সিলেটের ময়না মিয়াকে ছয় টুকরো করার কথা স্বীকার করে স্ত্রী ফাতেমার জবানবন্দি

প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২১

সিলেটের ময়না মিয়াকে ছয় টুকরো করার কথা স্বীকার করে স্ত্রী ফাতেমার জবানবন্দি

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : রাজধানীর মহাখালী থেকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ময়না মিয়া নামে একজনের হাত-পা ও মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা খাতুন দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার ঢাকা মহানগর হাকিস মাসুদ-উর-রহমানের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এদিন রিমান্ড শেষে আসামি ফাতেমা খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় ফাতেমা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে, গত ১ জুন আসামি ফাতেমাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বনানী থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম আসামির ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার পাঁচ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে স্বামী হত্যার ঘটনায় গত ৩১ মে ফাতেমাকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ফাতেমার দেখানো জায়গায় গিয়ে ময়না মিয়ার মাথা উদ্ধার করা হয়। পরে বোরখা, ভিকটিমের রক্তমাখা জামাকাপড়, ধারালো ছুরি, ধারালো দা, বিষাক্ত পেয়ালা, শীল-পাটা উদ্ধার করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী কড়াইল এলাকা থেকে ফাতেমা দুই পাতা ঘুমের ট্যাবলেট কিনে গত ২৮ মে রাতে জুসের সঙ্গে তার স্বামী ময়না মিয়াকে খাইয়ে দেন। এরপর ময়না মিয়া সারারাত-সারাদিন ঘুমে অচেতন থাকলে সন্ধ্যার দিকে কিছুটা জ্ঞান ফিরে পায় এবং স্ত্রীকে গালমন্দ করে আক্রমণ করতে গিয়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ময়না মিয়া পানি পানি বলে আর্তনাদ করলে ফাতেমা আবারও তার মুখে ঘুমের ট্যাবলেট মেশানো জুস ঢেলে দেন। এ পর্যায়ে ময়না মিয়া নিস্তেজ হয়ে খাটে পড়ে গেলে ফাতেমা তার ওড়না দিয়ে ময়না মিয়ার দুই হাত শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখে এবং মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকে দেয়। এ সময় ময়না মিয়া আর্তনাদ করতে থাকলে ফাতেমা বুকের উপরে বসে তার ঘরে থাকা স্টিলের চাকু দিয়ে গলাকাটা শুরু করেন। ধস্তাধস্তি করে ময়না মিয়ে ওড়না ছিঁড়ে তার হাত মুক্ত করে ও ফাতেমার হাতে খামচি এবং মুখ খুলে কামড় দেয়। এতে ফাতেমার রাগ আরো বেড়ে যায়।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ময়না ও ফাতেমা দুজনেই খাট থেকে পড়ে গেলে ফাতেমা ভিকটিমের বুকের উপরে উঠে গলার বাকি অংশ কেটে দেয়। পরে সকালে ফাতেমা লাশ গুম করার জন্য ধারালো চাকু দিয়ে ময়নার হাতের চামড়া ও মাংস কাটে এবং ধারালো দাঁ দিয়ে হাড় কেটে খণ্ডিত অংশকে তিনটি ভাগে রাখে। একটি লাল রঙের কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশকে একটি নীল রঙের পানির ড্রামে, কেটে ফেলা দুই পা এবং দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে। এলাকা থেকে ১৩০০ টাকায় একটি রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলে দেয়। পরবর্তীতে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে দুই হাত-দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে চলে আসে বাসায়। বাসায় এসে সেখান থেকে খণ্ডিত মাথার ব্যাগটি নিয়ে বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্বপ্রান্ত থেকে গুলশান লেকে ফেলে দেয়। এরপর বাসায় এসে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

June 2021
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares