গতকাল শনিবার চার জেলার পুলিশ সুপাররা জানিয়েছেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশও রয়েছে সর্তক অবস্থানে। তাছাড়া শুধু অনুপ্রবেশ নয় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান বন্দে গোয়েন্দা পুলিশ সহ পোশাকধারী পুলিশও রয়েছেন কঠোর অবস্থানে।
সূত্র জানায়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে নাগরিকদের নামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। এ তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাতে তালিকায় বাদ পড়াদের কেউ বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে। তাছাড়া সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বসবাসকারীদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর সীমান্ত এলাকায় যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবি সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) পরিচালক লে. কর্নেল সাঈদ হোসেন।
তিনি জানান, তালিকা আসামের হলেও সিলেট সীমান্তে যাতে এর কোনও প্রভাব না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রেখে ব্যাটালিয়ন-১৯ এর আওতাধীন সীমান্তে থাকা বিজিবিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া আছে। সেই সঙ্গে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বসবাসকারীদের এসব বিষয়ে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।
সিলেটের ১৩টি উপজেলার মধ্যে সীমান্তবর্তী থানাগুলো হচ্ছে গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট। সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি এই থানাগুলোর সীমান্তে রয়েছে ভারতের চোরাই পথ। বিভিন্ন সময় চোরাকারবারিরা এসব পথ ব্যবহার করে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। সেই সঙ্গে অনেক ভারতীয় চোরাকারবারি এসব পথ ব্যবহার করে মানুষও পাচার করে থাকে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ভারতের আসামের বিষয়ে সিলেটের সীমান্তে তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না। সীমান্ত এলাকা কিংবা চোরাই পথে বিএসএফ (ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী) আসামে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়াদের সীমান্ত দিয়ে যাতে পুশ-ইন করতে না পারে সেজন্য সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৯ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল সাঈদ হোসেন গতকাল শনিবার বলেন, আসামের বিষয় মাথায় রেখেই বিজিবিকে সর্বোচ্চ সর্তক থাকার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি আসামের পরিস্থিতি যদি কোনও সময় অবনতি হয় তাহলে সেদিকেও আমাদের নজরদারি আছে।
সীমান্ত পথ কিংবা অন্য কোনও অবৈধ পথ দিয়ে যদি কোনও ভারতীয় নাগরিকদের পুশ-ইন করার চেষ্টা করা হয় তাহলে তা মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে বিজিবির। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশের নাগরিকদের বলা আছে তারা যাতে সর্তক থাকেন। ভারতীয় বিএসএফ এবং ভারতীয় নাগরিকদের কোনও তৎপরতা দেখার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজিবি ক্যাম্পকে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন গতকাল বলেন, জেলা পুলিশের সীমান্তবর্তী থানাগুলো এমনিতেই সবসময় সর্তক থাকে। সেই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় তৎপর থাকে বিজিবি। বিষয়টা পুলিশের মাথায় রয়েছে। কোনও কিছু হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে সেই ব্যবস্থা পুলিশের সবসময় রয়েছে। আসামের ব্যাপারে আলাদা কোনও নির্দেশনা নেই বলে তিনি জানান।
সুনামগঞ্জ’র পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান গতকাল জানান, সুনামগঞ্জের কিছু এলাকা রয়েছে সীমান্তবর্তী। তা ভারতের মেঘালয় রার্জ্যরে পাশাপাশি। ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে নাগরিকদের নামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়াদের তেমন প্রভাব পড়বে না এ জেলায়। তবুও বিজিবি’র পাশাপাশি পুলিশও সর্তক অবস্থানে রয়েছেন।
মোলভীবজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ (বিপিএম বার) গতকাল জানান, মৌলভীবাজার জেলার কিছু এলাকা আসাম রাজ্যের সাথে রয়েছে। তবে এ সকল এলাকায় আসামের বাদ পড়া নাগরিকদের কোন প্রভাব পড়বে না। তিনি আরো জানান, অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশও রয়েছে সর্তক অবস্থানে। তাছাড়া শুধু অনুপ্রবেশ নয় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান বন্দে গোয়েন্দা পুলিশ সহ পোশাকধারী পুলিশও রয়েছেন কঠোর অবস্থানে।




