ছাতকের নারী কাউন্সিলর কাকলির ক্ষমতার অপব্যবহার-চাঁদাবাজি

প্রকাশিত: 2:32 AM, September 9, 2021

ছাতকের নারী কাউন্সিলর কাকলির ক্ষমতার অপব্যবহার-চাঁদাবাজি

ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতক পৌর শহরে নারী কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকলির বিরুদ্ধে ক্ষমতাবলে এলাকায় চাঁদাবাজি, প্রতিবাদ করলে মারপিট, প্রতিনিয়ত দেয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি। শ্রমিকদের অভিযোগ, সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত হিউম্যান হুইলার অটো সিএনজি ও ড্রাইভার্স শ্রমিক ইউনিয়ন ছাতক শিববাড়ির উপ কমিটির ভুয়া উপদেষ্টা সেজে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে ৫ শতাধিক শ্রমিকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছেন কাকলি। আড়াই বছরে ও ক্ষমতাবলে এলাকায় চাঁদাবাজি করে এসব সংগঠনের নামে বেনামে ভুয়া রশিদ দিয়ে প্রায় ৬২ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্নসাত করার অভিযোগ উঠেছে নারী কাউন্সিলর ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে। দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে ছাতক পৌর শহরের শিববাড়ি স্ট্যান্ড এলাকা। ছাতক পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত হিউম্যান হুইলার অটো সিএনজি ও ড্রাইভার্স শ্রমিক ইউনিয়ন উপ কমিটির (রেজিষ্টার নম্বার ১৯২৬) এ সংগঠনে নারী কাউন্সিলর কাকলি নিজে নিজেই প্রধান উপদেষ্টা সেজে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরেই নারী কাউন্সিলর ও তার সহযোগিরা সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত হিউম্যান হুইলার অটো সিএনজি ও ড্রাইভার্স শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নামে বেনামে ভুয়া রশিদ দিয়ে ষ্ট্যান্ড জোরপুর্বক দখল করে রেখেছেন।
নারী কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকলির বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত হিউম্যান হুইলার অটো সিএনজি ও ড্রাইভার্স শ্রমিক ইউনিয়ন উপ কমিটির (রেজিষ্টার নম্বার ১৯২৬) শিববাড়ি শাখার সংগঠনের পক্ষে রাসেল আহমদ, এমরান আহমদ, দবির মিয়া, চাঁদ মিয়াসহ আড়াই শতাধিক স্বাক্ষরিত শ্রমিকরা বাদী হয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, ছাতক পৌর মেয়র, সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার, উপজেলা নিবাহী কর্মকতা, শ্রম অধিদপ্তরে ও ছাতক থানায় বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ছাতক পৌর শহরের নারী কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকলির নামেই চলে চাঁদাবাজি। তার ভাই খোকন ও তার মামা আজিম উদ্দিন ও আজিজুর রহমান বাদশাসহ অনেকটা শহরের শিববাড়ী সিএনজি স্ট্যান্ডে অবৈধ কমিটি বাতিল ও ষ্ট্যান্ডে চাঁদাবাজী বন্ধের দাবিতে স্ট্যান্ডের প্রকাশ্যেই পুরো চাঁদাবাজির আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেন। জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার সিএনজি চালিত হিউম্যান হুইলার অটো সিএনজি ও ড্রাইভার্স শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং-১৯২৬ এর ছাতক শিববাড়ী উপশাখায় দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচিত কোন কমিটি না থাকায় ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকলি প্রধান উপদেষ্ট্যা সেজে কমিটি অনুমোদন দেয়। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সড়ক পরিবহন শ্রমিক বা অনুমোদিত শ্রমিক ইউনিয়ন ব্যতিত পরিবহন শ্রমিকের কোন জনপ্রতিনিধির কমিটি অনুমোদন দেয়ার বিধান নেই। কিন্তু শিববাড়ী স্ট্যান্ডে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নারী কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকলী শ্রম আইন বহির্ভূতভাবে তার স্বজনদের অন্তর্ভূক্ত করে নিজ বাসায় বসেই একটি পকেট কমিটি অনুমোদন করেছে। যে কমিটিতে স্ট্যান্ডের কোন পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে রাখা হয়নি। অবৈধ এ কমিটির লোকজন পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে টিপ প্রতি ৫০-১০০ টাকাসহ প্রতিদিন ৭/৮হাজার টাকা হলে মাসে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা শ্রমিকদের কাছ থেকে উত্তোলন করে বছরে ২৫ লক্ষ ২০ হাজার আদায় করছে। শ্রমিকদের এসব টাকার কোন হিসাবও তারা দিচ্ছে না। অবৈধ কমিটিকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে পরিবহন শ্রমিকদের উপর নেমে আসে শারীরীক নির্যাতন। বর্তমানে স্ট্যান্ডে শ্রমিকদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। এ নিয়ে যেকোন সময় সংঘর্ষের আশংকা বিরাজ করছে। চাঁদা না দিলে প্রকাশ্যে চলে শ্রমিকদের উপর হামলা। এলাকাটিতে যেন নারী কাউন্সিলর ও তার ভাই আর মামার রামরাজত্ব চলছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, নারী কাউন্সিল কাকলি তার ভাই খোকন ও মামার বিরুদ্ধেই আছে বিস্তর অভিযোগ। বিভিন্ন শ্রমিক অঙ্গ সংগঠনের নেতা পরিচয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তারা। বলা হচ্ছে, একেবারে শূন্য থেকে তারা স্থানীয় অনেকের চোখের সামনেই বিপুল বিত্তবৈভবের মালিকও হয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় এনে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান নিযাতিত পরিবহন শ্রমিকরা।
এব্যাপারে ছাতক পৌর সভার নারী কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকলির সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার স্বামী মাছুম আহমদ তার স্ত্রী নামাজে বলে মোবাইল ফোন কেটে দেন।
ছাতক থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তদন্তপুর্বক আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নারী কাউন্সিলর কাকলি বিরুদ্ধে গত ১৮ আগস্ট তার কাছে ইজিবাইকচালক আতিকুল মিয়া, নূরুল হোসেন ও বিরাজ আলী একটি লিখিত অভিযোগ করেন। গত ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত পৌর পরিষদের বিশেষ সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে উপস্থিত ১০ সদস্যের মধ্যে ১০ জনের সম্মতিতে ওই নারী কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়। কিন্তু চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়ায় ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত পরিষদের অপর এক সভায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন পৌর পরিষদ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

September 2021
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..