সিলেট ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়ার সুযোগে সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী পাথরখেকো চক্র। পর্যটন কেন্দ্রটির বুক চিরে রাতের আঁধারে চলছে পাথর লুটের মহোৎসব। আসন্ন ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিকে সামনে রেখে জাফলং জিরো পয়েন্টকে পাথরশূন্য করার এক গভীর নীল-নকশা বাস্তবায়ন করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনের আলোতে পর্যটন কেন্দ্রে প্রশাসনের কিছুটা নজরদারি থাকলেও সূর্য ডোবার পরপরই পাল্টে যায় জাফলংয়ের চিত্র। অন্ধকার নামতেই ডাউকি নদীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় ভিড় জমায় শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রাক। পানির নিচ থেকে অবৈধভাবে মূল্যবান পাথর উত্তোলন করে নিমিষেই পাচার করে দিচ্ছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে যখন প্রশাসনিক তৎপরতা কিছুটা শিথিল থাকবে, সেই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে কয়েক কোটি টাকার পাথর সরিয়ে নেওয়ার ছক এঁকেছে চক্রটি। ডাউকি নদীর পানি বাড়ায় নৌকা দিয়ে দ্রুত পাথর পরিবহন করা সহজ হওয়ায় এই সুযোগটিকেই তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “রাতে শত শত নৌকা একসাথে পাথর লুট করে। প্রতিবাদ করার সাহস কারো নেই, কারণ এই চক্রের পেছনে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। এভাবে চলতে থাকলে জাফলং জিরো পয়েন্ট অচিরেই ধু-ধু বালুচরে পরিণত হবে।”
অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, প্রশাসনের প্রকাশ্য বা পরোক্ষ মদদ ছাড়া এমন বৃহৎ আকারের লুটপাট সম্ভব নয়। স্থানীয়দের দাবি, সরকার এই সম্পদ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং হুমকির মুখে পড়ছে জাফলংয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাফলংয়ের অবশিষ্ট প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন মহলের দাবি, ঈদের ছুটির আগেই এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করতে হবে এবং পাথর উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
অন্যথায়, দেশের অন্যতম প্রধান এই পর্যটন কেন্দ্রটি চিরতরে তার সৌন্দর্য ও সম্পদ হারাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd