আবাসিক হোটেলে যে কারণে প্রেমিকাকে হত্যা করে প্রেমিক

প্রকাশিত: ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০১৮

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : দীর্ঘদিনের প্রেমিকা রুনি পালের বিয়ের কথাবার্তা পাকাপোক্ত হয়ে গেছে এমন খবর পেয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েন প্রেমিক মিন্টু দেব। এ অবস্থায় রুনিকে ডেকে আনা হয় সিলেটে। তোলা হয় মেহেরপুর হোটেলে। হোটেলকক্ষে রুনিকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন মিন্টু। নগরের সোবহানীঘাটের হোটেল মেহেরপুর থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রেমিকাকে হত্যার আগের দিন জগন্নাথপুরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাপন দেবকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে মিন্টু। বাপন ওসমানী হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে। পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
মুসলিম পরিচয়ে হোটেলে ॥ কোতোয়ালী থানাপুলিশ সূত্র জানায়, রোববার দুপুর ১২ টার দিকে নগরীর সোবহানীঘাটস্থ হোটেল মেহেরপুরে প্রেমিকাসহ উঠেন মিন্টু। এ সময় হোটেল কর্তৃপক্ষের নিকট নিজেদেরকে মুসলিম দম্পতি পরিচয় দেয়া হয়। হোটেলে নিজের নাম মিন্টু মিয়া ও স্ত্রীর নাম রুমি বেগম বলে পরিচয় দেয়া হয়। তাদের ঠিকানা দেয় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। এর পর হোটেলের ২য় তলার ২০৬ নং কক্ষে উঠে তারা দুজন।
রোমহর্ষক হত্যাকা- ॥ হোটেলে অবস্থানের পর মিন্টু প্রথমে রুনি পালকে হত্যা করেন। প্রেমিকাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর লাশ বিছানায় ফেলে রাখে সে। এর পর কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মিন্টু। কোতোয়ালী থানার এস আই খোকন দাস বলেন, লাশ দেখে মনে হয়েছে বালিশ চাপা দিয়েই মেয়েটিকে হত্যার পর মিন্টু আত্মহত্যা করে।  দুজনের শরীরে এর বাইরে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ঘটনা ঘটল যে কারণে ॥ পুলিশ, জগন্নাথপুর ও জৈন্তাপুরের একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিন্টুর আপন মাসির (খালা) ভাসুরের মেয়ে রুনি পালের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। আত্মীয়তার সুবাদে দু’জনের প্রেমের বিষয়টি উভয় পরিবারে জানাজানি হয়ে যায়। রুনিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হলে মিন্টুর প্রস্তাবে রাজি হয়নি মেয়েটির পরিবার। এরই মধ্যে রুনিকে বিয়ে দিতে বর খোঁজা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রুনির বিয়ের কথাবার্তা পাকাপোক্ত হয়ে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মিন্টু। বিমর্ষ মিন্টু প্রেমিকা রুনিকে জৈন্তাপুর থেকে সিলেটে ডেকে নিয়ে আসে। এর পর হোটেলে নিয়ে যাওয়ার পরই রুনিকে হত্যা করে সে।
হাসপাতালের বেডে বাপন ॥ প্রেমিকাকে হত্যা করে নিজের আত্মহত্যার আগেন দিন শনিবার দিবাগত গভীর রাতে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাপন দেবকে ডেকে এলোপাতাড়ি কোপায় মিন্টু। গুরুতর আহত মিন্টুকে প্রথমে জগন্নাথপুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি ওসমানী হাসপাতালের ৩য় তলায় ১১ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথায় ৪৭টি সেলাই দেয়া হয়েছে বলে বাপনের মা নেপালী দেব জানিয়েছেন। তিনি জানান, তার পুত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সে মৃত্যুর সাথে লড়ছে। মিন্টু ডেকে নিয়ে বাপনকে কুপিয়েছে। আহত বাপন জগন্নাথপুর পৌরশহরের জগন্নাথবাড়ির বাটুল দেবের পুত্র। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বাপনকে কোপানোর পরদিন সকালে সিলেট আসে মিন্টু। এরপর দুপুরে প্রেমিকাকে নিয়ে হোটেলে ওঠে। একটি সূত্র দাবি করেছে, মিন্টু ও বাপনের এক ব্যবসায়ী বন্ধু রুনিকে নিয়ে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি করে দেয়। এর জেরে বাপনের উপর হামলা চালানো হয়।
মিন্টুর পরিচয় ॥ পুলিশ জানায়, জগন্নাথপুর পৌর শহরের জগন্নাথবাড়ির মতিলাল দেবের পুত্র মিন্টু দেব (২৬)। দরিদ্র পিতার সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী মিন্টু একটি বেসরকারি খাদ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির এস. আর হিসেবে কর্মরত ছিল।
রুনি ছিলেন শিক্ষিকা ॥ জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট গ্রামের মিলন পালের কন্যা রুনি পাল (২৫) একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
লাশ হস্তান্তর ও মামলা ॥ কোতোয়ালী থানার এস. আই খোকন দাস জানান, গত সোমবার বিকেল ৪টায় ওসমানী মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে মিন্টু ও রুনির লাশ তাদের স্বজনদের নিকট পুলিশ হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় হোটেল মেহেরপুরের ম্যানেজার বাদি হয়ে রোববার রাতে কোতোয়ালী থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। অপমৃত্যু মামলা নং-৩।
ওসি যা বললেন ॥ কোতোয়ালী থানার ওসি গৌছুল হোসেন বলেন, এদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটির বিয়ে হয়ে যাচ্ছে শুনে ডেকে এনে হত্যা করার পর সে নিজে আত্মহত্যা করে। তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares