সিলেটের প্রধান নদীগুলো ড্রেজিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ১২:০০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০২২

সিলেটের প্রধান নদীগুলো ড্রেজিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেটের প্রধান নদীগুলো ড্রেজিং করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করে ফিরে মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিস্তারিত তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটে বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে যার যা আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে আমাদের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী আজ সেখানে নির্দেশনা দিয়েছেন সিলেটের প্রধান নদীগুলো ড্রেজিং করতে।

‘প্রতিবছর পলি পড়ার কারণে নদীর ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। এটা বন্যার অন্যতম একটি কারণ। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, উজানে অর্থাৎ চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে ঢলের পানি দ্রুত চলে এসেছে। মানুষ বুঝতেও পারেনি। তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে বাড়ির উঠোনে পানি।’

ড্রেজিংয়ের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত না নির্দেশ- জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের নদীগুলোতে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। ড্রেজিং হওয়ার পর সেখানে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রয়োজন হবে। প্রধানমন্ত্রী সেই সিদ্ধান্তই দিয়েছেন।

‘নদীগুলোতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিবছর মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং করা হবে। তাহলে নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়বে এবং বন্যার প্রকোপ কমবে।’

সিলেটে বিএনপির নেতাকর্মীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সিলেটে বন্যাদুর্গত এলাকায় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আমাদের নেতাকর্মীরা সবাই মিলে কাজ করে যাচ্ছেন। সেখানে সিলেটের মেয়রও বক্তব্য রেখেছেন।

‘প্রধানমন্ত্রী তাকে (মেয়র) বললেন, তোমাদের দলের কাছ থেকে জনগণ কী পেয়েছে? তিনি কিছু বলতে পারলেন না। কারণ বিএনপির পক্ষ থেকে কিছুই করা হয়নি। তারা ঢাকায় বসে লম্বা লম্বা বক্তৃতা দেয়।’

গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক নামধারী কিছু ব্যক্তি ঢাকায় বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঢাকায় বসে ঠিকমতো খবর না নিয়ে নানা স্টোরি বানানো হচ্ছে। কেউ কেউ আবার সিলেটে বসেও নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

‘করোনার সময়ও এটি হয়েছে। আবার যখন পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপন করা হয়, নির্মাণ কাজ শুরু হয় তখনও তারা এ ধরনের অপপ্রচার করেছে। আমি অনুরোধ জানাব, যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে মূলধারার গণমাধ্যম যেন আগের মতোই এখনও সোচ্চার থাকে।’

দলীয় নেতাকর্মীদের বন্যার্তদের সেবায় তৎপর হতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দলীয় যেসব নেতাকর্মী ত্রাণ তৎপরতার সঙ্গে আছেন প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে উৎসাহ দিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

‘আমাদের দেশ বন্যাকবলিত দেশ। বন্যা এখানে একটি নিয়মিত ঘটনা। প্রতিবছর কমপক্ষে ২৫ শতাংশ স্থলভাগ বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। ১০ বছর পর পর দেশের ৭৫ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বন্যা মোকাবেলার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সরকারের সমালোচকদেরও সমালোচনা করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান। তিনি বলেন, ‘যারা ঢাকায় বসে বাগাড়ম্বর করছেন, নানা ধরনের মত দিচ্ছেন, তারা এখন কোথায়? যারা সরকারকে কারণে অকারণে ছবক দেন- এই করতে হবে সেই করতে হবে, তারা কোথায়?

‘এনজিওর বড় বড় ব্যক্তিত্বরা কোথায়? তাদেরকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই প্রশ্ন জনগণসহ আমিও রাখছি।’

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

June 2022
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..