কোন আয় নেই, ঘরবাড়ি নেই শফি চৌধুরীর

প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০১৮

কোন আয় নেই, ঘরবাড়ি নেই শফি চৌধুরীর

ডেস্ক রিপোর্ট:: শুরু থেকেই সিলেট-৩ আসনে সমালোচিত শফি চৌধুরী। বিগত সময়ে নানা কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তিনি দূরে ছিলেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না পেয়েও অর্থের জোরে এ আসনে মনোনয়ন কেনার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শফি চৌধুরী শিল্পপতি হলেও অসহায় মানুষের পাশে দাড়াননি। তার কাছে কেউ সাহায্যের জন্য গেলে তাড়িয়ে দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে শফি চৌধুরী হলফনামায় মোটা অংকের সম্পদের হিসাব থাকলেও এবারের নির্বাচনী হলফনামায় তিনি সহায় সম্বলহীন। শুধুমাত্র ব্যবসা করেই দিনাতিপাত করছেন। ঘরবাড়ি নেই, সম্পদ নেই।

হলফনামায় তার এমন মিথ্যাচারে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিগত সময়ে শিল্পপতি শফি আজ সম্পদহীন।

বিগত সময়ে ইলিয়াস আলী গুমের পর বালাগঞ্জের স্থানীয় পর্যায়ে তিনি কমিটি ঘোষনা দেয়ার কারনে সমালোচিত হন। এতে করে তৃণমূল বিএনপি’র মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়।

বিশেষ করে, ২৩ দলীয় ঐক্যজোট ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমোল সমালোচনায় আসেন তিনি। জামায়াত সহ শরীক দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, শফি চৌধুরীকে সিলেট-৩ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে বিকল্প ব্যবস্থা নিবেন তারা।

দেশের ইতিহাসে ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের অন্যতম কারণ ছিলেন তিনি। বিদেশ থেকে জাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রেরিত ত্রাণ আত্মাসাত করে সিঙ্গাপুরে পাচার করে বিক্রি করেন শফি চৌধুরী। তার কারনেই লক্ষ লক্ষ মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে অনাহারে মারা যান। এসময় তার বাসা ও ঢাকা মতিঝিলের অফিসে হামলা, ভাংচুর চালিয়ে অফিস জালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। তার দেশে আসা নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারকে তার ভাইয়ের মাধ্যমে দুর্ভিক্ষের ত্রান আত্মসাতের কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেশে আসেন। দুর্ভিক্ষের বর্ণনা দিয়ে বিভিন্ন লেখক তাদের বইয়ে শফি চৌধুরীর ত্রাণ আত্মসাতের কথা ফুটিয়ে তুলেন। তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও তার কর্মকান্ড উঠে আসে।

তাছাড়া তিনি বিভিন্ন টকশোতে বঙ্গবন্ধুকে টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু আ.লীগ নেতৃবৃন্দরা দাবি করেন- টাকাটা হচ্ছে ত্রাণ আত্মসাতের অল্প কিছু ক্ষতিপূরণ।

এছাড়া বিগত ওয়ান ইলেভেন সরকারকালীন তার গ্রামের বাড়ির পুকুর থেকে ত্রাণের টিন ও প্রোটিন বিস্কুট উদ্ধার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ইমেজ সংকটে পড়েন তিনি। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের জন্য বিষয়টি বিরোধিতার খোরাকে পরিণত হয়।

তিনি ১/১১ এর স্বৈরশাসক ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনকে কিছুদিন পূর্বে তার আমেরিকার বাসায় নিয়ে দাওয়াত খাওয়ান। বিগতদিনে টকশোতে তিনি গর্বের সাথে বলেছিলেন, দুর্নীতি মামলায় ১/১১ এর সময় খালেদা-তারেক জিয়া সহ অনেক নেতারাই জেল কাটলেও আমি জেল কাটেনি, নির্দোষ খালাস পেয়ে একদিনে মামলা শেষ করে বের হয়েছি। তার এসব কথায় দলের চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা।

রাজনীতির জীবনে তিনি ৬ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন। ১৯৮৬ সালে রিক্সা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করলে ১৯৯১, ১৯৯৬ (২ বার), ২০০১, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি জয়লাভ করেছিলেন। আর এসব কারনেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম সমালোচিত রয়েছেন তিনি। এখন নতুন করে বিষয়গুলো উঠে আসছে ভোটের মাঠে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..