সিলেট ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১:১৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সীমান্ত জনপদ এখন উৎসবমুখর। শহর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রার্থীদের সরব প্রচারণা আর কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গণসংযোগে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। তবে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে ভোটের মাঠে দুই প্রার্থীর মধ্যে।
এই আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং ১১ দলীয় জোট ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন।
বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের ভাষায় ‘ডিপ্লোমেটিক লিডার’ আরিফ ভোটের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী নাম। আওয়ামী লীগ শাসনামলে সিলেট সিটির জনপ্রিয় মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে দুইবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে নিজের কারিশমা দেখিয়েছেন তিনি। শুরুতে স্থানীয় বিএনপিতে কিছুটা বিভক্তি থাকলেও, বর্তমানে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ কর্মীরা তার বড় শক্তি।
জামায়াতের জয়নাল আবেদীন এলাকার ভূমিপুত্র তিনি দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই জনপদে সক্রিয়। এবারের নির্বাচনে ‘স্থানীয় বনাম বহিরাগত’ ইস্যু বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে জয়নালকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। তার সমর্থকদের দাবি, ৫৪ বছরের আক্ষেপ ঘুচাতে এবার স্থানীয় প্রার্থীকেই বেছে নেবেন ভোটাররা।
প্রায় পাঁচ লক্ষ ভোটারের এই আসনে উন্নয়নের পাশাপাশি একাধিক স্থানীয় সমস্যা এবারের নির্বাচনে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাথর কোয়ারি সচল করা ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান।পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। শিক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করা। নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ।
বিএনপি সমর্থকরা বলছেন, “উন্নয়নের জন্য আরিফ চৌধুরীর ম্যাজিক আর বিকল্প নেই।” অন্যদিকে জামায়াত সমর্থকদের মতে, “অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করতে জয়নাল ভাইয়ের মতো স্থানীয় নেতৃত্ব প্রয়োজন।”
নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক তৎপর।”
গোয়াইনঘাট থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে সিলেট-৪ আসনে শেষ হাসি কে হাসবেন-আরিফের ‘উন্নয়ন কারিশমা’ নাকি জয়নালের ‘স্থানীয় আবেগ’-তা দেখার অপেক্ষায় এখন সীমান্ত জনপদের জনতা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd