জকিগঞ্জে মামলা দিয়ে হয়রানী, ডিআইজির কাছে নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২০

জকিগঞ্জে মামলা দিয়ে হয়রানী, ডিআইজির কাছে নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : জকিগঞ্জে নারী কর্তৃক মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগে গত ৯ জুলাই সিলেট বিভাগের ডিআইজি মো. কামরুল ইসলাম বিপিএম বরাবর অভিযোগ প্রদান করেছেন জকিগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের আকাশমল্লিক গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের পুত্র মো. জামাল উদ্দিন, মৃত আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র মো. বদরুল হক, মৃত ফয়জুর রহমানের পুত্র আব্দুল মতিন, মো. জামিল উদ্দিনের পুত্র মিনহাজুল আবেদীন, মো. আব্দুল মতিনের পুত্র মো. হেলাল আহমদ। তাদের এই অভিযোগে দুজন মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় ৪৯জন স্বাক্ষর করেন।
অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন জকিগঞ্জের ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের আকশমল্লিক গ্রামের রুমানা বেগম বাদি হয়ে উল্লেখিত অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি মামলাতে তার বাবা আব্দুর রব ও স্বামী ময়নুল হককে একঘরে করে দেওয়া হয়েছে এবং হুমকিধামকি প্রদর্শন ও ধর্মীয় কাজে বাধা প্রদান করার কথা উল্লেখ করে জকিগঞ্জ থানায় ৩৪১/২৯৫ক/৫০৬ ধারায় মামলা করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন অভিযুক্তরা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব এবং তার স্বামী ময়নুল হককে এক ঘরে করে রেখেছেন এবং রুমানার ছেলেকে মসজিদ থেকে টেনে হেচড়ে বের করে দেয়া হয়। আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে অভিযোগপত্রে অভিযোগকারীরা বলেন রোমানা বেগম মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ার সুবাদে এলাকায় তিনি ও তার মা আনোয়ারা বেগম অসামাজিক কার্যকলাপ, মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানী, দেহ ব্যবসা, মাদক বিক্রি ও অবৈধ চোরচালানের মতো কাজের সঙ্গে জড়িত।
তারা অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করেন, জকিগঞ্জের ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের আকশমল্লিক গ্রামে ২টি মসজিদ রয়েছে। একটি আকাশমল্লিক দক্ষিণ জামে মসজিদ ও অপরটি আকাশমল্লিক উত্তর জামে মসজিদ। গ্রামের কিছু লোক আকাশমল্লিক দক্ষিণ জামে মসজিদ পরিচালনা করে অর্থাৎ ঐ মসজিদের সদস্য এবং আরো কিছু লোক উত্তর জামে মসজিদ পরিচালনা করে তারা ঐ মসজিদের সদস্য। বাদিনী রুমানার স্বামী ময়নুল হক অভিযোগকারীদের গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাল্লাহ গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। সেখানে তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরা বসবাস করেন। আর অভিযোগকারীদের গ্রামে বসবাস করেন রুমানা বেগম ও তার সন্তানরা। রুমানা বেগমের পিতা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব আমাদের উত্তর আকাশমল্লিক জামে মসজিদের সদস্য। তার সকল ছেলে-মেয়ে ঐ মসজিদে পড়েছে।
রোমানা বেগম তার সকল ভাই-বোন, তার স্বামী ময়নুল হক এবং তাদের আতœীয় ৩-৪জন দেহ ব্যবসাসহ ও চোরকাবারীসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তাদের এই অসামাজিক কাজগুলো নিরাপদে করার জন্য গ্রামের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে চায় এবং রোমানা বেগম তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার মানুষকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।
গত ৪-৫ মাস পূর্বে জকিগঞ্জ থানার এসআই পরিতোষ রোমানা বেগমের দায়ের করা মামলায় অভিযোক্ত জামাল উদ্দিন, মো. বদরুল হক ও আব্দুল মতিনকে টেলিফোন করে জকিগঞ্জ থানায় যাওয়ার কথা বলেন। তখন তারা জকিগঞ্জ থানায় যান। থানায় গেলে পরিতোষ ঘোষ বলেন আপনারা রোমানা বেগমের মোবাইল ফোনের কথাবার্তার রেকর্ড ও ভিডিও ভাইরাল করিয়াছি এবং তাকে এক ঘরে করে দিয়েছেন এই মর্মে আপনাদের উপর অভিযোগ রয়েছে। তখন তার বলেন এটা করেন নাই এবং তদন্ত করলে সত্য বের হয়ে আসবে বলে থানা থেকে চলে আসেন। পরিতোষ ঘোষ তদন্ত করতে গ্রামে গেলে গ্রামের লোকজন বলেন এটা তারা করেন নি। পরে পরিতোষ ঘোষ আবার গ্রামের লোকজনকে থানায় যাওয়ার জন্য বলেন। এবং আবার বিবাদীগণ থানায় যান এবং বিষয়টি অস্বীকার করে থানা থেকে চলে আসেন।
পরে এসআই পরিতোষ ঘোষ ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের মেম্বার জুনেদসহ কয়েকজনকে ডেকে এনে বিষয়টি শালিসিভাবে দেখে দেবার জন্য বলেন। এ ব্যাপারে শালিস বসলে রোমানা বেগমের স্বামী ময়নুল হক গ্রামের লোকজনকে ও সালিশি ব্যক্তিদের গালিগালাজ করে চলে যান। বিষয়টি জুনেদ মেম্বার এসআই পরিতোষ ঘোষকে জানান।
গত ২৯ জুন ওয়ার্ড মেম্বার জুনেদ আহমদ জকিগঞ্জ থানার সার্কেল আসবেন বলে অভিযুক্ত সবাইকে ফোন করে গ্রামের সকল লোককে মসজিদে থাকার জন্য জানান। আসরের নামাজের পর জকিগঞ্জ থানার সার্কেল আসলে জামাল উদ্দিন, বদরুল হক ও আব্দুল মতিনকে থানায় নিয়ে যান এবং ঐ রাতে মামলা দিয়ে পরিদিন কোর্টে চালান দেন। বর্তমানে জামাল উদ্দিন, বদরুল হক ও আব্দুল মতিন জামিনে আছেন। থানায় নেওয়ার পর অভিযুক্তদের কোনপ্রকার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় নাই।
অভিযোগকারীরা উক্ত ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রামবাসীকে রুমানা বেগমের অত্যাচার নির্যাতন থেকে রক্ষায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares