আমার বিশ্বাস আকবর এখনও দেশের বাইরে যায়নি: নিহত রায়হানের বাড়িতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

আমার বিশ্বাস আকবর এখনও দেশের বাইরে যায়নি: নিহত রায়হানের বাড়িতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার :: পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিন নামের এক যুবক হত্যার সুষ্ঠু বিচার হবে। এতে কেউ ছাড় পাবেনা। পুলিশ এ ঘটনার পর থেকে সর্তক থেকে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধী যতই বড় ক্ষমতাবান হউক তার বিচার হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে আখালিয়াস্থ নেহারিপাড়ায় রায়হানের পরিবারের সাথে দেখা করে সমবেদনা জানানোর পর এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সিলেটের মাঠিতে কেউ কোন অপরাধ করে বাঁচতে পারেনি। তাদের বিচার হয়েছে। রায়হান হত্যার বিচারও হবে। রায়হান হত্যার ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর নজরেও রয়েছে।

আমার বিশ্বাস আকবর এখনও দেশের বাইরে যায়নি। কারণ সীমান্তগুলোকে আমরা সাথে সাথে সতর্ক করে দিয়েছি। তবে আকবর বিদেশে পালিয়ে গেলেও তাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগে সিলেটের রাজন হত্যার আসামিকে সৌদি আরব থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিলো।

তিনি এসআই আকবরকে পুলিশের জন্য লজ্জ্বা উল্লেখ করে বলেন, এরকম দু’একজন কুলাঙ্গারের কারণে পুলিশ বাহিনীও লজ্জ্বিত। পুলিশের কেউ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে না। সুষ্ঠ তদন্ত চলছে।

এ ঘটনার পর এসআই আকবর পালিয়ে গেলেও তাকে ধরার জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। আইন আইনের গতিতে চলছে। আকবরের কোন তথ্য থাকলে সাথে সাথে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

উল্লেখ্য; গত ১০ অক্টোবর বিকেলে রায়হানকে ধরে নিয়ে আসে বন্দরবাজার থানা পুলিশ। ওই দিন রাতে ফাঁড়িতে তার ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ এবং তাকে ছেড়ে দিতে টাকা দাবি করে। ভোরে অপরিচিত একটি মোবাইল থেকে রায়হানের ফোন পায় তার পরিবার। তাতে ফাঁড়ি থেকে তাকে ছেড়ে দিতে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে জানান রায়হান।

পরিবারের কাউকে টাকা নিয়ে এসে তাকে উদ্ধারের অনুরোধও করেন রায়হান। ভোরে তারা টাকা নিয়ে ওই ফাঁড়িতে গেলে জানানো হয় রায়হান এখন ঘুমাচ্ছে, সকাল ১০টার দিকে আসতে হবে।

পরে সকাল ১০টার দিকে গেলে তাকে বলা হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার ছেলে মারা গেছেন। এরপর মৃত ছেলের শরীরে নির্যাতনের ভয়াবহ চিহ্ন দেখতে পান তিনি। রায়হানের হাতের নখগুলো উপড়ানো ছিল।

পুলিশ দাবি করে, রায়হানকে ছিনতাইকারী সন্দেহ করে জনতা গণপিটুনি দেয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের ফুটেজে এর কোনো প্রমাণ মেলেনি।

পরদিন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেল ৩টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এশার নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মামলার পর এর তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

October 2020
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares