গোয়াইনঘাটে ঢালাপার নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন : স্বপনের বিরুদ্ধে পুলিশের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৪:০০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২৬

গোয়াইনঘাটে ঢালাপার নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন : স্বপনের বিরুদ্ধে পুলিশের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাটের ঢালাপার নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে বর্তমানে এই অবৈধ বালু বাণিজ্যের সাথে যোগ হয়েছে নতুন উদ্বেগ-পুলিশের নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। আর এই চাঁদাবাজির মূল হোতা হিসেবে ‘স্বপন’ নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ঢালাপার নদী থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিটি ট্রাক থেকে স্বপন নামের ওই ব্যক্তি এক হাজার টাকা করে চাঁদাবাজি করছেন। চালকদের অভিযোগ, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে বা দেরি হলে তাদের হয়রানি করা হয়। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই টাকা আদায়ের সময় তিনি সরাসরি স্থানীয় পুলিশের নাম ব্যবহার করছেন, যা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে দেখা যায় নদীতে থেকে প্রকাশ্যে বালু ভর্তি ট্রাক নিয়ে যাচ্ছে। এই ট্রাক থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাম ব্যবহার করে কীভাবে একজন ব্যক্তি এভাবে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন?

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় স্বপন কাউকে পরোয়া করছেন না। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় একদিকে যেমন নদী ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে সড়কের বেহাল দশা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ট্রাক চালক জানান, “প্রতি ট্রাক থেকে স্বপন টাকা চায়। পুলিশের নাম বললে আমরা আর দ্বিমত করার সাহস পাই না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

পরিবেশ কর্মীদের মতে, ঢালাপার নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং বর্ষাকালে ব্যাপক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এবং চাঁদাবাজ চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ।

বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় জনগণ দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে এই হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

March 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..