সিলেটে ফিল্মি স্টাইলে বিয়ের রাতে নববধূ ছিনতাই

প্রকাশিত: ৯:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯

সিলেটে ফিল্মি স্টাইলে বিয়ের রাতে নববধূ ছিনতাই

বিয়ের রাতেই ফিল্মি স্টাইলে বউ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে বর ও কনে দুই পরিবারে চলছে নানা নাটকীয়তা। জানা গেছে, নগরীর পশ্চিম চৌকিদেখীর বাসিন্দা মতিউর রহমান চৌধুরীর ছেলে হাবিবুর রহমান চৌধুরীর (২২) সাথে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার রাজনপুর গ্রামের আব্দুস সালামের মেয়ে হাজেরা বেগম তুলির (২০) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। হাজেরার বাবা আব্দুস সালাম সম্পর্কে হাবিবের মা ইসমত আরার চাচাতো ভাই। আত্মীয়তার সূত্রে ছোটবেলা থেকেই হাবিবের সঙ্গে মামাতো বোন তুলির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন ধরে নগরীর কুমারপাড়ায় পরিবারের সাথে বসবাস করে আসছেন তুলি। তুলির বাবা আব্দুস সালাম ব্যাবসায়িক কারণে ফেঞ্চুগঞ্জে থাকেন। দীর্ঘদিনের প্রেমকে পরিণয়ে রূপ দিতে নিজেদের পরিবারে বিষয়টি জানান হাবিব-তুলি। প্রথমদিকে দুই পরিবার রাজি থাকলেও পরে সৃষ্টি হয় দূরত্বের। তবে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও হাবিব ও তুলির প্রেম আরো গভীর থেকে গভীরতর হয়। এক পর্যায়ে পরিবারের অমতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার বেলা ১২টায় স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে নোটারী পাবলিক পুলিন বিহারী বিশ^াসের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা মোহরানা ধার্য্য করে বিয়ে করেন হাবিবুর রহমান চৌধুরী ও হাজেরা বেগম। কিন্তু বিষয়টি তারা পরিবারকে জানাননি। এদিকে মেয়ের পরিবার বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে যোগাযোগ করেন ছেলের পরিবারের সাথে। ছেলের পরিবার তখনো কিছুই জানেন না। বলেন বিষয়টি দেখে দেবেন। এসময় হাবিবুর রহমানের ফোন বন্ধ ছিল। পরে সে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। তখন তাকে বউ নিয়ে বাসায় আসতে বলা হয়। ছেলের পরিবার যোগাযোগ করে মেয়ের পরিবারের সাথে। ছেলের পরিবার তাদের আসতে বলেন ইলাশকান্দিতে এক আত্মীয়ের বাসায়। কথা ছিল সমঝোতার ভিত্তিতে বিয়েটি মেনে নিয়ে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলাপের। কিন্তু মেয়ের পরিবারের মনে ছিল অন্য কিছু। তারা সেরকমই প্রস্তুতি নিয়ে আসেন। মাইক্রোবাসে করে মেয়ের বাবা কয়েকজন লোক নিয়ে উপস্থিত হন। তবে কোনোরকম আলাপ করতে রাজী হননি তিনি। জোর করে হাবিবের স্ত্রী তুলিকে নিয়ে যেতে চান। তুলি যেতে না চাইলে তাকে মারধর করেন। হাবিব তার স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে জোরকরে মাইক্রোবাসে তুলে তুলিকে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় থানা পুলিশ করতে চাননি হাবিবের পরিবার। চেষ্টা চলে সমঝোতার। কিন্তু তুলির বাবার মনে অন্য পরিকল্পনা। সময়ক্ষেপন করেন তিনি। হাবিবের পরিবারের ধারণা জোর করে তুলিকে দিয়ে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেয়া চেষ্টা করেন তিনি। তুলির বাবা আব্দুস সালামের বক্তব্যেও এর মিল পাওয়া যায়।

তিনি জানান, বছর চারেক আগে দুজনের মধ্যে বিয়ের কথা হলেও পরে তা বেশিদূর এগোয়নি। তুলি আমার অমতে বিয়ে করেছে। তিনি আরো জানান, তুলিকে আধ ঘন্টা বোঝানোর পর সে উকিলের উপস্থিতিতে তালাকনামায় স্বাক্ষর করে। আব্দুস সালাম তালাকনামাটি ইতিমধ্যে হাবিবের পরিবারের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানালেও হাবিবের পরিবার এমন কিছুই এখনো পাননি বলে একাত্তরের কথাকে জানান।

এ ব্যাপারে বর হাবিবুর রহমান চৌধুরীর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমার বিবাহিত স্ত্রী তুলিকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছেন আমার শশুরবাড়ির লোকজন। এসময় আবেগে কেঁদে ফেলেন হাবিব। তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই।

সূত্র-একাত্তরের কথা

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

September 2019
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..