ছাতক পিডিবি অফিসে বকেয়া বিল ১৭ লাখ টাকা লুট : তদন্ত কমিটি

প্রকাশিত: 11:43 PM, September 6, 2021

ছাতক পিডিবি অফিসে বকেয়া বিল ১৭ লাখ টাকা লুট : তদন্ত কমিটি

নিজস্ব সংবাদদাতা :: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ছাতক অফিসের ৪ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ভ’য়া বিলের মাধ্যমে গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই চার প্রকৌশলী সিলে ভুয়া বিল ও মামলার ভয় দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং টাকা পিডিবি’র ব্যাংক একাউন্টে জমা না করে নিজেদের পকেটেস্থ করছেন। এ ছাড়া প্রাউভেট সেক্রেটারী নিয়োগ করে প্রিপেইড মিটারের নামবার দিয়ে লক ও আনলক করাচ্ছেন। সম্প্রতি রাতের অন্ধকারে এক গ্রাহকের প্রিপেইড মিটার চুরি করিয়ে নিয়ে ৫২ লাখ টাকার বকেয়া বিল বসিয়ে ১৭ লাখ টাকা আদায় ও আত্মসাত করেছেন। ভ’যা নাম-ঠিকানায় লাইম্যান নামে দালালদের নিয়োগ করারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ছাতক অফিসের দায়িত্বে থাকা ওই চার প্রকেওশলী হচ্ছেন নিবাহী প্রকৌশলী আব্দুল আল মামুুন সরদার,প্রকৌশলী মাহমুদুুল হাসান,উপ সহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেন ও ফজলে রাবি। এ বিষয়ে সোমবার পিডিবি সিলেট এর একটি তদন্ত কমিটি ঘটনার সরেজমিন পরিদর্শন করেছে।
অভিযোগে প্রকাশ- ছাতক বিদ্যুৎ অফিসের প্রকৌশলীরা তাদের এলাকায় লাইনম্যান ও প্রাউভেট সেক্রেটারী নামে ভুয়া নামঠিকানায় কয়েকজন দালাল নিয়োগ দিযেছেন। তারা হচ্ছে আব্দুল মমিন, মোস্তাফিজুর রহমান ও জাকির। তাদের দিয়ে মিটার রিডিং ও লাইনম্যানের কাজ করান তারা। জাকিরের হাতে দেওয এক ল্যাপটপে দিয়ে দিয়েছেন ২২ হাজার গ্রাহকের লক আনলক পিনকোড। জাকির যখন তখন লক আনলক করে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন লাখ টাকা এবং তা ভাগ বাটোয়ারা করা হয় চার প্রকৌশলীসহ অফিসের স্টাফদের মধ্যে।
সম্প্রতি দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের জহির মিয়ার অটো লাইস মিলের প্রিপেইড মিটার ও বিল নিয়ে ঘটে গেছে ছাতক বিদ্যুৎ অফিসে লঙ্কাকান্ড। গত জানুয়ারি মাসে গভীর রাতে হঠাৎ করে চুরি হয়ে যায় জহির মিয়ার অটো রাইস মিলের প্রিপেইড মিটার। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সংযোগ। পরে জহির মিয়াকে ছাতক াফিসে নিয়ে তার মিটারে দেখানো হয় ৫২ লাখ টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল। রেডি করা হয় বিল খেলাপির একটি ভুযা মামলা। পরে আলোচনার মাধ্যমে ১৭ রাখ টাকা বিল নির্ধারন করে ক্যাশ টাকা আদায় করা হয় এবং কোন কাগজপত্র বা বিল পত্র ছাড়াই অলিখিত সাদা কাগজে জহির মিয়ার স্বাক্ষর রেখে বিলখেলাপি মামলাটির নিষ্পত্তি দেখিয়ে মিটার আনলক করে তা পুনস্থাপন করে দেওয়া হয়। কিন্তু আদায় করা এ ১৭ লাখ টাকার এক টাকাও ছাতক পিডিবি’র একাউন্টে জমা করেন নিি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
পরে বিল ডাকাতির এই ১৭ লাখ টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ছাতক বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরতরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে মামারমারির উপক্রম হলে ঘটনাটি প্রকাশ পেয়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং বইতে থাকে আলোচনার ঝড়। এছাড়াও এ অফিসে এ অফিসে মুজিবুর রহমান,জাকিরসহ অধশতাধিক দালালদের মাধ্যমে বকেয়া ভুয়া বিল দিয়ে লাখ লাখ টাকা জরিমান করে তাদের পকেট ভারি করছেন াফিসের প্রকেওশলীরা।
অভিযোগে আরো প্রকাশ-২০১৯সালে বরাদ্ধকৃত মিটার ২০২১ সালে গ্রাহকদের নামে রেজিষ্টার করে দেয়া হচ্ছে। গ্রাহকরা টাকা না দিলে অফিসে মিটার নেই বলে জানানো হেয়। নগদ টাকা দিলে রাতারাতি মিটার মিলছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। এ অফিসে টাকা ছাড়া কোন সেবা মিলছে না। আগে টাকা পরে কাজ এ ভাবে চলছে ছাতক পিডিপির অফিস দুনীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠান জহির মিয়ার অটো রাইসমিরের লি কেলেংকারী ও বিল ডাকাতির মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে পিডিবি সিরেট বিভাগীয় অফিসের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে ৩ সমস্যেে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল সোমবার সরেজমিন ছাতকে গিয়ে ঘটনা পরিদর্শণ করে হয়রনীর শিকার গ্রাহকদের শুনানীও করেন।
পিডিবি ছাতকের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন সরদার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন.প্রিপ্রেইড মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ৫২ লাখ টাকার বিল কি ভাবে আসলো ? এসব প্রশ্ন প্রকৌশলী হাসান ও উপ সহকারি প্রকৌশলী আবুল হোসেনকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। আমি বলতে পারবো না বলে মোবাইল ফোন কেটে দেন।
প্রকৌশলী মামুদুর হাসান মোবাইল ফোনে ৫২ লাখ টাকার বকেয়া বিলের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর না দিয়েুই এ প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেন জহির মিয়ার অটো রাইস মিলের প্রিপ্রেইড মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন করার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও তার প্রিপ্রেইড মিটারে ৫২ লাখ টাকা বকেয়া বিল কি ভাবে আসলো এ প্রশ্ন্নের উত্তর না দিয়ে এ প্রতিবেদককে তার সঙ্গে দেখা করার কথা বলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

September 2021
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..