গোয়াইনঘাটে জেবুন নাহার সেলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ব্যপক দুর্নীতি

প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০

গোয়াইনঘাটে জেবুন নাহার সেলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ব্যপক দুর্নীতি

Manual8 Ad Code

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেটের গোয়াইনঘাটের এডভোকেট জেবুন নাহার সেলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে জালিয়াতির বিষয়টি কেউ স্বীকার করতে রাজি নন। চাকুরি প্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন বলে জানাগেছে।

Manual4 Ad Code

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের এড. জেবুন নাহার সেলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক জালিয়াতি আর দূর্নীতি করেছে একটি চক্র। চলতি বছরের মে মাসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের সার্বিক সহযোগীতায় উক্ত বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির তালিকায় সংযুক্ত হয়।

Manual4 Ad Code

আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে একটি কুচক্রী মহল লক্ষ-লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এসব কর্মকান্ডে অতিষ্ট এলাকাবাসী।

জানা গেছে সাবেক মেম্বার ও স্কুলের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিন তার সভাপতি থাকাকালীন ২০১৪ সালের নিয়োগ দেখিয়ে বেশ বড় অংকের টাকা আত্মসাৎ ও নিজের মেয়ের চাকরি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। বর্তমান কমিটি তার এসব দুর্নীতি ও জালিয়াতিতে সম্মতি না দিলে তিনি ব্যর্থ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সিলেট জেলা শিক্ষা বোর্ডে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এলাকায় এসব দূর্নীতি জানাজানি হয়ে যাওয়াতে স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষিত সমাজ দূর্ণীতিবাজদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। এলাকার সর্বস্থরের ছাত্রদের একক সম্মিলিত সংগঠন “একতা ছাত্র সংগঠন” এসব দূর্ণীতিবাজদের কবল থেকে স্কুলকে মুক্ত করতে বর্তমান সভাপতি আব্দুল মুতালিব এর মাধ্যমে গত রবিবার একটি সাধারণ মিটিংয়ের আয়োজন করে। এলাকার সকলের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক চিঠি ও মৌখিক দাওয়াত করা হয়। এতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমানেরও সম্মতি নেয় একতা ছাত্র সংগঠন। এলাকার সকল মানুষের দাবীই ছিল এমন একটা মিটিংয়ের। সবকিছু ঠিকঠাক প্রায় দুইশতাধিক চিঠি বিতরণ করা হয়। সভাপতি একা এতো অল্প সময়ে মিটিং করা কষ্টকর হবে বলে একতা ছাত্র সংগঠনের সার্বিক সহযোগীতা চান তিনি। এতেকরে চিঠি বিতরণ থেকে শুরু করে সকল কাজে তাকে সহযোগীতা করে একতা ছাত্র সংগঠন। সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ও শাহ আলমকে চিঠি দেওয়ার পর তারা চিঠি বাহকদের সাথে ঠাট্টাতামাশা করেন এবং মিটিং না হওয়া ও তারা হাজির না থাকার আগাম বার্তা দেন। তাদের আগাম বার্তাই সঠিক হয়। পরদিন আর মিটিং হয়নি। তলের বিড়াল বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন মিটিং স্থগিত করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে বর্তমান সভাপতিকে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে এলাকাবাসীর কাঙ্ক্ষিত মিটিংটিও ধ্বংস হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক শিক্ষিত তরুণ বলেন, আমাদের এলাকা অশিক্ষিত কিছু মুরব্বিদের নিকট জিম্মি। তারা তাদের মনচায় ভাবে এলাকাকে পরিচালনা করে আসছেন। নিজ স্বার্থকে সর্বদাই তারা প্রাধান্য দেন বলে আমাদের আজকের এই অবস্থা। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে তাদের এমন আচরণ আমরা আশাকরিনি। তিনি আরও বলেন আমাদের দাবী হলো অশিক্ষিত যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্ম বুঝেনা এমন মানুষদেরকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি থেকে বাদ দিলেই এসব সমস্যা দূর হবে।

Manual1 Ad Code

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মুতালিব বলেন, আমি শুরু থেকেই স্কুলের কল্যাণে সবসময় কাজ করে আসছি। স্কুল এমপিওভুক্তি হওয়ার পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল আমাকে ব্যর্থ বানানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে লেগেই আছে। আমার ভাল কাজও তাদের নিকট মন্দ। কুচক্রী মহলটি শিক্ষক নিয়োগে অর্থ বাণিজ্য করতে চেষ্টা করেছিল। আমি তাদের বাধা হয়ে যাওয়াতে তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। আমি কোন প্রকার দূর্ণীতির সাথে কখনও জড়িত ছিলাম না এবং এখনও নই। যারা এসব আওয়াজ তুলেছে তারাই প্রকৃত দুর্নীতিবাজ।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান জানান, আমি দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যালয়টির দায়িত্বে আছি। বিদ্যালয়ের ক্ষতি হোক এমন কোন কাজ আমি কখনও করিনি। স্কুল এমপিওভুক্তি হওয়ার পর সাবেক সভাপতি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে উনার মেয়ের চাকরি অথবা বড় অংকের টাকা দাবী করেন। উনার মেয়ের চাকরি এবং টাকা দিতে অক্ষম হলে আমরা পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস শহীদ স্যার’র দারস্থ হই। তখন তিনি আমাদের সকলকে নিয়ে বসেন। সেই মিটিং এ সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন আমি একজন শিক্ষক জাফলং থেকে এনেছিলাম উনি দেড় লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন।

কিন্তু প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান উনাকে ফেরত দিয়ে দেন। তখন আব্দুস শহীদ স্যার বলেন আপনি ঔ শিক্ষককে আনতে পারেন। আমি তাদেরকে রাজি করাব। তখন সাবেক সভাপতি বলেন উনি এখন আর আসবেন না। তখন শহীদ স্যার একজন শিক্ষক (তাজুল ইসলাম) দেন উনি দুই লক্ষ টাকা দিবেন এই শর্তে। উনার দুই লক্ষ এবং বাকী সবাই মিলে আরও একলক্ষ টাকা দিয়ে মোট তিন লক্ষ টাকা সাবেক সভাপতিকে দেওয়া হলে তিনি আর কোন ঝামেলা করবেন না। এই তিন লক্ষ টাকার জামিনদার করা হয় হাজিপুরের সিরাজ উদ্দীনকে। তিন লক্ষ টাকা পেয়ে স্কুলের সাথে আর কোন ঝামেলা না করার জন্য ঢালারপারের শাহ আলমের মাধ্যমে সাবেক সভাপতি সম্মতি দেন। তিনি বলেন নগদ এক লক্ষ টাকা তাকে দিতে হবে। স্কুলের স্বার্থে আমরা তার সবকিছুতে রাজি হলেও তিনি পূণরায় বড় অংকের টাকার আশায় মামলা করে স্কুলকে হুমকির মুখে ফেলেন।

Manual7 Ad Code

এ বিষয়ে সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..