সিলেট ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:১৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাটে বালু ভর্তি ট্রাকের ভেতর সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ চোরাচালানকৃত ভারতীয় জিরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বঙ্গবীর চেকপোস্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিরার বস্তাসহ একটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়।
এ সময় চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ট্রাকচালক জাকারিয়া হোসেনকে (৩৪) আটক করা হয়েছে। আটক চালক গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩নং বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ঘোরাগ্রামের চমক আলীর ছেলে। তবে এ ঘটনার সাথে জড়িত জিরার মূল মালিকরা পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত জিরার মোট পরিমাণ ৭৬ বস্তা (ব্র্যান্ড: কেএস গোল্ড), যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
এদিকে নিয়মিত শত শত ট্রাক পারাপার হলেও হঠাৎ একটি ট্রাক ধরা পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ— প্রতি রাতে এই চেকপোস্ট দিয়ে শতাধিক চোরাই পণ্যের ট্রাক পার হয়। চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাধারণত শুধু পণ্যের মালিকের নাম জিজ্ঞেস করে ট্রাক ছেড়ে দেন। কিন্তু আজ রহস্যজনক কারণে মাত্র একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। এছাড়া শুধু ট্রাকচালককে আটক করা হলেও মূল চোরাই পণ্যের মালিকদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামানের নির্দেশনায় এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার সকালে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে নামে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের বঙ্গবীর চেকপোস্ট রোডে একটি বালু বোঝাই ড্রাম ট্রাককে (ঢাকা মেট্রো ট ২৪-১৪৯২) থামানো হয়। আপাতদৃষ্টিতে ট্রাকটিতে সাধারণ বালু মনে হলেও, পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে বালুর স্তরের নিচ থেকে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৭৬ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে এএসআই আলী আহমদ ও এএসআই মনির হোসাইনও অংশ নেন।
অভিযানের নেতৃত্বদানকারী এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা বঙ্গবীর এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলাম। একটি বালু ভর্তি ট্রাকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি চালানো হয় এবং বালুর নিচ থেকে অবৈধ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। চোরাচালান ও মাদক নির্মূলে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান রোধে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চোরাকারবারিরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করলেও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের পেছনের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।”
উদ্ধারকৃত মালামাল ও ড্রাম ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় একটি চোরাচালান মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd