আনন্দের বিয়ে রূপ নিলো শোকে: ঘাতক নৌবাহিনীর বাসের কেড়ে নিল ১৪ প্রাণ

প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২৬

আনন্দের বিয়ে রূপ নিলো শোকে: ঘাতক নৌবাহিনীর বাসের কেড়ে নিল ১৪ প্রাণ

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: সবেমাত্র বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছিল। কনের বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে বরের বাড়ির পথে রওনা হয়েছিল বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি। কিন্তু সেই নতুন জীবনের পথ মোংলার শেলাবুনিয়া পর্যন্ত আর পৌঁছাতে পারল না। মাঝপথে ঘাতক বাসের ধাক্কায় পিষ্ট হলো বর-কনেসহ একই পরিবারের অন্তত ১৪টি প্রাণ।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা এলাকা।

নিহত কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুর মামা আবু তাহের কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, আজ দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশায় মার্জিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর বরের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন মার্জিয়া। মাইক্রোবাসটিতে মার্জিয়ার সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন লামিয়া ও নানী। দুর্ঘটনায় তারা সবাই মারা গেছেন।

অন্যদিকে, বরের বাবা মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক তার ছোট ছেলে সাব্বিরের বিয়ে দিয়ে সপরিবারে ফিরছিলেন। মোংলা পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম জানান, এই দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে (বর সাব্বির), পুত্রবধূ (কনে মার্জিয়া), মেয়েসহ তাদের পরিবারের ৮ জন এবং মাইক্রোবাস চালকসহ মোট ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটি মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে একটি লোহার স্তূপে পরিণত হয়। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বিয়ের উপহার আর রক্তের স্রোত।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান জানান, মাইক্রোবাসটি মোংলা অভিমুখে যাচ্ছিল এবং বাসটি ছিল খুলনামুখী। বেলাইব্রিজ এলাকায় এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের আরোহীদের প্রায় কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, রামপাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জনের মরদেহ রয়েছে। বাকিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। খুলনা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, সেখানে রাত পর্যন্ত মোট ১০ জনের মরদেহ পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী ও ৮ জন পুরুষ।

একই পরিবারের এতগুলো মানুষের মৃত্যুতে মোংলা ও কয়রা এলাকায় এখন শোকের ছায়া। যারা কয়েক ঘণ্টা আগে বর-কনেকে আশীর্বাদ করে বিদায় দিয়েছিলেন, তারা এখন তাদের নিথর দেহ গ্রহণের অপেক্ষায় হাসপাতালে ভিড় করছেন। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, যে বাসর সাজানোর কথা ছিল আজ রাতে, সেখানে এখন চলছে জানাজার প্রস্তুতি।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

March 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..