সিলেট ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:১২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা যুবকের ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়া প্রেম, আর্থিক প্রতারণা ও পারিবারিক বিবাদের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই জন মূল আসামি ও এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে জালালাবাদ থানাধীন উমাইরগাঁও এলাকার বাদেশ্বর নদীর উত্তর পাড়ে ঝোপঝাড় থেকে এক যুবকের বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাশের ছবি ছড়িয়ে পড়লে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত শোয়েবুর রহমান ওরফে শিহাব (৩০) এয়ারপোর্ট থানার মংলিপাড়ার আমীর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা (নং- ১২/১২) দায়ের করেন।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জানুয়ারি শাহপরাণ থানার সোনারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। আব্দুল মতিন (৪৫) জালালাবাদ থানার বড়পৌদ গ্রামের বাসিন্দা। খালেদা বেগম (৩২), কোম্পানীগঞ্জ থানার দলইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা (বর্তমানে সোনারপাড়া নিবাসী)। আইনের সহিত সংঘাতিত এক কিশোর (১৬)।
পুলিশি তদন্ত ও আসামিদের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, ভিকটিম শিহাব ২০২৩ সাল থেকে আসামি খালেদা বেগমের সন্তানদের আরবি গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। খালেদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে শিহাবের সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে শিহাব ভিকটিমকে পর্তুগাল ও লন্ডনে নেওয়ার প্রলোভন দেখান।
শিহাব যৌথভাবে জমি কেনার কথা বলে ও বিদেশ নেওয়ার নামে খালেদার কাছ থেকে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক টাকা ও ৭ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেন।
টাকা ও সোনা খোয়ানোর পর বিদেশে নিতে ব্যর্থ হয়ে শিহাব উল্টো খালেদা ও তার পরিবারের ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এক পর্যায়ে খালেদার মেয়ের সাথেও শিহাব অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে আসামিরা দাবি করেন।
পারিবারিক সম্মান ও অর্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে আসামিরা শিহাবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাকে বাদেশ্বর নদীর পাশে কুড়াইল হাওড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মরদেহ বিবস্ত্র করে এবং বস্তা দিয়ে মুখ ও শরীরের অর্ধাংশ ঢেকে ঝোপের মধ্যে ফেলে পালিয়ে যায় ঘাতকরা।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পুলিশ জানায়, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd