জীবন বাঁচানোর তৃপ্তিও কম নয় দম্পতির কাছে

প্রকাশিত: ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

জীবন বাঁচানোর তৃপ্তিও কম নয় দম্পতির কাছে

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ঘরে আট ও চার বছরের দুই মেয়ে। তাদের বাসায় রেখে ডাক্তার মা-বাবা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালে। যখন মা-বাবা বাসায় ফেরেন, তখন দুই সন্তানকে সরিয়ে নেওয়া হয় অন্য কক্ষে, যাতে তারা মা-বাবার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়তে না পারে।

ডা. মোরশেদ আলী ও ডা. ফাতেমা খায়রুন্নেছা নামের এই চিকিৎসক দম্পতি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। মোরশেদ আলী ২৮তম এবং ফাতেমা ৩০তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার পদে নিয়োগ পান।

ডা. মোরশেদ বর্তমানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার।

ফাতেমা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশনস ডিজিজে (বিটিআইটি) দায়িত্ব পালন করছেন। ফাতেমা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ।

মার্চের শুরুতে করোনাসংক্রমণ শুরুর পর সরকার চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতাল এবং সীতাকুণ্ডের বিটিআইটিকে করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র ঘোষণা করে। সরকারের এই সিদ্ধান্তেই করোনাযুদ্ধে নেমে পড়তে হয় এই দম্পতিকে।

ডা. মোরশেদ বলেন, ‘চীনের উহান শেষে ইতালিতে যখন করোনা বিভীষিকা চলছিল, তখনই নিজ উদ্যোগে জরুরি বিভাগের সহকর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা করি। মূলত সেখান থেকেই নেমে পড়ি করোনাযুদ্ধে। ওই দিন সহকর্মীদের বলেছিলাম, খুব শিগগির এমন দিন আসবে, চট্টগ্রামে শত শত রোগী হাসপাতালে ভিড় করবে। তখন ৮ মার্চ পরবর্তী সময়। দেশে রোগীর সংখ্যা পাঁচ-ছয়জন। সেদিনের সেই আশঙ্কার কথা নিদারুণ সত্যরূপে হাজির হলো জেনারেল হাসপাতালে।’

হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ফেসবুকেও সরব মোরশেদ। জনসাধারণকে সচেতন করতে একাধিক ভিডিও আপলোড করেছেন। নিয়মিতই লেখেন স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা। আত্মতৃপ্তির বিষয়ে তিনি জানান, সাতকানিয়ার শেরেবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক করোনার লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

ঈদের আগের রাত আড়াইটায় তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। এই খবর পৌঁছে মোরশেদের কানে। মধ্যরাতেই নিজের বাসায় থাকা একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে চলে যান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পরে সেই শিক্ষক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

ডা. ফাতেমা বলেন, ‘আগে বাসায় ফিরতাম উত্ফুল্ল হৃদয়ে। এসেই মেয়েদের কোলে টেনে নিতে পারতাম। এখন সেই সুযোগ নেই। মেয়েদের দূরে রাখতে হয়। মনটা বড্ড বিষ্ণণ্ন হয়ে ওঠে।’

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares