বিশ্বনাথে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে তৎপর একটি মহল

প্রকাশিত: ১১:৩১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০২০

বিশ্বনাথে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে তৎপর একটি মহল

স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। গত ২৬ জুন উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌধুরীগাঁও গ্রামে মেয়েটি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বাতরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে আবুল কাহার নামের এক যুবক। ধর্ষক বিশ্বনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌধুরীগাঁও গ্রামের মৃত মরম আলীর পুত্র। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন ওই ছাত্রীর পরিবারকে। কিন্তু স্থানীয়রা কোন সমাধান করতে না পারায় নিরুপায় হয়ে মেয়ের রিক্সা চালক পিতা ও মা আইনের আশ্রয় নেন এবং যুবককে আসামি করে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

এরপর ওই ছাত্রীকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেলে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। ওসিসির রিপোর্ট দেখে থানায় মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করা হয়। মামলা নং- ২৬। উক্ত মামলায় গত ১ জুলাই রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে র‌্যাব সিপিসি-৩ সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল এএসপি আব্দুল খালেক এর নেতৃতে অভিযান চালিয়ে ছাতক উপজেলার ছৈলা এলাকা থেকে ধর্ষক আবুল কাহারকে গ্রেফতার করা হয়।

পর দিন সোমবার গ্রেফতারকৃত কাহারকে বিশ্বনাথ থানায় হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু আদালতের কাছে একটি চার্জশিট দাখিল করছেন বিশ্বনাথ থানা এসআই রত্না বেগম। সেই চার্জশিটে ধর্ষণের কোন আলামত নেই। তাহলে প্রথমিক আলামত না দেখে আসামির বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এনমকি ধর্ষক দীর্ঘদিন কারাভোগ করছে কোন আলামতে?। এই চার্জশিট নিয়ে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন? জন্ম দিয়েছে নতুন নাটকীয়তা। আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে ঠিকই। তবে মামলার বাদীনি নারাজির জন্য সময় চেয়েছেন আদালতের কাছে।

ইতিমধ্যে ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা শুরু হয়েছে। আর এই ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ইনন্ধন দিচ্ছে স্থানীয় একটি মহল। সাথে জড়িত রয়েছেন কিছু সাংবাদিক। এই মহলটির ধারণা আদালত মামলাটির পূণ্য তদন্ত দিলে ফের চার্জশিট ধর্ষকের পক্ষে দেওয়া হবে। সেই ধারণা নিয়ে তারা ধর্ষকের পক্ষে কাজ করছেন।

এদিকে ছাত্রীর মায়ের দাবি, প্রতিনিয়ত তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে ধর্ষক কাহার ও তার প্রভাবশালী পরিবার। মেয়েটির মা বলেন, ‘ চৌধুরীগাঁও গ্রামের মৃত মরম আলীর পুত্র আবুল কাহার আমার মেয়ে স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বাতরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে আমার মেয়ে চিৎকার দিয়ে কান্না করে। মেয়ের চিৎকার শুনে দৌড়ে যাই, গিয়ে ধর্ষক কাহারকে আটক করি। সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। পরে থানায় কাহারের বিরুদ্ধে মামলা করি। মামলার পর থেকে আসামির পরিবার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এখন তাদের হুমকিতে মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি’।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..