সিলেট ওসমানী হাসপাতালের পরিচালকের একান্ত প্রচেষ্ঠায় বাড়ছে স্বাস্থ্য সেবার মান

প্রকাশিত: 6:43 PM, January 4, 2018

আবুল হোসেন :: বাংলাদেশ। এই নামের মাঝে রয়েছে হাজারো ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধের বর্ণিল প্রতিচ্ছবি। এক খন্ড লাল সবুজ পতাকা। স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলার মাটি ও মানুষের জন্য ছিল বঙ্গবন্ধুর বুক ভরা স্বপ্ন। তাইতো তিনি স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন পিছিয়ে নেই। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ বহু দূর এগিয়ে গেছে। মানুষের মৌলিক অধিকার পুরন করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ চলছে। আর এদেশ উন্নত দেশ হিসাবে বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়াবে। শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় প্রতিটি অঙ্গনে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে, যা আজ বিশ্ব স্বীকৃত। তেমনি উন্নয়নের একটি বিরাট অংশ দেশের স্বাস্থ্যখ্যাত। বর্তমান এদেশের স্বাস্থ্যসেবার সাফল্য অনেক দেশের জন্য উদাহরণ। সরকার জনগণের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এজন্য প্রয়োজন দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন। সে দিক থেকে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণে কাজ করে যাচ্ছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কতৃপক্ষ। বর্তমানে পাল্টে গেছে হাসপাতালের সেবার মান ও দৃশ্যপট। আগের মত যত্রতত্র পার্কিং, যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা দেখতে পাওয়া যায় না। পুলিশের পাশাপাশি হাসপাতালের শৃৎখলা বজায় রাখতে সবর্দা আনসার বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের সর্বত্রই এখন লেগেছে উন্নয়নের ছোয়া। এ উন্নয়ন থেকে বাদ পড়েনি অভ্যন্তরিণ বা বাহ্যিক কোনো দিক। হাসপাতালের ভেতরের অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড সমস্যার সমাধান, দালাল নির্মূলে বিশেষ ভূমিকা রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সুত্র জানায়, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একে মাহবুবুল হক যোগদানের পর আগের তুলনায় উন্নয়ন কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। মান বেড়েছে চিকিৎসা সেবার। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিতরা পাচ্ছেন বাড়তি সেবা। মূল্যায়িত হচ্ছেন স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধি, গরিব অসহায়সহ সর্বস্তরের সেবাগ্রহীতা। ইনডোরে ভর্তি রোগীদের গুরুত্ব সহকারে দেখভাল করছেন ডাক্তার, নার্সরা। চিকিৎসাধীন রোগীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, সরকারি ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে যথাযথভাবে। সর্বোপরি হাসপাতালের স্বার্থে দায়িত্ব কর্তব্য থেকে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই বলে জানান স্বয়ং চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং স্টাফরা। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে সকল পরিবর্তন দেখা যায়, তার মধ্যে রয়েছে- নতুন একটি ওয়ার্ড (২৬ নম্বর পুরুষ মেডিকেল) চালু হয়েছে এবং আরো ২টি ওয়ার্ড (পুরুষ মেডিসিন ও মহিলা সার্জারি) চালু করার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ চলছে, কারাবন্দীদের জন্য পৃথক প্রিজন সেল উদ্বোধন করে কার্যক্রম চালু হয়েছে, ২টি পানির পাম্প স্থাপন করে কার্যক্রম চলছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনকৃত আইসিইউ ভবনের কার্যক্রম চালু হয়েছে, হাসপাতালের অভ্যন্তরে অবৈধ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড সরানো হয়েছে, স্ক্যানু ইউনিট চালু করার জন্য বিষটি প্রক্রিয়াধীন আছে, হাসপাতালের জন্য কোবাল্ট ৬০, এমআরআই, সিটিস্ক্যান ও লিনিয়র এক্সিলেটর মেশিন প্রাপ্তির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক ক্রয় কার্যক্রম চলছে, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন রক্ষনাবেক্ষন কাজ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম ই-টেন্ডারিং চলছে। এছাড়াও হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বার্ণ ইউনিট চালু এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য শিশু ওয়ার্ডে (২৩ নম্বর ওয়ার্ড) প্লে কর্ণারের কার্যক্রম চালু হয়েছে। হাসপাতালে পরিচালক হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একে মাহবুবুল হক জানান, বর্তমান সরকারের শতভাগ সেবা দিতে হাসপাতালের দায়িত্ব বার গ্রহণ করি। রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। আমি হাসপাতালে যোগদানের পর প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে। যা দীর্ঘ ৪১ বছর পর এই কাজটি হলো। হাসপাতালের সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চিকিৎসা সেবার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..