সিলেট ৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯
রেজা রুবেল :: দক্ষিণ সুরমার মাসুক মিয়া হত্যা মামলায় দাখিলকৃত চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে মামলার তদন্ত দাবি ও ফারুকের উপর বানোয়াট মাদক মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাদের মা। বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি দুপুর ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান। ফাতেমা বেগম বলেন, গত বছরের ৬ মার্চ দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকায় দুইদল দাঙ্গাবাজের সংঘর্ষ চলাকালে মধ্যস্ততা করতে গিয়ে তার ছেলে মাসুক মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় আরও নিহত হন বরইকান্দি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাবুল আখতার। জোড়া খুনের এ ঘটনায় কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগ নেতা গৌছ মিয়ার সহযোগিতায় কয়েকজন অসাধু পুলিশ অফিসার মিলে যে চার্জশীট দাখিল করেছেন তাতে খুনের মূলহোতা সিরিয়াল কিলার আলফুর দুই ছেলেসহ অনেক আসামীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় আছে ভিডিও ফুটেজে থাকা কোম্পানীগঞ্জের কুখ্যাত ডাকাত সর্দার নাজিমও। এ ব্যাপারে আপোষ করতে তাদেরকে প্রভাবশালী বিবাদীরা নিয়মিত হুমকি ধমকি দিচ্ছে। এরপরই নিরাপত্তা ও সুবিচারের আশায় সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনটি আমলে নেয়া হয় না। আসামীদের হুমকি ধমকিও অব্যাহত থাকে। এরপর ২২ জানুয়ারি ফারুককে বন্দরবাজার থেকে ধরে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়। মূলত ফারুক ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী এবং সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য। তাছাড়া তিনি একসময় শিক্ষকতার সাথেও জড়িত ছিলেন এবং গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে ১৩ জনের মধ্যে ৪নং হয়েছিলেন। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলে খুনি আলফু ও গৌছের চক্রান্তে ডিবি অফিসার রফিকুল ইসলামকে দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। অতীতে তার উপর অনেক রাজনৈতিক মামলা হলেও কখনো এধরণের মামলা হয়নি। মাসুক মিয়া হত্যামামলার দাখিলকৃত চার্জশীট বাতিল করে নতুন করে তদন্ত করার জন্য দেশের বিচার বিভাগ ও প্রশাসনহস সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলনে ফারুক মিয়ার চার শিশু সন্তান জানিয়েছে, ফেসবুকে মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে তার পিতার ছবি ভাইরাল হলে গত কয়েকদিন থেকে তারা মারাত্মক খারাপ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। স্কুলে বন্ধবান্ধবসহ চেনাজানাদের নানা প্রশ্নে তারা বিব্রত। লজ্জায়-ঘৃণায় তারা স্কুলেও যেতে পারছেনা। তারাও অবিলম্বের তাদের পিতার মুক্তি দাবি করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তার আরেক পুত্র ফখর উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের জালালাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মসদ্দর আলী, সাধারণ সম্পাদক আশরব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মকবুল হোসেন, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি ফারুক আহমদ, ইউপি সদস্য মুহিত আলম শফিক, হাটখোলা ইউপি সদস্য মোবশ্বির আলী, শাহজালাল বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফখর উদ্দিন, জালালাবাদ ইউপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রমুখ।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd