ছাতকে মাঘের কনকনে শীতে বেড়েছে দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২৪

ছাতকে মাঘের কনকনে শীতে বেড়েছে দুর্ভোগ

হাসান আহমদ, ছাতক :: ছাতকে মাঘ মাসের প্রথমেই এসে ক্রমশই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। প্রত্যহ সন্ধ্যা নামার পর থেকে সকাল এবং সারাদিন পর্যন্ত চারদিক ঘন কুয়াশার আবরণে ঢাকা পড়ছে। এতে রাতের বেলা ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচলসহ সাধারণ কর্মজীবি মানুষকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। বিশেষকরে শীতের এই সময়ে বৃদ্ধ, শিশু, ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষের সময়টা মোটেই ভাল যাচ্ছে না।

সরজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আসন্ন মাঘের শীতে এখানকার হতদরিদ্র আম-জনতা অনেকটা কাবু হয়ে পড়েছেন। হিমেল হাওয়ার সাথে বয়ে আসা প্রচন্ড শৈতপ্রবাহের কারনে বেশিরভাগ লোক দিনের বেলাও গরম কাপড় পড়ে চলাফেরা করছেন। শীতের তীব্র প্রকোপে কাবু হয়ে তাদের দিন কাটছে অসহায়ত্ব অনুভবের দীর্ঘ নিঃশ্বাসে। বিশেষকরে শীতের সময়টাতে বৃদ্ধ ও শিশুদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো এলাকায় হতদরিদ্র আম-জনতাকে দিনের বেলা শীত নিবারণে খড়-কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে আগুনের উত্তাপে কিছু সময় শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে।

একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান, পৌষের মাঝামাঝি সময় থেকে এখানে অন্য বছরের চেয়ে একটু বেশি পরিমাণ শীত নেমেছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় যে পরিমাণ শীত অনুভুত হচ্ছে তাতে সাধারণ কর্মজীবি মানুষ থেকে শুরু করে কারো সময়ই ভালো যাচ্ছে না। এমনকি শীতের তীব্র আবহাওয়ায় নবজাতক শিশুদের দেখা দিচ্ছে শীতজনিত নানা রোগ। প্রত্যহ শীতজনিত রোগ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এজমা, এলার্জীসহ নানা রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা চিকিৎসকের শরনাপন্ন হচ্ছেন।

গোবিন্দগঞ্জ বাজারে এক ফুটপাতের চা বিক্রেতা জানান, কথায় আছে ‘মাঘের শীত বাঘের গায়ে’ ক’দিন ধরে যে পরিমাণ শীত অনুভুত হচ্ছে তাকে মাঘের শীত বলা যায়। ভোরবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন আর মধ্যরাতে ফিরে যান বলে গরম কাপড় গায়ে পড়ে এসেছেন। এখনই যে পরিমাণ শীত অনুভুত হচ্ছে কিছুদিন পর এসব কাপড়ে শীত মোকাবেলা করা যাবে কিনা ভয় পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

এদিকে জেলায় ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও স্বল্প-আয়ের মানুষ। কাজে যেতে না পারায় ভুগছেন তারা। দিনেও সড়কে হেডলাইট জ্বেলে চলছে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহণ।
ভুক্তভোগীদের দাবী, কককনে এ শীতে সমাজের ছিন্নমূল-হতদরিদ্র মানুষের সাহায্যার্থে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কনকনে এ শীতে সরকারের জনপ্রতিনিধিসহ সকল বৃত্তবানদের ব্যাপকভাবে সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

January 2024
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..