সিলেটে ব্যাংক কর্মকর্তার ফাঁদে লন্ডন প্রবাসী নারী : হাতিয়ে নিলেন ৭৯লাখ টাকা

প্রকাশিত: ৪:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২১

সিলেটে ব্যাংক কর্মকর্তার ফাঁদে লন্ডন প্রবাসী নারী : হাতিয়ে নিলেন ৭৯লাখ টাকা

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : প্রতারণার মাধ্যমে ৭৯ লাখ টাক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে কানাইঘাটের মৃত হাজী আলাউর রহমানের ছেলে, সিটি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। তার খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন লন্ডন প্রবাসী এক নারী। এ ঘটনায় প্রবাসী শিবলী বেগম বাদি হয়ে সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চেক ডিজঅনার মামলা (নং-৪৬৯/২০২০) করেছেন। কিন্তু হারুনুর রশিদ নানা অজুহাত দেখিয়ে আদালত থেকে বার বার সময় চেয়ে নিচ্ছেন বলে জানান ওই নারী। হারুনুর রশিদ নিজেকে বাঁচাতে আদালতে নানা কৌশল দেখিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। বিশ্বব্যাপী করোনার ২য় ঢেউ চলাকালীন সময়েও লন্ডনে নিজের ছেলে-মেয়েদের রেখে এ মামলার জন্য বাদিকে দেশে আসতে হয়েছে।

মামলা ও বাদি সূত্রে জানা যায়, হারুনুর রশিদের সাথে শিবলী বেগমের চাচাতো বোন সুহেনা বেগমের বিয়ে হয়। সেই সুবাধে হারুনের সাথে শিবলী বেগমের পরিচয় হয়। দেশে থাকাকালে হারুন মাঝে মধ্যে শিবলী বেগমের বাসায় আসতেন আর বলতেন সিটি ব্যাংকে একাউন্ট কারার জন্য। সিটি ব্যাংকে টাকা জমা/এফডিআর’র করলে বেশি লাভ পাওয়া যাবে, একথা বলে ২০০৮ সালে হারুনুর রশিদ জগন্নাথপুর সিটি ব্যাংকের শাখায় শিবলী বেগমের নামে একটি একাউন্ট খুলে দেন। তারপর শিবলী বেগম বিদেশে যাওয়ার আগে তার সোনালী ব্যাংকে রাখা ১০ লাখ টাকা তুলে সিটি ব্যাংকে জমা দিতে একটি চেক দিয়ে যান হারুনের কাছে, কিন্তু সেই চেক দিয়ে টাকা তুলতে হারুন ব্যবহার করেন এম.এল দাস নামে একটি নাম। তারপর বিদেশ গিয়ে ধাপে ধাপে আরও টাকা পাঠাতে থাকেন ওই প্রবাসী নারী। তারপর ২০১২ সালে দেশে এসে টাকার খোঁজ নিতে গেলে শুরু হয় হারুনের নানা টালবাহানা। একবার বলেন ঢাকায় জাগয়া কিনে রেখেছেন শিবলী বেগমের নামে, আবার বলেন টাকা ব্যাংকেই আছে। হারুনের কথার অমিল থাকায় শিবলী বেগম নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে টাকা ফিরে পেতে চেষ্টা করতে থাকেন। হারুনও একের পর এক তারিখ দিয়ে যান, এভাবে কেটে যায় আরও কয়েক বছর। তারপর এক সময় টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করে গত বছরের ১৯ মার্চ হারুনের নিজ নামীয় একাউন্ট থেকে ৭৯ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায় হারুনুর রশিদের একাউন্টে টাকা নেই। তারপর শিবলী বেগম তার আইনজীবীর মাধ্যমে ২টি উকিল নোটিশ প্রদান করলেও কোন কাজ হয়নি। ২০২০ সালের মার্চ মাসে বাধ্য হয়ে মামলা করেন তিনি।

প্রবাসী শিবলী বেগম আরও জানান, সাবেক ব্যাংকার হারুনুর রশিদ তার টাকা দিয়ে সিলেট নগরের রায়নগরস্থ লাকড়িপাড়ায় জমি কিনে বাসা তৈরি করেছেন। তার আগে সিলেটে কোন বাসা ছিল না। শিবলী বেগম বলেন, ‘হারুন দীর্ঘদিন আমার ফ্ল্যাটে বিনা ভাড়ায় থেকেছেন। তিনি আমার সাথে প্রতারণা করেছেন, আমি এই করোনার সময় লন্ডনে ৬ জন ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। আমি আমার টাকা গুলো দ্রুত পেতে চাই। মামলা করার আগে হারুনকে পারিবারিকভাবে ৪ বার সময় দিয়েছি, কিন্তু কোন লাভ হয়নি, তিনি একজন পেশাদার প্রতারক, আরও অনেকের সাথে এ রকম করেছেন। আমি বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি আমার কষ্ট করে জামানো টাকাগুলো ফেরত পেতে চাই। চতুর হারুনের খপ্পরে পড়ে আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি’।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘মামলা হয়েছে, রায়ও হবে। উনি মামলা করেছেন, আদালতে মামলাটি চলমান. দেখা যাক কি হয়, এর বেশি কিছু বলতে পারবো না’। প্রতরণার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, ‘আভিযোগ তো একজন করতেই পারেন’।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..