মৌলভীবাজার আলী আমজাদ প্রাঃ বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষকের তদন্ত শুরু

প্রকাশিত: 10:38 PM, April 3, 2018

মৌলভীবাজার আলী আমজাদ প্রাঃ বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষকের তদন্ত শুরু

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজার আলী আমজাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষক আয়শা শাহনাজ (রিনি)এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোরে তদন্ত শুরু হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ বায়েজীদ খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। ওই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদার এর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামী ৪ এপ্রিল আলী আমজাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিষয়ে তদন্ত অনুষ্টিত হবে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর প্রদত্ত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে- আয়শা শাহনাজ (রিনি) বিগত মার্চ ’১৫ইং সালে আলী আমজাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করার পর থেকেই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে চলছেন।
ব্যবস্থাপনা কমিটিকে তোয়াক্ষা না করে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে নিজের একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষক অভিভাবক সমিতির কোন সভা করছেননা। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে পৌরসভার মাধ্যমে সরকার প্রদত্ত ৫লাখ টাকা তিনি একক সিদ্ধান্তে উত্তোলন করেন। কিন্তু, ওই টাকা ব্যয়ের হিসাব দেননি। সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে ২০১৮ইং সালে শিশু শ্রেণীতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তিতে মাথাপিছু ৫০ টাকা হারে আদায় করেন।
বিদ্যালয়ের ২ জন ঝি ও নাইট গার্ডের বেতন বাবদ প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা ও ৫শ টাকা হারে আদায় করেন। কিন্তু, তাদেরকে বেতন-ভাতা না দিয়ে মারধোরক্রমে তাড়িয়ে দেন। ঝি ও নাইট গার্ডের বেতন-ভাতার টাকারও কোন হিসাব দেননি। ব্যবস্থাপনা কমিটির স্বাক্ষর ছাড়াই সকল শিক্ষকের বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন।
যোগদানের পর অদ্যাবধি ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেননি। বিদ্যালয়ের খেলাধুলা, মিলাদ মাহফিল ও পূজাসহ কোন অনুষ্ঠানাদি পালন করেননা।
২০১৭ইং সালের পিএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দের আবেদন নিবেদন সত্তেও তাদেরকে বিশেষ পাঠদানের কোন সন্তোষজনক পদক্ষেপ না নেয়ায় পিএসসি’র ফলাফল আশানুরুপ হয়নি। বিদ্যালয়ের শৌচাগারগুলো অনেকাংশে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা নানা রোগাক্রান্ত হচ্ছে। শ্রেণীকক্ষগুলো ধূলাবালি ও আবর্জনায় পরিপূর্ণ থাকে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শিক্ষক-অভিভাবক সমিতি গঠনের প্রস্তাব করা হলে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দোহাই দিয়ে তাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিদ্যালয়ের মেঝেতে টাইলস এবং ১টি কম্পিউটার স্থাপনে প্রায় ৩৫/৪০ লাখ টাকা ব্যয় করেন। কিন্তু, টাইলসের কাজ পুরোপুরি শেষ আগেই কম্পিউটারটি কে বা কারা নিয়ে যায়। উক্ত ৩৫/৪০ লাখ টাকার উৎস সম্পর্কেও ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবগত করেননি।
এক কথায়, বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ সার্বিক ক্ষেত্রে অবনতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আলী আমজাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়শা শাহনাজ (রিনি) বক্তব্য জানতে এ প্রতিবেদক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয় থেকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি সরকারি কাজে একটু ব্যস্ত আছি। আপনী আমার বাসায় আসবেন। উল্লেখ্য- আলী আমজাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আয়শা শাহনাজ (রিনি) ইতিপূর্বে পৌরসভা এলাকায় ও পৌরসভার বাহিরে কর্মরত থাকাকালে এরুপ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ তাকে বদলী করতে বাধ্য হন। তাই, এসব অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রধান শিক্ষক আয়শা শাহনাজ (রিনি)’র বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন ওই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুহিবুর রহমান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..