‘হাসিনা’র জেল খাটছেন ‘হাছিনা’

প্রকাশিত: ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০২১

‘হাসিনা’র জেল খাটছেন ‘হাছিনা’

Manual6 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : নামে মিল থাকায় বিনা দোষে গত দেড় বছর ধরে চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছেন টেকনাফের হাছিনা বেগম (৪০)। মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি একই এলাকার হাসিনা আক্তারের বদলে আটক করে পুলিশ আদালতে চালান করেন ভুক্তভোগী হাছিনা বেগমকে। এরপর থেকেই স্বামী-সন্তান ছেড়ে বিনা দোষে জেল খাটছেন তিনি।

Manual1 Ad Code

জানা গেছে, কারাগারে থাকা হাছিনা বেগম কক্সবাজার জেলার টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া এলাকার হোসেন বর বাড়ির হামিদ হোসেনের স্ত্রী। আর সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা আক্তার একই এলাকার ইসমাইল হাজী বাড়ির হামিদ হোসেনের স্ত্রী। ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ইয়াবাসহ আটক হওয়ার ঘটনায় হাসিনা আক্তারের কারাদণ্ডের আদেশ হয়েছিল। তবে নামের একাংশের সঙ্গে মিল থাকায় তার জায়গায় প্রায় দেড় বছর ধরে সেই সাজা খাটছেন হামিদ হোসেনের স্ত্রী হাছিনা বেগম।

Manual8 Ad Code

এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি রোববার (২রা মে) আইনজীবী এডভোকেট গোলাম মওলা মুরাদ চট্টগ্রাম ৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁইয়ার আদালতের নজরে আনেন। পরে আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে আজ ৪ঠা মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা রেজিস্ট্রারে মূল আসামির সঙ্গে সাজাভোগকারীর ছবি মিল-অমিল তুলে ধরে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর মামলা দায়ের হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা আক্তার ২০১৭ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে কারাগারে যান। একই বছর ২৭শে নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে জামিনে বেরিয়ে গা-ঢাকা দেয় তারা। এরপর ২০১৯ সালের ১লা জুলাই পলাতক থাকা আসামিদের অনুপস্থিতিতে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মহানগর ৫ম আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী হাসিনা আক্তারকে ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এরপর টেকনাফ থানা পুলিশ ২০১৯ সালের ২৬শে ডিসেম্বর টেকনাফের চৌধুরীপাড়ার হোসেন বর বাড়ি থেকে নামের সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামির নামের একাংশের মিল থাকায় হাছিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করে। হাছিনা বেগমের ছেলে শামীম নেওয়াজ জানান, তার মাকে থানায় একটি সাইন দিতে হবে বলে পুলিশ ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে ইয়াবার মামলায় জেলে পাঠানো হয়। তার মায়ের নামে কখনো কোনো মামলা বা জিডি ছিল না। আর জেলে যাওয়ার পর তার বাবাও তাদের ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী এই নারীর ১৫ বছর বয়সী ছেলে।

Manual3 Ad Code

এদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, কারা রেজিস্ট্রারে থাকা দুজনের ছবির মিল নেই। মূল আসামি হাসিনা আক্তারের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল কারাগারে থাকার সময়। এই বিষয়ে হাছিনা বেগমের মুক্তি চেয়ে আবেদন করা এডভোকেট গোলাম মওলা মুরাদ জানান, কারাগারে থাকা হাছিনা বেগমের অপরাধীর তালিকায় নাম নেই। অতীতে অপরাধের সঙ্গেও ছিল না কোনো সম্পৃক্ততা। তবুও তিনি খাটছেন জেল। অপরাধ একটাই, সাজাপ্রাপ্ত আসামির নামের প্রথম অংশ ও স্বামীর নামের একাংশের সঙ্গে মিল রয়েছে। তবে অপরাধীর নামের সঙ্গে মিল থাকলেও বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে রয়েছে অমিল। (সুত্র: মানবজমিন)

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

May 2021
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..