মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির প্রতিবাদে সিলেটে বিশাল বিক্ষোভ: পুলিশের অতর্কিত হামলায় হেফাজতে ইসলামের বহু নেতাকর্মী আহত!

প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২২

মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির প্রতিবাদে সিলেটে বিশাল বিক্ষোভ: পুলিশের অতর্কিত হামলায় হেফাজতে ইসলামের বহু নেতাকর্মী আহত!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বরখাস্তকৃক্ত মুখপাত্র নূপুর শর্মা কর্তৃক মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে চরম অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল উত্তাল হয়ে ওঠে পুণ্যভূমি সিলেট। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর সিলেটে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জ ও ধরপাকড়ে হেফাজতে ইসলামের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল জুমার নামাজের পর সিলেটের বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় হাজার হাজার তৌহিদী জনতা জড়ো হন। তারা নূপুর শর্মার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সমাবেশটি যখন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল, তখন হঠাৎ করেই বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ তাদের পথরোধ করে। বিনা উসকানিতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর অতর্কিত লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন।

পুলিশের এই বর্বরোচিত হামলায় হেফাজতে ইসলামের বেশ কয়েকজন নেতা ও সাধারণ কর্মী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিলেট মহানগর শাখার নেতা মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মুফতি জুবায়ের আহমদ, হাফেজ তারেক রহমান, মাওলানা সাঈদুর রহমান এবং সিলেট এয়ারপোর্ট থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়ে যায়।

পরিবার ও দলীয় সূত্রে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে যে, থানা হেফাজতে নেওয়ার পর গ্রেপ্তারকৃতদের ওপর চরমভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। হেফাজতে থাকা অবস্থায় পুলিশ তাদের বেধড়ক মারধর করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পুরো অমানবিক ঘটনার সময় সিলেটের কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী

মাহমুদ সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেন। তার দায়িত্বাধীন থানায় এবং তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তারকৃত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের অমানবিক নির্যাতন করা হলেও তিনি তা থামানোর ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপ নেননি।

হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা এই নগ্ন পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নেতারা অবিলম্বে দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং কোতোয়ালি থানার ওসির অপসারণ ও বিচার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এখনো থমথমে পরিস্থিতি ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

June 2022
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..