সিলেট ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৯:২৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০২৪
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জে দোয়ারবাজার উপজেলার মৌলারপাড় গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতার ফারুক আহমেদের বাড়িতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ৬টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল (১০ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় ও প্রত্যেক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পূর্বশত্রুতার জেরে মৌলারপাড় গ্রামে শহিদ মিয়া ওরফে (দোলো)-এর ছেলে ফারুক আহমেদ ও তার ভাইয়ের ৫টি বসতঘরে আগুন ও লুটপাট চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এসময় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় অগ্নিসংযোগকারীরা।
আগুনে ৫টি বসতঘরে থাকা দুটো মোটরসাইকেল ও ধান-চাউলসহ সব আসবাবপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়। ২০-২৫ জনের ১টি সংসবদ্ধ দল দেশিয় অস্ত্র নিয়ে ফারুক আহমেদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময়ে হামলাকারীরা পেট্রোল ঢেলে টিনের ছাউনি দেওয়া আধপাকা বসতঘরের চারদিকে আগুন লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপর হামলা করা হয়। ফলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভাতে পারেননি।
খবর পেয়ে থানার পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন- দীর্ঘদিন ধরে শহিদ মিয়া ওরফে (দোলো) ও তার ছেলে ফারুক আহমেদের সাথে একই একই গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জসিম মাস্টার ও বিরোধী দলীয় নেতাদের এবং মৌলারপাড় গ্রামের জসিম ও তার সগযোগীদের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। এসব নিয় উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা-মোকদ্দমাও চলে আসছিল। এসবের জেরেই ফারুক আহমদের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে প্রতিপক্ষ।
শহিদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন- জসিম মাস্টার, রফিকুল ইসলাম ওরফে রফু, আল-আমিন মেম্বার, বশির, কামাল উদ্দিন ও আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের বাড়ি-ঘরে হামালা চালিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় সবকিছু লুটপাট করেও নিয়ে যায় তারা। এসময় পার্শ্ববর্তী একটি বসতঘরের ছাঁদে উঠে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করি। পরে পুলিশ এসে আমাদেরকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করে। তারা পুলিশের সামনেই বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাংচুর চালায়। তারা ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে অস্ত্রের মুখে আগুন নেভাতে দেয়নি।
দোয়াবাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আব্দুল হান্নান বলেন- আমরা দেড়টার সময় খবর পেয়েই সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলের দিকে রওয়ান হই এবং আধাঘণ্টার মধ্যে এসে পৌছে দেখি ৬/৭টি ঘর পুড়ছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ২০/২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বল্লম-রাম দাসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আমাদের কাজে বাধা দেয়। আমরা পাইপ সেটিং করেছিলাম পানি বর্ষণের জন্য, কিন্তু ওই দল এতে বাধা দেয় এবং আমাদের হুমকি প্রদান করে। পরে পুলিশ ও বিজিবি আসার পর আমরা আমাদের কাজ করতে পেরেছি এবং আগুন নিয়ন্ত্রণ করি। ততক্ষণে ৬/৭টি ঘরের সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দুইটা মোটরসাইকেলও পুড়েছে। আমরা এখন তদন্তসাপেক্ষে রিপোর্ট প্রদান করবো।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি জাহিদুল হক বলেন- ঘটনাস্থল আমি নিজে পরিদর্শন করেছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd