সিলেট ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাট সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও এখনো দাপট কমেনি প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সুলতান মাহমুদের। সদর ইউনিয়নের লাবু গ্রামের বাসিন্দা এই সুলতানের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি, চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ এবং সাবেক সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে ভারতে পালাতে সহায়তার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা যখন আত্মগোপনে, তখন ১৪ই আগস্ট রাতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে গোয়াইনঘাট সদর থেকে রিসিভ করেন সুলতান। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সুলতান তাকে নৌকাযোগে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যান এবং মধ্যজাফলং ইউনিয়নের লামাপুঞ্জি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পার করে দেন। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে যে, মেয়রকে পালাতে সহায়তা করে সুলতান রাতারাতি বিপুল অর্থের মালিক বনে গেছেন।
বিগত আওয়ামী শাসনামলে সুলতান মাহমুদ গোয়াইনঘাটে ত্রাস হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুস সালামসহ অসংখ্য বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে মামলা-হামলা দিয়ে হয়রানি করার কারিগর ছিলেন তিনি। এমনকি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জাফলং এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর কৌশল বদলে ফেলেছেন সুলতান। বর্তমানে তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু বিএনপি নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। তাদের নাম ভাঙিয়ে মধ্যজাফলং ও হাজিপুর সীমান্ত এলাকায় নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন চোরাচালান ব্যবসা। নিজেকে রক্ষা করতে মাঝেমধ্যে শিবিরের নেতাকর্মীদের সাথেও তাকে সখ্যতা প্রদর্শন করতে দেখা যায় বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্যাতিত তৃণমূল বিএনপি নেতারা জানান, তারা সুলতানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলেও স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু নেতার বাধার মুখে পড়ছেন। নির্যাতিত এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে সুলতান আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, আজ সে-ই বিএনপির কিছু নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বহাল তবিয়তে আছে। আমরা অবিলম্বে তার গ্রেফতার ও বিচার চাই।”
বর্তমানে সুলতান মাহমুদ প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় এবং তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখায় গোয়াইনঘাটের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd