাকি সদস্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd