প্রশস্থ হচ্ছে নগরীর সড়ক দখলে নিচ্ছে স্ট্যান্ডবাজরা

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২৩

প্রশস্থ হচ্ছে নগরীর সড়ক দখলে নিচ্ছে স্ট্যান্ডবাজরা

খলিলুর রহমান :: সড়ক প্রশস্থ হচ্ছে সিলেট নগরীর সভাংচুর কতরা হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিপনী বিতান, স্কুল কলেজ মসজিদ মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন মার্কেট ও বাড়িঘর। সড়কের দখলে নেওয়া হচ্ছে সরকারী এবং বেসরকারি মালিকানাধীন অনেক ভূমি। সড়ক প্রশস্থ করণে ব্যয় করা হচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা। নগরের যানজট ও জনজট দুর করে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর নামেই এসব করা হচ্ছে। কিন্তু যানজট যেই সেই। নাগরিক সুবিধার বদলে বেড়ে চলেছে দুর্ভোগ। স্থানে স্থানে নতুন করে গড়ে ওঠছে অবৈধ স্ট্যান্ড। যানজটের পাশপাশি শ্রমিক ও বখাটেদের সমাগম ঘটছে স্থানে স্থানে ও পয়েন্টে পয়েন্টে। বাড়ছে স্ট্যান্ডবাজ ও চাদাবাজদের দৌরাত্ম। ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রশাসনের বখরাবাজি। বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা স্ট্যান্ডের পরিবহণ শ্রমিক নামধারী বখাটেদের হাতে হেনস্থা হতে হচ্ছে স্কুল কলেজগামী ছাত্রী ও পথচারী নারী। এক কথায় একদিকে নগরেরে সড়ক প্রশস্থ হচ্ছে, আর অন্যদিকে দখলে নিয়ে যাচ্ছে স্ট্যান্ডবাজ চাদাবাজ বখাটেরা।
নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, সুরমা পয়েন্ট, চৌহাট্টা-আম্বরখানা, চৌহাট্টা-রিকাবীবাজার সড়ক, আম্বরখানা-বিমানবন্দর সড়ক, আম্বরখানা-মদিনা মার্কেট, মদিনা মর্কেট- আখালিয়া মাউন্ট এডারা, তেমুখী, তালতলা- জিতুমিয়া পয়েন্ট, ধোপাদিঘীরপার-নয়াসড়ক, শিবগঞ্জ- টিলাগড় , আম্বরখানা-টিলাগড়, রিকাবীবাজার মেডিকেল রোড, সার্কিট হাউস, কদমতলী, বাবনা, পুরাণ পুলের মুখ-সহএমন কোনো সড়ক নেই যা দখল করে নেয়নি স্ট্যন্ডবাজ চাঁদাবাজ বখাটেরা। এসব স্ট্যন্ডে পার্কিং করে রাখা হয় অবৈধ অটো রিকশা, বেআইনী পরিবহণকারি লাইটেস ও মাইক্রোবাস, লেগুনা, টেম্পু ও ত্রি-হুইলার। নগরীর একেকটা পয়েন্টে গড়ে ওঠেছে ৪ থেকে ৫টি স্ট্যান্ড। নগরীর কোর্ট পয়েন্ট,সিটি পয়েন্ট, সুরমা পয়েন্টসহ প্রত্যেকটি পয়েন্টে দৃশ্যত একটি স্ট্যান্ড দেখা গেলেও প্রত্যেকটি পয়েন্টে রয়েছে ৪ থেকে ৫টি স্ট্যন্ড, রয়েছেন স্ট্যন্ড নোমে পৃথক চাদাবাজ। সরেজমিনে তেমুখী পয়েন্টে রয়েছে ৬ টিরও বেশি অটোরি´া স্ট্যান্ড। এছাড়াও প্রত্যেক পাড়া-মহল্লার প্রবেশমূখে রয়েছে ইজিবাইক স্ট্যান্ড।
চৌহাট্টা থেকে রিকাবীবাজার সড়কের দুই পাশে ও চৌহাট্টা থেকে আম্বরখানা সড়কের একপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা দখল করে মাইক্রোস্ট্যান্ড বসিয়েছেন চালকরা। ফলে প্রতিদিন এ দুটি সড়কে যাতায়াতকারীরা যানজটের শিকার হচ্ছেন। সুবিদবাজার এলাকায় রয়েছে প্রায় অর্ধকিলোমিটার জুড়ে আকেটি মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড।
সরেজমিন দেখা গেছে, চৌহাট্টা থেকে রিকাবীবাজার ও আম্বরখানামুখী দুটি সড়কে প্রায় ৫শ’ অবৈধ পরিবহনকারী মাইক্রো ও অন্যান্য গাড়ি সারিবদ্ধভাবে রয়েছে। আম্বরখানামুখী সড়ক থেকে বেশিরভাগ গাড়ি ভাড়ায় জেলা শহর সুনামগঞ্জ ছাড়াও ছাতক ও দিরাই উপজেলায় যায়। চৌহাট্টা-রিকাবীবাজার সড়ক থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় যায় এসব গাড়ি। একাধিক মাইক্রোবাসের চালক জানান, নগরে মাইক্রো রাখার জন্য নির্ধারিত কোনো স্ট্যান্ড নেই। তাই তারা এই দুটি সড়ককে স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন। এখানে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচশ’ গাড়ি থাকে। এসব গাড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় চলাচল করে। সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় অবৈধ গাড়ি পার্কিং সরাতে গিয়ে বছর দেড়েক আগে পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়েন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে অরাজকতার সৃষ্টি করেন। ওইদিন তারা সিটি মেয়রের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। চৌহাট্টা পয়েন্টে দুই দফায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। সকালে প্রথম দফায় ও দুপুরে দ্বিতীয় দফা তারা সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা অবরোধ তুলে নেন। শ্রমিকদের অভিযোগ- চৌহাট্টায় সিভিল সার্জনের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ি ভাংচুর করেছেন মেয়র ও শ্রমিকদের মারধর করেছেন। অপরদিকে সিটি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ- অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে গেলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের ওপর হামলা চালান পরিবহন শ্রমিকরা। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার পর সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা।
প্রতিটি স্ট্যান্ডের মাস্টার নামের চাঁবাজরা জানান, তারা পুলিশ ও সিসিক কর্ত্যাব্যক্তিদের সাপতাহিক ও মাসোহারা দিয়েই স্ট্যান্ড বসিয়ে গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করছে। প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ টাকা পুলিশ ও সিসিক কর্তাব্যক্তিরেদর দিয়ে থাকেন বরৈ জানান তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর সুবিদবাজার, লাভলী রোড ও লন্নী রোডের একাধিক বাসিন্দাস্টে প্রতিবেদেকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মেয়র আমাদের বাসা দোকান মর্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙ্গে সড়ক প্রশস্থ করছেন, তবে সেটা আমাদের নাগরিকদের জন্য নয়, স্ট্যান্ডবাজ ও চাঁদাবাজদের জন্যই এসব করছেন।
এ বিষয়ে জানতে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সিকি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মসদ বদরুল হকে সেলফোনে পৃথক ভাবে কল দিরে তারা দৈনিক জৈন্তা বার্তার মোবাইল ফোন রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে এসএমপি’ ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের সাথে সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করলেও কোনো বক্তব্য না দিয়েই কল কেটে দেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

January 2023
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..