জৈন্তাপুরে ভারতীয় চোরাই গরুর ভাগ-বাটোরা নিয়ে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে হামলা, আহত ১০

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

জৈন্তাপুরে ভারতীয় চোরাই গরুর ভাগ-বাটোরা নিয়ে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে হামলা, আহত ১০

Sharing is caring!

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :: জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ অবাধে করছে প্রবেশ, এনিয়ে চোরাকারীবারীদের দ্বন্দ্বের জেরধরে ভোর রাতে জৈন্তাপুর সদর পশুরহাট চোরাকারবারি, লাইনম্যার ও বহনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিজপাট ইউপির সদস্য সহ ১০জন আহত এ ঘটনায় উপজেলা সদরে দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর পূর্বে আরো দুটি সংঘাত হয়। জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশ অব্যাহত রাখতে মরিয়া এখন লাইনম্যান বেন্ডিস করিম বাহিনী ও চোরাকারবারি ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ বাহিনী। এর জন্য সীমান্ত রক্ষী, পুলিশ ও সাংবাদিকে ম্যানেজ করতে চলছে গোপন বৈঠক। এর মধ্যে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বেন্ডিস করিম ও চোরাকারবারি ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ বিভিন্ন ভাবে দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন।  কিছু নামধারী সাংবাদিক হামলার বিষয়ে কোন ধরণের সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে এই চক্রের কাছ থেকে বড় টাকা নিয়ে নিয়েছেন।

অবাধে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ সহ নানা অবৈধ সামগ্রি বাংলাদেশ প্রবেশ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি‘র ভূমিকা নিয়ে মাসিক চোরাচালান ও আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। এই ব্যবসার সাথে জড়িত সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারী ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ এবং তাদের সহযোগি যারা সীমান্ত এলাকা থেকে শ্রমিক হিসাবে গরু-মহিষ পৌছে দেয়ার কাজের সাথে জড়িত তাদের দ্বন্দ্বের কারনে বুধবার ভোর রাতে জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের পূর্ববাজার সরকারী পশুর-হাটে চাঁদার টাকা নিয়ে রণক্ষেত্র পরিনত হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ইউপি সদস্য ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ সহ দুই গ্রুপের অন্তত ১০/১২ লোক আহত হয়েছেন। ১৪ অক্টোবর বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার থেকে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও লাইনম্যান বেন্ডিস করিম গ্রুপের মধ্যে অন্তত ২০ মিনিট ব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। তাদের মধ্যে গুরুত্বর আহত ৫জন কে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে অঞ্চল ভিত্তিক দ্বন্দ্ব এবং উভয় গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর রাতে জৈন্তাপুর, শ্রীপুর, ডিবির হাওর ও লালাখাল সীমান্তের বিজিবি ক্যাম্প এলাকা জালিয়াখলা, বাইরাখেল, মুক্তাপুর, বাঘছড়া, ঘিলাতৈল, গুয়াবাড়ি, ডিবিরিহাওর, শ্রীপুর আসামপাড়া কেন্দ্রী, কাঠালববাড়ি, গৌরিসংকর যশপুর অঞ্চল দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ পথে বেন্ডিস করিমের নেতৃত্বে কয়েক হাজার গরু-মহিষ সহ অন্যান্য পন্য বাংলাদেশ প্রবেশ করে। ডিবিরহাওর এলাকায় দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশ কালে বিজিবি ক্যাম্প ও থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করে বেন্ডিস করিমের লাইনম্যানদের সীমান্ত এলাকায় নির্দারিত চাদাঁ পরিশোধ করা নিয়ে ব্যবসাদের দুই গ্রুপের সাথে রাতে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে, উপজেলা হাসপাতাল রাস্তা দিয়ে ভারতীয় শত শত গরু-মহিষ প্রবেশ করার সময়ে হাসপাতালে আসা একজন রোগী অন্তত ১ ঘন্টা সময় রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

এই সময় গরু-মহিষ‘র গায়ে লেখা সংকেত দেখে চিহিৃতকরন এবং কথিত লাইনম্যানদের অবৈধ চাদাঁ পরিশোধ দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা ছড়িয়ে পড়ে। গরু-মহিষ নিয়ে দুই পক্ষ টানাটানি করেন। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র-দা-বাশেঁর লাটি হাতে নিয়ে দুই গ্রুপ পশুরহাটে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষোপ করতে থাকেন। তখন পাশে মসজিদের মক্তবে পড়তে আসা ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, অন্তত ২০ মিনিট দাওয়া পাল্টা দাওয়া চলে, তখন বাউরভাগ এলাকা এবং ডিবিরি হাওর, ঘিলাতৈল, গুয়াবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী ও যুবকদের কে সংঘর্ষে লিপ্ত থাকতে দেখা গেছে। এই সময়ে পূর্ববাজার এলাকা যেন রণক্ষেত্র পরিনত হয় পড়ে। তাদের ইটপাটকেল নিক্ষোপ করার ফলে বাস-বাড়ি সহ চারদিকে আতংক দেখা দেয়। শত শত লোকের আত্মচিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাস-বাড়ির ঘুমন্ত মানুষ তখন জেগে ওঠেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার (ইনচার্জ) মহসিন আলী একদল পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনা স্থলে যান। তিনি আহত রোগীদের খোজঁ খবর নিতে হাসপাতালে ছুটে জান। সংঘর্ষে আহতরা হলেন বাউরভাগ গ্রামের রাহীম আহমদ (২৩), শরিফ আহমদ (২৫), দর্জিহাটি মহল্লার আমান উদ্দিন (২৯), মোকামবাড়ির তাজ উদ্দিন (২২), ঘিলাতৈল গ্রামের আলমগীর হোসেন (২৫), রুবেল আহমদ (২৬) এবং গৌরিসংকর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ (৪২)। অন্যারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। রুবেল আহমদ ছাড়া গুরুত্বর ৫জন কে জৈন্তাপুর হাসপাতাল থেকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

তবে ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ গ্রেফতারের ভয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে এসেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার বিষয়ে ইউপি সদস্য মনসুর আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্রাইম সিলেটের কাছে অস্বীকার করেন।

ঘটনার বিষয়ে জৈন্তাপুর বাজার ব্যবস্তাপনা কমিটির সভাপতি নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মো: ইয়াহিয়া জানান তিনি ঘটনাটি অফিসে আসার পর শুনেছেন। আহত উভয় পক্ষের সাথে তিনি যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে জানার চেষ্টা করছেন।

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার (ইনচার্জ) মহসিন আলী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ভোর ৬টার দিকে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে সংঘর্ষের কারন সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত অবগত নয়। পুলিশ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নাই।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারুক আহমেদ বলেন, ভোর রাতে পশুরহাটে সংঘর্ষের ঘটনা তিনি শুনেছেন। উপজেলা প্রশাসন এই ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

October 2020
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares