সিলেট ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০১৯
আকাশ ছোঁয়া পাহাড় ঘেষা প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়,বিছনাকান্দি.মায়াবন,পান্তুমাই সর্বপরি রাতারগুল সোয়াম ফরেষ্ট’র অপরূপ রূপলাবণ্য অবলোকন করতে কার না মন চায়। তাই তো সুযোগ পেলেই ছুটে আসা। তাও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। পথের দূরত্ব কিংবা যাত্রা পথের দুর্ভোগ কোন বাধাই আটকে রাখতে পারেনা প্রকৃতি প্রেমিদের। প্রাণের আকুতির কাছে সব তুচ্ছ মনে হয়।
প্রকৃতির প্রতি প্রাণের টান বড়ই দুর্বার উপেক্ষা করার যেন উপায় নেই। তাইতো ঈদুল ফিতরের ছুটি উপভোগ করতে সব বয়সের নারী/পুরুষ শিশু কিশোর সীমান্ত জনপদ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, মায়াবন,পান্তুমাই এবং রাতারগুল সোয়ম ফরেষ্টে ভিড় করেছেন। বলতেই হয়, এখানে মানুষের ঢল নেমেছে।
সিলেট মহানগরী থেকে ৫৯ কিলোমিটার দূরে জাফলং। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, তামাবিল জিরো পয়েন্ট, আকাঁবাকা সড়ক পথ, পিকনিক সেন্টার, জাফলং গ্রীন পার্ক, পাথর কোয়ারি, সীমান্তের ওপারের মেঘালয় রাজ্যেও সচ্ছ জলরাশির ঝর্ণা, চা-বাগান, খাসিয়া পুঞ্জি, জুমচাষ, সাতকরা জুম, কমলা বাগান, নানা প্রজাতির পাখির কলতান-আরো কত কি। এছাড়া পাথরের তৈরি নানা সামগ্রীও এখানে পাাওয়া যায়।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ঘুরে দেখা গেছে, জাফলংয়ে এখন লক্ষাধিক পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। মামার দোকান থেকে বল্লাঘাট পর্যন্ত অসংখ্য ছোট বড় গাড়ি দেখে মনে হয় এ যেন এক মহা জ্যামের নগরে রুপান্তরিত। আশে-পাশের রাস্তা, পাথর ড্রাম্পিংয়ের স্থান এবং ক্রাসার মেশিন জোনেও গাড়ির ছড়াছড়ি। তবে সিলেট-জাফলং মহাসড়কের মামার দোকান ও মোহাম্মদপুর পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখে পর্যটকরা ভীষণ ক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আগত বেশ কয়েকজন পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশও করছেন। জাফলং পিকনিক রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধকারী রাজিবুল ইসলাম শিমুল জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ঈদুল ফিতরে পর্যটকের সংখ্যা কয়েক গুন বেশি। তাদেরকে সেবা দিতে আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছি। বল্লাঘাট ক্ষুধা রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে ব্যতিক্রমী কিছু আয়োজন করে থাকি, যাতে পর্যটকরা এখানে এসে আনন্দ পায়। এ ব্যাপারে ঢাকা গাজীপুরের ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান বলেন আমরা কয়েকজন বন্ধু আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে জাফলং বেড়াতে এসে খুবই আনন্দ উপভোগ করছি। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশা দেখে মনে খুবই কষ্ট পেয়েছি।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল জানান, পর্যটন এলাকা জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম ফরেষ্ট,পান্তুমাই এবং নতুন আবিষ্কৃত মায়াবন (জুগিরকান্দি)-সবখানেই অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। সেই সাথে পর্যটকদের নিরাপাত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে একটি টিম কাজ করছে।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশ ও বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখোরিত হয়েছে গোয়াইনঘাটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পর্যটকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা প্রদানে উপজেলা প্রাশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন- প্রকৃতি কন্যা জাফলং ও জল পাথরের বিছনাকান্দিতে সাতার না জানার কারণে অনেক সময় অনাকাংকিত ঘটনা ঘটে। সেক্ষেত্রে সাতার জানা না থাকলে পানিতে না নামতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়া পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে উপজেলা প্রশাসনের নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেয়া সতর্কতা বজায় রেখে আনন্দ উপভোগ করতে সকলের প্রতি অনুরোধ করেছেন তিনি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd