দোয়ারায় পল্লী চিকিৎসকের কাণ্ড : ২৯ দিনের শিশুর শরীরে ১০ ইনজেকশন, অবস্থা সংকটাপন্ন

প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২১

দোয়ারায় পল্লী চিকিৎসকের কাণ্ড : ২৯ দিনের শিশুর শরীরে ১০ ইনজেকশন, অবস্থা সংকটাপন্ন

Manual6 Ad Code

আশিস রহমান , দোয়ারাবাজার :: বিএমডিসি আইনে ফার্মেসীতে রেজিস্টার্ড চিকিrসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও গ্রামে-গঞ্জে তা মোটেই মানা হচ্ছে না। বিএমডিসির এসব বিধি-নিষেধ অমান্য করে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অসাধু ফার্মেসী ব্যবসায়ী, ফার্মাসিস্ট ও হাঁতুড়ে চিকিrসকরা দেদারসে যত্রতত্র প্রয়োগ ও বিক্রি করছেন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধপত্র। তাদের দৌরাত্ম্য থেকে রেহাই পাচ্ছে না নবজাতক শিশুরাও!

Manual2 Ad Code

মাত্র ২৯ দিন বয়সী নবজাতক শিশু রাসেলের শরীরে টানা ৫ দিনে ১০টি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন প্রয়োগ করেছে ফার্মেসী ব্যবসায়ী এক পল্লী চিকিৎসক। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আজ (১০ এপ্রিল) শনিবার তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপচিকসার শিকার ওই শিশুটি উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম শুড়িগাঁও গ্রামের সাইদুর রহমানের সন্তান। সাইদুর রহমান জানান, সোমবার তার নবজাতক শিশু রাসেলের ঠান্ডা ও কাঁশিজনিত সমস্যা দেখা দিলে তিনি স্থানীয় লিয়াকতগঞ্জ বাজারের সুজন ফার্মেসীতে ডাক্তার সুজন চক্রবর্তীর শরণাপন্ন হন। তিনি শিশুর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে শিশুর শরীরে ৫দিনে ১০টি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করেন। এতে শিশুটির শারীরিক অবস্থা আরো অবনতি হলে ওই ডাক্তারের রেফার ছাড়াই আজ শনিবার তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানা যায়, পল্লী চিকিৎসক সুজন চক্রবর্তী দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি লিয়াকতগঞ্জ বাজারে প্রায় ২০ বছর ধরে ফার্মেসী ব্যবসার পাশাপাশি চিকিৎসা প্র্যাকটিস্ও করছেন।

Manual5 Ad Code

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সৈকত দাস জানান, সদর হাসপাতালে ওই শিশুটির চিকিৎসা চলছে। গ্রাম এলাকায় মাত্র ২৯ দিনের বাচ্চার শরীরে এভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন প্রয়োগের অধিকার পল্লী চিকিৎসকের নেই। এটা বিডিএমসি আইনেরও লঙ্গন। আর এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একবারে হ্রাস পাবে।

Manual7 Ad Code

এ ব্যাপারে পল্লী চিকিৎসক সুজন চক্রবর্তী ভুল চিকিৎসার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থিক অনটনে গ্রামের সাধারণ মানুষ আমাদের শরণাপন্ন হলেই আমরা চিকিৎসা করতে বাধ্য হই। ওই শিশুটির সমস্যা দেখে তাকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। ২৯ দিনের শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ প্রাথমিক চিকিৎসার আওতাধীন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের রোলে এগুলো পড়ে না। তবে আমার চিকিৎসা হয়তো ভুল হতে পারে। ভবিষ্যতে এক্ষেত্রে আমি আরো সতর্ক হবো।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ শামস উদ্দিন জানান, রেজিস্টার্ড ডাক্তার ছাড়া অনভিজ্ঞ পল্লী চিকিৎসক বা হাঁতুড়ে ডাক্তার দ্বারা কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগ কিংবা বিক্রির বিধান নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Manual2 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..