সুনামগঞ্জে ৩মাসে ৯টি ধর্ষনের ঘটনায় অভিববাকগন মহলে উৎদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা

প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০১৮

Sharing is caring!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উৎদ্বেগজনক মাত্রায় ধর্ষনের ঘটনা বেড়েই যাচ্ছে। ফলে অভিববাকগন তাদের ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্টানে পাঠিয়ে ও বাড়িতে থাকার পরও সারাক্ষান উৎবেগ আর উৎকণ্ঠার মাঝে রয়েছে। ধর্ষনের ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সচ্চার না হলে কঠিন আকার ধারন করবে বলে মনে করেন জেলাবাসী। বেশীর ভাগ ক্ষেতেই শিশুরাই পাশবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সেই সাথে বাদ পড়ছে না প্রতিবন্ধী শিশুও। জেলার তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,দিরাই,শাল্লা,বিশ্বম্ভরপুর,ছাতক,দোয়ারাবাজারসহ ১১টি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। এই ধর্ষনের ঘটনা দরিদ্র শ্রেনীর পরিবারেই বেশী ঘটছে। লোক লজ্জার ভয়ে অনেক পরিবার সবার সম্মুখে প্রকাশ করছে না। ফলে অনেক ঘটনাই প্রকাশ না পাওয়া আর ঐসব ঘটনার সৃষ্টিকারীদের কঠিন শাস্তি না হওয়ায় ধর্ষনের ঘটনা বাড়ছে। একাধিক সূত্রে জানাযায়,গত ৩মাসেই জেলার ধর্ষনের ঘটনা গঠেছে ৯টির বেশী। এর মধ্যে শিশু ধর্ষনের ঘটনাই বেশী। জেলায় গত ২১শে ফ্রেরুয়ারী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামে ধর্ষনের শিকার ৪র্থ শ্রেনীতে পড়–য়া এক শিশু,৯মার্চ জগন্নাথপুর উপজেলায় বড়কাপন গ্রামে গৃহবধু গনধর্ষনের শিকার হয়েছে। ৩১মার্চ তারিখ তাহিরপুরের নালেরবন্দ গ্রামে এতিম কিশোরী ধর্ষনের শিকার হয়েছে। ১৯র্মাচ তাহিরপুরের ব্রাক্ষ্মনগাঁও গ্রামে আরেক ৫বছরের শিশু ধর্ষনের শিকার হয়েছে। ১লা এপ্রিল তাহিরপুর উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামে এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়। ৩এপ্রিল বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবেড় গ্রামে রহিছ আলী কতৃক ৭বছরের শিশু ধর্ষনের শিকার হয়। ৭এপ্রিল তাহিরপুর উপজেলার লাকমা গ্রামের ১৮বছরের কিশোরীকে হযরত আলী কতৃক ধর্ষন করে অভিযোগ উঠে। একেই দিনে ছাতক উপজেলার একস্কুল ছাত্রীকে ধর্ষন করে ভৈষারকান্দি গ্রামের ফয়জুল ইসলাম। ৮এপ্রিল রাতে জামালগঞ্জ উপজেলার রায়পুর গ্রামের ৯বছরের মেয়েকে ধর্ষন করে। ১৮এপ্রিল জেলার ছাতক উপজেলার বড়কাপন গ্রামে মুঞ্জুর আলীর স্কুল ছাত্রী (১১) মেয়েকে দুই লম্পট জোরে করে ধর্ষন করে। ঐসব ধর্ষনকারীদের বিষয়ে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন থানায় ধর্ষনের মামলা দায়ের করছে। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খানের কঠোর হস্তক্ষেপে পুলিশ বাহিনী ধর্ষনকারীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে। অনেক ধর্ষনকারীরা এখনও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে। আর আইনি জঠিলতায় বিচার পাপ্ত্যি হচ্ছে দেড়িতে। আবার অনেক সময় ছেলের বাবা,মা ঐ মেয়ের সাথে বিয়ে দিচ্ছে সমাধানের জন্য। ফলে ধর্ষনের ঘটনা সমাজ ব্যবস্থায় একটি রোগে পরিনত হচ্ছে। এর সমাধান করা খুবেই জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে। আরো জানাযায়,এছাড়াও আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় কমপিউটার,মোবাইলে ইন্টারনেট,গুগুলে সহজে হাতের কাছে পাওয়ায় উঠতি বয়সী যুবকরা সার্চ করে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি(পর্নো) দেখার সুযোগ পাচ্ছে আর পাচ্ছে হাতের কাছে। জেলার ১১টি উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ছোট ছোট দোকান গুলোতে টাকার বিনিময়ে কমপিউটারের মাধ্যমে বিভিন্ন অডিও,ভিডিও গান,ছবি মেমোরীতে নেবার কথা বলে ঐসব অশ্লীল ফিল্ম নিয়ে পরিবারের সবার অগোচরে দেখছে। এতে করে উঠতি বয়সী যুবকদের মানুষিক বিকৃতি ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় একটি মেয়ে ও একটি ছেলে দু-জনার মাঝে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর দু-জনের মাঝে শারীরিক সর্ম্পক তৈরী হয় বিয়ের পূর্বেই। এর পর দেখা যায় দু-জনের মাঝে কোন কারনে মনামানিল্যতা সৃষ্টি হলে অভিযোগ উঠে ধর্ষনের। এই বিষয়টি খুবেই কম হলেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার অভিবাবকগন বলেন,গত ৩মাসের ভিতরেই ধর্ষনের ঘটনায় আমরা আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তা ও ছেলেদের নিয়ে ভবিষত্ব নিয়ে খুবেই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। মানব সভ্যতার এক কলংক নিয়ে সমাজ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষ শিক্ষিত হয়েছে,রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটছে,ব্যাক্তির সামাজিক আর্থিক অবস্থান পরির্বতন হচ্ছে। কিন্তু এই ধর্ষন ঘটনার পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রতিরোধে এবং উঠতি বয়সী যুব সমাজকে জোরোলো ভাবে সচেতনতার উদ্দ্যোশে উদ্দ্যোগ না নেওয়ায় চরম বিকৃতি রুচির মন মানুষিকতা সৃষ্টি হওয়ায় দিন দিন নিয়ন্ত্রনহীন হচ্ছে। মাসুক মিয়া,সেলিম হায়দার,সাদেক আলীসহ জেলার সচেতন মহল বলেন,সুনামগঞ্জ জেলা সুযোগ্য পুলিশ সুপার বরখত উল্লাহ খান যোগদান করার পর থেকেই উনার নেতৃত্বে এলাকায় সুন্দর ভাবে শান্তি শৃংখল পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি ইফটিজিং প্রতিরোধে জোড়ালো ভুমিকা নেওয়ায় অনেকটা কমেছে। তিনি এই (ধর্ষন) বিষয়টি নিয়েও যদি গুরুত্ব সহকারে এলাকায় সবাইকে নিয়ে সচেতনতা,আইন শৃংখলার কঠোর নীতি প্রতিফলনের মধ্যে জোরালো ভাবে প্রদক্ষেপ নেন তাহলে এই অপরাধটি নিয়ন্ত্রন করা যাবে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান,সবাইকেই সবার ছেলে-মেয়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচ্চার (ধর্ষন প্রতিরোধে) হলে এই সমস্যাটি দূর করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি উঠতি বয়সী মেয়ে ও ছেলেদের অবিভাবকগন তাদের সন্তানদের প্রতি দৃষ্টি দিলে ও তাদের সাথে বন্ধু সুলভ সম্পর্ক গড়ে তুললে এবং তারা কোথায় যাচ্ছে কি করছে জানার চেষ্টা করলে এর প্রতিবার করা কিছুটা হলেও সম্ভব হবে। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান বলেন,এই জেলায় কোন অন্যায়কারীকেই ছাড় দেওয়া হবে না সে যত বড় শক্তিশালী হউক। ধর্ষনের ঘটনার পর শুনা মাত্রই জোড়ালো ভাবে আমরা অভিযান চালিয়ে ধর্ষনকারীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছি। এখনো যারা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে আছে তাদের খুব দ্রুতই আইনেই আওতায় আনা হবে। কোন ছাঁড় কেউ পাবে না। সকল অন্যায় প্রতিরোধে আমরা পুলিশ বাহিনী সব সময় সর্তক আছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares