সিলেট-৩ উপনির্বাচনে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন : কাল ভোটগ্রহণ

প্রকাশিত: 1:11 AM, September 3, 2021

সিলেট-৩ উপনির্বাচনে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন : কাল ভোটগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। কাল শনিবার ভোট গ্রহণ। সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বন্ধ হয়েছে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা।
এর আগে বুধবার প্রচারনার শেষ দিন বিভিন্নস্থানে শোডাউন করেছেন প্রার্থীরা শষ দিন প্রচার প্রচারণায় মুখরিত ছিল গোটা এলাকা। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। তরুণ, যুবক ও পৌঢ় সবার চোখে মুখে ছিল আনন্দ। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে উপজেলা সদরে আসতে থাকে খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ বালাগঞ্জ এই তিন উপজেলা বর্ণিল সাজে সেজেছিল। বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। বিরামহীন এই প্রচারণা রাত ৮টায় শেষ হয়। সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিনে ‘জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা’, ‘শেখ হাসিনার সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন’, এ রকম নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড ও কাঠের তৈরি নৌকা হাতে নিয়ে স্লোগানে স্নোগানে মেতে উঠেন নৌকার কর্মী ও সমর্থকরা।
ফেঞ্চুগঞ্জে দুটি মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। চন্ডীপ্রাসাদ স্কুলের সামনে একটি ও স্কুলের মাঠে ছাত্রলীগ আরও একটি মঞ্চ নির্মাণ করে। এ নিয়ে মৃদু উত্তেজনা দেখা দিলে পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে চন্ডীপ্রাসাদ স্কুলের সামনের মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রচারণায় মাঠ দখল রেখেছিলেন। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের নেতৃত্বে তারা প্রচারণায় ছিলেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বালাগঞ্জে শেষ নির্বাচনী জনসভায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ছাত্রলীগের ভাইদের বলছি আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে হাবিব ভাইকে নির্বাচিত করুন। তিনি নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রী আপনাদের এলাকার উন্নয়ন করবেন।
জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক (লাঙ্গল), বিএনপির বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী (মোটর গাড়ি) ও কংগ্রেস প্রার্থী জোনায়েদ মোহামদ মিয়া (ডাব) বুধবার সকাল ৮টা থেকে গণসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করে রাত ৮টায় গিয়ে শেষ করেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিকের শেষ নির্বাচনী সবায় বক্তব্য রাখেন পার্টির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। তিনি বলেন, গণতন্ত্র বিকাশের স্বার্থে সিলেটে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চাই। জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি বাড়বে। ভোটের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে। দেশবাসী ৪ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের দিকে থাকিয়ে আছে। তাই নির্বাচনে যাতে কেউ পেশিশক্তির প্রয়োগ করতে না পারে সে ব্যাপারে সিলেটের প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।
উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভোটের পর রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ- এই ৩ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনের নির্বাচনকালীন সময়ে সকল অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে ২ সদস্যবিশিষ্টি একটি ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’ গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিটিতে রয়েছেন সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তাসলিমা শারমিন ও সিনিয়র সহকারী জজ নির্জন কুমার মিত্র।
এছাড়া আসনটির ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রজমান ভূঁঞাকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়, অঞ্জন কান্তি দাসকে বালাগঞ্জ উপজেলায় এবং সিলেটের মেট্রোপলিট্রন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন ভূঁইয়াকে ফেঞ্জুগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নির্বাচনের আগে দুইদিন, পরে দুইদিন ও নির্বাচনের দিন- অর্থাৎ ২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট পাঁচদিন নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোটগ্রহণের দিন কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা। ৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ ভোটকেন্দ্রে থাকবে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য। আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিয়োজিত থাকবে ১৮ থেকে ১৯ জন সদস্য। এদের মধ্যে পুলিশ আর অঙ্গিভূত আনসার সদস্যের কাছে অস্ত্র থাকবে। তারা সার্বক্ষণিক ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দেবেন।
পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত মোবাইল ফোর্স ২১টি, স্ট্রাইকিং ফোর্স ১২টি, র‌্যাবের ১২টি টিম ও ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে ২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বিজিবির সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায়।
ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত রাখা হবে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অন্যদিকে রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে কিংবা ভোট গণনা কক্ষের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে।
এছাড়া নির্বাচন কার্যালয়সমূহ, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের নিরাপত্তা বিধান করা, স্থানীয় জননিরাপত্তা, কেন্দ্রে ভোটারদের সুশৃঙ্খল লাইন করানোসহ স্থানীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, সংশ্লিষ্ট এলাকার কেন্দ্রসমূহের ইভিএম ও ইভিমের কারিগরি সহায়তায় নিয়োজিতও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে পুলিশ। আবার ভোটারদের জন্য আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করাও এ বাহিনীর দায়িত্ব।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। যার সংসদীয় নং ২৩১। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ও ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি।
চলতি বছরের ১১ মার্চ করোনায় সংক্রমিত হয়ে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটির সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মারা যান।
সংবিধান অনুযায়ী, উক্ত শূন্য আসনে ৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও করোনার কারণে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় শূন্য আসনটিতে ৮ জুন পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণা করে ইসি। সেই তফসিল অনুযায়ী গত ২৮ জুলাই এই আসনের উপনির্বাচন ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এর দুদিন আগে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন আদালত। পরবর্তীতে ৪ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের দিন ধার্য্য করে ইলেকশন কমিশন।
গত ১৫ জুন মনোনয়ন জমা দেন মোট ৬ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাহমিদা হোসেন লুমা ও শেখ জাহেদুর রহমান মাসুম।
এর মধ্যে ফাহমিদা ও মাসুম ছাড়া সবার মনোনয়নপত্র ১৭ জুন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন অফিস। দাখিলকৃত মনোনয়নে ভোটারদের তথ্য যথাযথ না পাওয়ায় ফাহমিদা ও মাসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে তারা আপিল করলেও আগের রায় বহাল রাখে নির্বাচন কমিশন। ফলে তারা দুজন ঝরে পড়েন নির্বাচন থেকে।
বহাল থাকা ৪ প্রার্থীর প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জুন প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব নৌকা, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক লাঙ্গল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক বিএনপি নেতা শফি আহমদ চৌধুরী মোটরগাড়ি (কার) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ডাব প্রতীক পান। এর মধ্যে শফি আহমদ চৌধুরী ছাড়া বাকি ৩ জন পান দলীয় প্রতীক।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

September 2021
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..