সিলেট ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : শ্রীনগরে দশম শ্রেণির ছাত্রী সিনথিয়ার (১৪) আত্মহননের পর লাশের গায়ে বখাটেদের আঘাতের চিহ্ন থাকার প্রমান পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করছে তার পরিবার। এ ঘটনায় বখাটেদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বার বার থানায় আসলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছেনা বলে ওই ছাত্রীর মা অভিযোগ করেণ। তার দাবী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বখাটেদের পক্ষ নেওয়ায় পুলিশ সিনথিয়ার গায়ের আঘাতের চিহ্নের বিষয়টি সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেনি। ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় সিনথিয়ার লাশ দাফন করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ভাগ্যকূল ইউনিয়নের ফজলুল হক উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী সিনথিয়া বিদ্যালয় থেকে ১শ গজ দুরে তার চাচাতো মামা সাকিবের সাথে কথা বলছিল। এ সময় ওই এলাকার বখাটে খোকা মোড়লের ছেলে রাকিব, তার সহযোগী জুবায়েদ,সিফাত ও লিয়ন সহ আরো কয়েকজন সিনথীয়া ও সাকিবের বিরুদ্ধে অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনে তাদের মারধর করে। এ সময় বখাটেরা সাকিবের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। পরে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী মনোয়ার হোসেন শাহাদাৎ বখাটেদের পক্ষ নিয়ে সিনথিয়াকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেয়। এতে ওই ছাত্রী মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরে। সেখানে থেকে বাড়িতে এসে সিনথিয়া ওইদিন দুপুরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
ছাত্রীর বাবা আবদুর রহিম ও মা মিনারা বেগম কান্নাজরিত কন্ঠে বলেন, সাকিব ও সিনথীয়া সর্ম্পকে মামা ভাগনি। তারা কথা বলতেই পারে। বখাটেরা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এভাবে মারধর করতে পারেনা। আমার মেয়েটা বখাটেদের মারপিটের লিলা ফুলা জখম নিয়েই কবরে গেল। আমরা গরিব মানুষ। এই বিচার কার কাছে চাইবো? চেয়ারম্যান বখাটেদের পক্ষের লোক। তিনি থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে ফেলেছেন। একারণে পুলিশ আমাদের মামলা নিচ্ছে না। চেয়ারম্যান ময়নাতদন্ত রিপোর্টও ভিন্ন খাতে নেওয়ার পায়তারা করছে। বখাটেদের পক্ষ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন এই ঘটনায় কিছুই হবে না।
ভাগ্যকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের সভাপতি কাজী মনোয়ার হোসেন শাহাদাতের কাছে এই বিষয়ে জানার জন্য ফোন করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই আপন দাস বলেন, লাশের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বখাটেদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ থানায় মামলা করতে আসেনি।
এব্যাপারে শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, আত্মহত্যার ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে আঘাতের বিষয়ে জানা যাবে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd