সিলেট ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২০
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: গোয়াইনঘাট উপজেলার আঙ্গারজুর আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা হেলাল আহমদের বিরুদ্ধে কমিটি গঠন সহ নানা বিষয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা হেলালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হচ্ছে, চলতি বছরের পহেলা মে থেকে মাদারাসায় টানা অনুপস্থিত, উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাৎ, বিধি মোতাবেক কমিটি গঠন না করা, সরকারি স্বার্থ সংরক্ষণ না করা, মাদরাসায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন না করা, বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা না নেয়া, অনলাইনের মাধ্যমে কোন ক্লাস না নেয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে হয়রানিসহ নানা অনিয়ম। এই অনিয়ম দুর্নীতির বিচার চেয়ে ও তাকে দ্রুত অপসারণের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
উক্ত মাদরাসায় দীর্ঘদিন অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছিলেন আংগারজুর গ্রামের কৃতি সন্তান মাওলানা মজিবুর রহমান কামালী,২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন মাওলানা মুজিবুর রহমান কামালী। সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মুজিবুর রহমান কামালীর মৃত্যুর পর থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা হেলাল আহমদ। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ওই মাদ্রাসার বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির ৮ সদস্যসহ এলাকার কয়েক শতাধিক মানুষ এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ পাওয়ার পর যথাক্রমে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যসহো এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে গত ৪ নভেম্বর, ৮ নভেম্বর ও ১১ নভেম্বর সভা আহবান করেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা হেলাল আহমদকে সভায় অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান। কিন্তু কোন সভাতেই হেলাল আহমদ উপস্থিত হননি।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহিবুর রহমান, নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুন রশীদ শাহীন, আজবর আলী, মুশাহিদ মেম্বার, খলিলুর রহমান (মরম আলী) ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন, আমিনুর রহমান শিকদার , রুহুল আমিন চৌধুরী বাবুল, আব্দুল হান্নান, মাওলানা আতাউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী, আব্দুস সোবহান, হাজী রফিক আহমদ, মাস্টার জিল্লুর রহমান, মিছবাহ উদ্দিন, মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মুহিবুর রহমান, মাস্টার ফয়জুল হক, অফিস সহকারী আব্দুল্লাহ, মিজানুর রহমান, মোঃ বিলাল উদ্দিনসহ একাধিক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদ্রাসার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রভাব পড়েছে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থায়। যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী এই মাদ্রাসাও ত্যাগ করে অন্য মাদ্রাসায় গিয়ে ভর্তি হয়েছে। তারা স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করেন বিগত কয়েক বছর থেকে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভায় মাদরাসার জন্য কম্পিউটার ক্রয় এবং শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও দূর্নীতিবাজ সহ:সুপার তা বাস্তবায়ন করেননি। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীদের হাতে এসেসমেন্ট ও অনলাইনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এই প্রতিষ্টানের সহ:সুপার নিজেই অনুপস্থিত আর শিক্ষার্থীদের খবরকে রাখে।
সর্বশেষ মাদরাসা পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসীকে না জানিয়ে দুই লাখ টাকা রফাদফা করে গোপন এডোক কমিটির প্রস্তবনা শিক্ষাবোর্ড প্রেরন করেন। কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন জানান, গত দুই বছরের মাদরাসার বিভিন্ন আয় ও ব্যয়ের হিসাব দিতে অনীহা প্রকাশ করেন হেলাল উদ্দিন।
এ বিষয়ে তার উপর আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা হেলাল আহমদ। তবে মাদরাসা প্রস্তাবিত এডোক কমিটির প্রধান গোলাপ মিয়ার গুণকীর্তন করে বলেন, উক্ত মাদরাসায় গোলাপ মিয়ার নিজস্ব একটি ভবন এবং নবনির্মিত ভবনের মাটি ভরাটে ৬ লাখ টাকা দান করেছেন।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা হেলাল আহমদের বিভিন্ন বিষয়ে দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহ করে মাদরাসার সাথে সম্পৃক্ত গ্রাম গুলোর মানুষেরা হেলালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী গ্রহন করেছেন। এলাকার সচেতন মহল বলেন বর্তমানে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে উৎকণ্ঠা আর অস্থিরতা বিরাজ করছে, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd