‘ভেদভেদা’ লাইভে বিতর্কিত হচ্ছেন সিলেটের মূলধারার সাংবাদিকরা

প্রকাশিত: 1:37 AM, July 13, 2021

‘ভেদভেদা’ লাইভে বিতর্কিত হচ্ছেন সিলেটের মূলধারার সাংবাদিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে প্রথমেই সিনিয়ার সাংবাদিকরা ভেদভেদা লাইভ সাংবাদিকদের রাস্তা দেখিয়ে এখন তাদেরও উর্পাজনের রাস্তা বন্ধ। মিলছে না কোন টেলিভিশন বা পত্রিকার ইনকাম। ফলেই বিকল্প রাস্তা খুঁজছেন অনেকে। সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের ঠিকাধারী নিয়েছে এই লাইভের দল। ইমজার নাম করেও প্রাথীদের নিকট থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। যার ফলে রাস্তা-ঘাটে বিতর্কিত হচ্ছেন মূলধারার সাংবাদিকরা।

বর্তমান সময়ে একটি মাত্র স্মার্ট ফোন হলেই বুম নিয়ে বের হয় রাস্তায়, শুরু হয় ভেদভেদা লাইভ। যোগ দিতে দেখা যায় বিভিন্ন অনুষ্টানে। এদেরকেও প্রধান্য দিচ্ছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনের লোকজন। বিষয়টি যাচাই করতে চাইছেন না কেউ। এরা বৈধ-না অবৈধ সাংবাদিক। এই অবৈধ লাইভ ওয়ালাদের কর্মকান্ডে অতিষ্ট সিলেটবাসী। তারা ধর্ষিতা নারীকে লাইভে এনে ছবি প্রকাশ ভেদাভেদ করে না। মানছে না কোন ধরণের আইন-কানুন। সম্পর্ণ বেআইনী ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন লাইভের ব্যবসা। ধান্ধায় ব্যাস্ত তারা।

লজ্জার বিষয় হলেও সত্যি অসহায় রোগীদের সাহায্যের নামে লাইভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। আর এদের গুরু যারা তারা এখন নামে মাত্র পেশায় আছে কিন্তু বেশির ভাগ সময় পার করছেন সরকারি কর্তাদের সাথে দালালী করে। ঢেলা পড়লে চেনা যায় এরা কোন শ্রেণীর দালাল। প্রতিটি ভেদভেদার গুরু আছে। এই গুরুরা নেপথ্যে থেকে ছাত্রদের রাস্তায় বের করে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন বড় অংকের টাকা। আবার দেখা গেছে স্বয়ং কোন কোন গুরুরাও রাস্তায় থাকেন ছাত্রদের সাথে। এদের প্রাণ সিটি কপোরেশনের মেয়র। মেয়র অভিযানে বের হলেই আগে পিছনে শুরু হয় এই ভেদভেদাদের লাইভ। এদের লাইভ দেখে বাহ বাহ দেন মেয়র। কিন্তু মেয়রও কোনদিন এদের যাচাই করার প্রয়োজন করেননি।
মূলধারার সৃষ্টি ফয়সল কাদির। সিলেট মহানগরীর সুরমা গেইট এলাকায় সড়ক পরিবহন আইন অমান্য করায় মোটর সাইকেল আটকের পর ট্রাফিক সার্জেন্টকে হুমকি-ধামকি দিয়ে ‘পিকে টিভি’ নামে ফেসবুক পেইজে লাইভের মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত রোববার (১১ জুলাই) রাতে সার্জেন্ট মো. নুরুল আফসার ভূইয়া বাদি হয়ে ফয়ছল কাদির (৪০) নামে ওই ‘লাইভ’ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শাহপরান থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং- ০৫, তাং- ১১/০৭/২০২১খ্রি.। মামলায় বাদি ফয়ছল কাদিরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য সরাসরি প্রচার করে অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগ আনেন।
সিলেটের সাংবাদিক অঙ্গনের এক নেতা থেকে সৃষ্টি হয়েছে এই সকল লাইভ সাংবাদিকতা। এই সম্পর্ণ পাপের ফসল এই নেতা। তিনি রাস্তায় বের না হলেও মেয়েদের দিয়ে চালাতেন লাইভ। শুরু হয় দেখ-দেখা শিখ শিক্ষা। এখন এদের সামাল দিবে কে? করে চলেছেন একের পর এক অঘটন। সম্মানের ভয়ে মানুষ এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করছে না। হুমকি দিয়ে আদায় করছেন বড় অংকের টাকা। যেমনটা সার্জেন্ট মো. নুরুল আফসার ভূইয়াকে ডিসির হুমকি দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ছিলো ফয়সল কাদির।
এদিকে শুরু হয়েছে লাইভের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রতারণা। সিলেটের বহুল প্রচারিত অনলাইন পোর্টাল “ক্রাইম সিলেট.কম” -এর নামের সাথে ‘২৪’ যুক্ত করে “ক্রাইম সিলেট২৪.কম” নামে একটি নকল অনলাইন পোর্টাল বানিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল একটি অপরাধী চক্র। এই পোর্টাল বন্ধ করার বিনিময়ে মূল “ক্রাইম সিলেট” সম্পাদকের কাছে লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চলমান ‘কঠোর লকডাউন’র ২য় দিন শুক্রবার নকল এই পোর্টালের নামে বিরাট স্টিকার লাগানো একটি মাইক্রো নিয়ে সিলেট নগরজূড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল হাসান আহমদ অভি ও তার সহযোগী প্রতারকরা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা ডিবি পুলিশ নগরের কুমারপাড়া এলাকা থেকে অভিকে গাড়িসহ আটক করে। তার বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে আরেক পোর্টালের সম্পাদক অরুন সরকাকে ইয়াবা সহ আটক করেছে সিলেট র‌্যাব-৯। তারও একটি অনলাইন পোর্টাল রয়েছে যার নাম ‘সিএনবাংলাদেশ’। এ সকল যন্ত্রণা বেরিয়ে আসার পথ খেজো সিলেটের সচেতন মহল।

এ প্রসঙ্গে সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক খলিলুর রহমান বলেন- গাছের মূল আর কাণ্ড এই দুটিই একে অপরের পরিপূরক ও রক্ষক এবং অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। উপরন্তু মূল থেকেই সৃষ্টি হয়ে থাকে কাণ্ড’র। আবার কাণ্ড না থাকলে মূলও বেঁচে থাকতে পারে না। কারণ কাণ্ডই মূল’র আহার,অক্সিজেন, হাইড্রোজেন’ কার্বনাইট অক্সাইড সব কিছুরই যোগান দিয়ে থাকে। তাই একদলকে মূলধারার সাংবাদিক বলা হলে অন্যদেরকে সেই মূলধারা’র কাণ্ডধারা’ই বলতে হবে। যাদের সৃষ্টি মূলধারা’র স্বার্থেই। তাই সাংবাদিক পরিচয়ের ‘বুম-ভৃয়া ও ভেদভেদা’রাই সেই মূলধারা’র সাংবাদিক থেকেই সৃষ্টি। এখন বাঁশ থেকে ছিঙ্গল ভারী হওয়ায় উপড়ে পড়ার ভয়ে শুরু হয়েছে “মূলধারা মূলধারা” বলে আর্তনাদ। আর “মূলধারা” বলাতেই যে কাণ্ড অর্থাৎ বুমধারা’র স্বীকৃতি হয়ে যাচ্ছে সে দিকে কারোর খেয়াল নেই।

সিলেট সিটি প্রেসক্লাব সভাপতি বাবর হোসেন বলেন, ‘লাইভ আবার কি? ফেসবুক পেজ দিয়ে কি সাংবাদিকতা করা যায়? এরা কি বৈধ? প্রথমে দেখতে হবে এদের কে সৃষ্টি করছে। সিলেটে প্রথম বুম দিয়ে নারীদের রাস্তায় নামানো হয়েছে কার নেতৃত্বে। এই নারীদের দেখার পর শুরু হয়েছে সিলেটের লাইভ সাংবাদিকতা। এখনও সময় আছে সিলেটে সাংবাদিক অঙ্গনকে ধরে রাখতে হলে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে’।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

July 2021
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..