ভারতের দালাল সাদ্দামের ইশারায় লালাখাল সীমান্তে বিএসএফ’র হাতে ৬ বাংলাদেশি আটক

প্রকাশিত: ১:১২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

ভারতের দালাল সাদ্দামের ইশারায় লালাখাল সীমান্তে বিএসএফ’র হাতে ৬ বাংলাদেশি আটক

Sharing is caring!

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২৭টি গরু-মহিষ আটক করা হয়েছে। অপরদিকে উপজেলার লালাখাল সীমান্ত থেকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিএসএফ এর সোর্স সাদ্দাম হোসেনের কথা অনুযায়ী ৬ বাংলাদেশিকে আটক বিএসএফ। এসবের পিছনে বিএসএফ এর সোর্স ভারতীয় দালাল সাদ্দাম হোসেনের হাত রয়েছে। সাদ্দাম বাঙ্গালী যুবতীদের দিয়ে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীকে ম্যানেজ করে গড়ে তোলেছে গভীর সখ্যতা। যার ফলে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) লালাখাল বড়ঘাট এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে গরু-মহিষ আনতে যাওয়া কোয়াতরবস্তি এলাকার ৬ বাংলাদেশিকে আটক করেছেন ভারতের কেলেরিয়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা। এ সময় আরও শতাধিক মানুষ দৌড়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা। যারা পালিয়েছেন তাদের দাবি বিএসএ ‘র সোর্স সাদ্দামের কথামতো আটক করা হয়েছে।

বিএসএফ’র হাতে আটককৃতরা হলেন- জৈন্তাপুর উপজেলার কামরাঙ্গী দক্ষিণ গ্রামের আব্দুস শুক্কুরের ছেলে বতাই মিয়া (৩০) এবং গৌরীপ্রকাশ খেড়িগোল গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে রুহুল মিয়া (২৮)। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় বিএসএফ আটকৃতদের লাটমবাই থানার মাধ্যমে জোয়াই হাজতে প্রেরণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া হরিপুর ইউনিয়নের বালিপাড়া কুমারছটি গ্রামের নাজিম উদ্দিন (৩৫), ৪ নম্বর বাংলাবাজার এলাকার সুজন মিয়া ও কদমখাল এলাকার দুইজনকে ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ আটক করে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানান, লালাখাল সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বস্তা মটরশুটি, মটর ডাল ভারতে পাচার করছে চোরাকারবারি দলের সদস্যরা। আর এই সকল পণ্য ভারতে পাচারে শ্রমিক হিসাবে কাজ করছে হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন। চোরাকারবারিরা সাদ্দামকে টাকা না দেওয়া সে ওই শ্রমিকদের ভারতীয় বিএসএফ এর মাধ্যমে আটক করায়। লালাখাল  সীমান্ত এলাকা কাফরাঙ্গী গ্রামের বাসিন্ধা সাদ্দাম হোসেন। সে নিজে কিছু দিন আগে মাদকের মামলায় কারাভোগ করে জেল থেকে জামিনে বেরিয়েছে। তবুও থেমে নেই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ ও বিজিবিকে নিয়ে তার অপকর্ম। সাদ্দাম দীর্ঘ দিন থেকে বিজিবি ও বিএসএফ এর সোর্স হিসাবে লাইনম্যানের কাজ করে যাচ্ছে। দিনে-রাতে ভারত-বাংলাদেশে অবৈধ মালামাল পাচার করে চোরাকারবারীদের নিকট থেকে আদায় করছে লাখ লাখ টাকা।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন ব্যক্তি চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। কিন্তু বৈঠকে বিজিবি ও পুলিশ উপস্থিতি থাকার পরেও চোরাচালানকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবৈধভাবে সীমান্ত এলাকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভারতের গরু, মহিষ ও অন্যান্য সামগ্রী বাংলাদেশে নিয়ে আসছে তারা।

বৃহস্পতিবার বিজিবি’র জৈন্তাপুর ক্যাম্প কমান্ডার রফিক আহমদ ৬ বাংলাদেশি আটকের বিষয় সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

অপরদিকে লালাখাল বিজিবি’র ক্যাম্প কমান্ডার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বাংলাদেশিরা আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আর কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

বিজিবি’র ডিবির হাওর ক্যাম্প কমান্ডার বলেন, ‘লোকমুখে শুনেছি দুইজন বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতীয় পুলিশ আটক করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এলাকার কেউ আমাদের কিছু জানায়নি।’

মিনাটিলা বিজিবি ক্যাম্প ও শ্রীপুর ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তাদের সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কিংবা ভারতীয় পুলিশের হাতে কেউ আটকের কোনো সংবাদ তারা জানেন না।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

October 2020
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares