স্বার্থ হাসিলে সিলেট আ.লীগে ‘সুবিধাভোগীরা’!

প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯

স্বার্থ হাসিলে সিলেট আ.লীগে ‘সুবিধাভোগীরা’!

আহমেদ শামীম :: সিলেটে দলে দলে আওয়ামী লীগের যোগ দিচ্ছেন সুবিধাভোগীরা। যারা কিছুদিন পূর্বে এ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলছিল- তারা আজ আ.লীগে দলে দলে যোগ দিচ্ছে।

গত কিছুদিন সিলেটে গরু জবাই করে আওয়ামী লীগের যোগদান করেছেন বিএনপির কিছু নেতাকর্মী। এতে আওয়ামী লীগের প্লাটফর্ম বড় হচ্ছে- ঠিকই। কিন্তু আসলেই কি তা? যারা সারা জীবন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনীতি করেছে তারা হঠাৎ করেই কি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করবে। না এর পেছনে কোন স্বার্থসিদ্ধি রয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে বিএনপির তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন শফি আহমদ চৌধুরী। তিনি গত ১৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ ব্যাপারে তিনি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, মোমেনের সঙ্গে দেখা করেছি বলেই যে আমি আওয়ামী লীগে যোগদান করেছি-এ রকম তথ্য সত্য নয়। বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা চিন্তা করতে পারি না।তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুল দেয়ার পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে এমন ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

এর পর হাকডাক বাজিয়ে বিএনপি নেতা আবুল কালাম চেয়ারম্যান আ.লীগে যোগ দেন। যে কালাম চেয়ারম্যান ২০১৭ সালে কদমতলীতে শ্রমিক লীগের কার্যালয় করতে দেননি। ওই কার্যালয় করতে যাওয়ায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শাহিনুর রহমান শাহিনের উপর কদমতলীতে হামলা করেছিলেন। ওই হামলার পর থেকে শাহিন আজও পুরো স্মৃতিশক্তি ফিরে পায়নি। এখনও বিছানায় কাতরাচ্ছেন। এখন সেই কালাম চেয়ারম্যান হাকডাক বাজিয়ে নৌকায় উঠছেন।

বিএনপি নেতা আবুল কালাম চেয়ারম্যান, বরইকান্দি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিব হোসেন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে আলোচনার জন্ম দেন। বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং সিলেট-৩ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরীকে নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়। সম্প্রতি তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি একে আবদুল মোমেনের বাসায় ফুল নিয়ে হাজির হন। তবে এটিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ উল্লেখ করে বিএনপি ছাড়ছেন না বলে দাবি করেছেন তারা।

দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, অনুপ্রবেশকারীদের লাগাম টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে তার খেসারত দিতে হতে পারে। তাদের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ক্ষমতাসীন দলের সুবিধা পাওয়ার আশায় জামায়াত-বিএনপি থেকে দলে দলে নেতারা ভিড় করছেন আওয়ামী লীগের পতাকাতলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটে বিএনপির আরও বেশ কয়েকজন উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যেই তারা দল বদল করছেন বলে জানা গেছে।

দল পাল্টানো নেতাদের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হলেও বিএনপি তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আর বিশিষ্টজনরা মনে করেন, নিজ স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যেই সরকারি দলে ভিড়ছেন জনপ্রতিনিধিরা।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আ.লীগের সদস্য ও সিলেট মহানগরের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, যারা বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগের ঢুকাচ্ছেন তাদের উচিত ছিল কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে দলে ঢুকানো। নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী- অন্য দল থেকে যাতে কেউ আ.লীগে না ঢুকে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আ.লীগ তো এতো ছোট দল নয়, যে অন্য দল থেকে আনে দল বড় করতে হবে।

অপরদিকে জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আ.লীগের যোগদানের বিষয়টি তিনি জানেননা। বাইরে থেকে কাউকে না ঢুকিয়ে দলের কর্মীদের মূল্যায়ন করলে দল আরও শক্ত হবে। তাই দলে কাউকে না ঢুকিয়ে কর্মীদের দিকে খেয়াল করার আহ্বান জানান তিনি।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক কামরুল আই রাসেল বলেন, আওয়ামী লীগ বৃহৎ সংগঠন। আওয়ামী লীগের সংগঠন গোছানোর সঙ্গে সঙ্গে অনুপ্রবেশের বিষয়টিতে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন চলে আদর্শের ভিত্তিতে। সুবিধাবাদী ও সন্ত্রাসীরা অনুপ্রবেশ করে আদর্শের বিপক্ষে কাজ করতে পারে। লন্ডন থেকে বিএনপিকে চালানো হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, লন্ডন-সিলেট কানেকশনের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীকে দিয়ে ভয়ানক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করা হতে পারে।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..