সিলেট ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:১৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ভোটের দিন নানা শঙ্কার কথা নির্বাচনি কর্মকর্তা জানিয়েছেন সিলেট-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তার নির্বাচনি এলাকাগুলো থেকে খবর পাওয়ার পর পরই তিনি ছুটে যান অভিযোগ দিতে। একই সাথে কেন্দ্রে আসা মহিলা ভোটারদের মুখের নেকাব খুলে ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। আরিফের অভিযোগের বিষয়ে সিলেটে ইতোমধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে তিনি এ দাবি জানিয়েছেন। এ আসনে আরিফের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জয়নাল আবেদীন।
যুক্তি তুলে ধরে আরিফ বলেন, বোরকা পড়ে কেন্দ্রে আসুন। কিন্তু ভেতরে যেন নেকাব খুলে ভোট প্রদান করেন। এর কারণ হচ্ছে- অনেক ভোটারই জাল ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতে পারেন। ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ বোরকা কেনার খবর ভোটের মাঠে চাউর হওয়ায় বিষয়টি নির্বাচনি কর্মকর্তাদের জানিয়ে এসেছি।
তিনি অভিযোগ করেন- ইতোমধ্যে অনেকেই পুলিশের ভুয়া পোশাক তৈরি করছেন বলেও অভিযোগ এসেছে। সীমান্তবর্তী অনেক কেন্দ্রই রয়েছে যেগুলোতে যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। কেউ কেউ ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করতে পারে। এ কারনে এসব এলাকায় বেশি সংখ্যক আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, সিলেট-৪ আসনে এবার জমজমাট হয়ে উঠেছে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার ভোট যুদ্ধ। একদিকে ‘উন্নয়নের বরপুত্র’, অন্যদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আসন পুনরুদ্ধারে ঘাম ঝড়িয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে ঘুরছেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জয়নাল আবেদীন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসন পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া আরিফ।
এদিকে, ভোটের মাঠে বরাবরাই আরিফুল হক চৌধুরী ‘ম্যাজিকম্যান’ হিসেবে খ্যাত। একাধিকবারের সিটি কাউন্সিলর। দুবারের নির্বাচিত মেয়র। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তার নামের পাশে লেগে আছে নগরবাসীর দেওয়া ‘উন্নয়নের বরপুত্র’ খেতাব। তিনি যেখানেই যান, যেদিকে হাঁটেন, লাগে উন্নয়নের ছোঁয়া। এই সুনাম সিলেট মহানগরী ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে গ্রামগঞ্জেও! পৌঁছে গেছে তার নির্বাচনি এলাকা সিলেট-৪-এর গোয়াইনঘাট, কোম্পানিগঞ্জ ও জৈন্তাপুরেও। এরই মধ্যে সেখানে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ অবস্থায় তাকে টক্কর দিয়ে পেরে উঠবেন তো জৈন্তাপুরের জয়নাল আবেদীন? প্রশ্নটি এখন মুখে মুখে।
ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী একটি প্রভাবশালী নাম। ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের সিসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রার্থী সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে তিনি চমক সৃষ্টি করেন। এরপর ২০১৮ সালে আবারও কামরান, দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতের প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ফের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালে তৃতীয়বার মেয়র পদে লড়তে গিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে নির্বাচন বর্জন করেন তিনি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd