আইন ভেঙে সিলেট-৫ আসনে প্রচারণায় ওসমানী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

আইন ভেঙে সিলেট-৫ আসনে প্রচারণায় ওসমানী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সরকারি চাকরিবিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অমান্য করে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইমরান আহমেদ তাপাদার শুধু প্রচারণায় অংশই নেননি, বরং মিছিল ও লিফলেট বিতরণের ছবি ও ভিডিও নিজের ফেসবুক ওয়ালে আপলোড করে দম্ভভরে প্রচারও চালিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে। জানা গেছে, ইমরান আহমেদ তাপাদার ওসমানী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়েও তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জমিয়ত জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকের পক্ষে সরাসরি মাঠে নেমেছেন।

তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৪৪ মিনিটে তিনি বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও আপলোড করেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেন, “বিএনপি-জমিয়ত জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সাহেবের সমর্থনে খেজুর গাছের গণসংযোগ চলছে জকিগঞ্জ উপজেলার ৩নং কাজলশাহ ইউনিয়নের ১-২নং ওয়ার্ডের রায়গ্রাম কাজির পাতনে।”

আপলোড করা ছবিতে তাকে গলায় প্রার্থীর ব্যাজ ঝুলিয়ে ভোটারদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করতে দেখা যায়। একই দিনে আপলোড করা একটি ভিডিওতে তাকে মিছিলে অংশ নিয়ে খেজুর গাছ প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দিতেও দেখা গেছে। একজন সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও)-এর ৮৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, ‘যদি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করিবার উদ্দেশে তাঁর সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক পাঁচ বৎসর এবং অন্যূন এক বৎসরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’ এছাড়া সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ীও কোনো সরকারি কর্মচারী প্রত্যক্ষ রাজনীতি বা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইমরান আহমেদ তাপাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এটি সুস্পষ্ট অপরাধ। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

January 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..