ছাতকের পাথর ব্যবসায়ীর দুই কোটি টাকা হাতিয়েছে প্রতারক সাহেদ

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

ছাতকের পাথর ব্যবসায়ীর দুই কোটি টাকা হাতিয়েছে প্রতারক সাহেদ

Sharing is caring!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: দেশের আলোচিত প্রতারক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম ও তার সঙ্গী মাসুদ পারভেজ সুনামগঞ্জের ছাতকের এক বালু-পাথর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত মে মাসে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। প্রতারণার শিকার বালু-পাথর ব্যবসায়ী এখলাছ খান গতকাল রোববার এ ব্যাপারে মামলা করার জন্য ছাতক থানায় যান। ছাতক থানার ওসি জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগে কিছু ভুল থাকায় সেটি সংশোধন করে আনতে বলা হয়েছে অভিযোগকারীকে।

প্রতারণার শিকার ছাতকের মণ্ডলিভোগের বালু-পাথর ব্যবসায়ী এখলাছ খান জানান, সাহেদ করিম এ বছরের ২৪ জানুয়ারি থেকে সাত ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার কাছ থেকে এক কোটি ৪৯ লাখ ২৫ হাজার ৪২ টাকার বালু-পাথর নেন। এরপর তাকে সাহেদ ৩০ লাখ টাকার চেক দেন। পাশাপাশি বিদেশ থেকে এক্সক্যাভেটর মেশিন এনে দেওয়ার জন্য সাহেদ এক লাখ ১০ হাজার ডলারের (প্রায় ৯৪ লাখ টাকার) এলসি সংশ্নিষ্ট কোম্পানিতে জমা দিয়ে এখলাস খানকে আনুষঙ্গিক কাগজপত্র দেন। কিন্তু তিনি ছাতকে এসে চেক জমা দিয়ে জানতে পারেন, সাহেদ করিমের হিসাবে কোনো টাকা নেই। কয়েকবার ব্যাংকে যোগাযোগ করেও হিসাবে কোনো টাকা পাননি তিনি। এক্সেক্যাভেটর মেশিন কেনার জন্য যে কোম্পানিকে সাহেদ

করিম এলসি দিয়েছিলেন, ওই কোম্পানির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করে জানতে পারেন, এলসি ফেরত নিয়ে ক্যাশ করে ফেলেছেন সাহেদ। এরপর অনেকবার ফোনে চেষ্টা করেও সাহেদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।

সর্বশেষ গত ৩০ জুন সাহেদের উত্তরার অফিসে (২/এ, সেক্টর-১২-এর ১৪ নম্বর সড়কের অফিসে) গিয়ে যোগাযোগ করলে তিনি পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে হুমকি দেন যে, আর যেন কোনো দিন এখলাছ খানকে ঢাকায় দেখা না যায়।

এখলাছ খান জানান, অনেক চেষ্টা করে তিনি জানতে পারেন, সাহেদ ৩০ জুন উত্তরার অফিসে আসবেন। তাই ২৯ জুন ঢাকায় এসে ৩০ জুন সকালে সাহেদের অফিসের সামনে গিয়ে বসে থাকেন। সকাল ১০টায় সাহেদ অফিসের সামনে এসে নামেন। তখন তিনি তার সামনে গিয়ে বলেন, ‘আপনি কি ঠিক করলেন ভাই? চেক দিলেন, কিন্তু অ্যাকাউন্টে টাকা নাই। বলেছিলেন বিদেশ থেকে এক্সক্যাভেটর আনিয়ে দেবেন, কিন্তু কোম্পানিকে এলসি দিয়ে আবার ফেরত এনে ক্যাশ করে নিয়েছেন। এটা কী করলেন?’ কিন্তু এখলাছ খানের কথা শেষ হওয়ার আগেই সাহেদ তার কপালে পিস্তল তাক করে বলেন, ‘গুলি করে তোর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেব। আর যদি ঢাকায় আসিস তোর শরীরে গুলি করার জায়গাও থাকবে না।’ এখলাস জানান, এ সময় সাহেদের সঙ্গে ৪-৫ জন ছিল, সবার কাছেই অস্ত্র ছিল। একইভাবে মাসুদ পারভেজ বালু-পাথর নিয়ে একবার ১৮ লাখ টাকা দেয়। কিন্তু তার কাছে এখনও ৪০ লাখ ৫২ হাজার ২৩৫ টাকা পাওনা আছে।

ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, এখলাছ খান সকালে সাহেদ ও মাসুদ পারভেজের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। সেটি সংশোধন করে আনতে বলা হয়েছে। এরপর র‌্যাবের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এটি গ্রহণ করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares