নয় মাসে সিলেটবাসীকে চমকে দিলেন একজন মানবিক পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন

প্রকাশিত: ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

নয় মাসে সিলেটবাসীকে চমকে দিলেন একজন মানবিক পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার, দুটি পাতা একটি কুড়িঁর দেশ পূন্যভূমি সিলেট। নানা কারণে প্রশাসনিক কেত্রে বাংলাদেশের মধ্যে সিলেটের গুরুত্ব আলাদা। প্রাকৃতিক সম্পদ পাথর কোয়ারী, গ্যাসত্রে, চা-বাগানসহ সিলেটে রয়েছে শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র। এছাড়াও ভারতের সীমান্তবর্তী জনপদ সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার অবস্থান ভারতের সীমানা ঘেঁষা। তাছাড়া তামাবিল স্থলবন্দরসহ ভারতের সীমানা ঘেঁষে দীর্ঘদিন থেকে উভয় দেশে বসে আসছে বৈধ-অবৈধ বেশক’টি হাট। দু’টি দেশের সীমানায় কোথাও নেই সীমানা প্রাচীর। কোথাও কোথাও কাটা তারের ভেড়া থাকলেও উভয় দেশের চোরাকারবারিরা অত্যন্ত গোপনে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সাথে মাদক দ্রব্যসহ বিভিন্ন অবৈধ পন্য নিয়ে যাতায়াত করে অনায়াসে, এতেই ঘটে বিপত্তি।

সিলেটের সীমান্ত এলাকা ভারতের মালামাল পাচারের, একটি চুরাচালানের স্বর্গরাজ্য নামে খ্যাত। সীমান্ত এলাকার চুরাচালান থেকে প্রতিদিন প্রশাসন পেত ল ল টাকা। তাই সিলেট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। যেখানে না চাইলেও হাতে চলে আসে অবৈধ টাকার পাহাড়। এক সময় সিলেটের অতীত ঐতিহ্য, সাহিত্য-সংস্কৃতি, রাজনীতি-সমাজনীতি, শিা-দিাসহ সর্বদিক থেকে বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্রাচীনতম গৌরবগাঁথা ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ছিল এ বিভাগ। কালের আবর্তে আমরা সবকিছু হারিয়ে মদ, জোয়া, ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, তীরখেলায় যখন সিলেট জেলা ঝেকে বসে, প্রশাসনের যখন কোন বালাই ছিল না, দিন-দুপুরে ছিনতাই হত, সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে চুর, ডাকাত আর চুরাকারবারীদের রাতে পরিণত হতো পবিত্র ভূমি সিলেট, ঠিক তখনই সিলেটের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন মানবতার ফেরিওয়ালা, সততার অনন্য পথিকিৎ, টগবগে যুবক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

সিলেটে যোগদানের পর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় কাগজে কলমে সমাপ্তি হওয়া ১৪৫৫ টি মামলার জট। তিনি টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে মামলাগুলোর বিশাল জট নিরসনে দ্রুত কার্যকরি পদপে গ্রহন করেন। পাঁচ মাসে ১৪৫৫টি মামলার মধ্যে ৯০৫টি মামলার মুলতবি করতে সম হন । আট মাসের মাথায় সব’কটি মামলা তিনি মুলতবি করে দেন। ওয়ারেন্ট তামিলের ক্ষেত্রে রয়েছে স্মরণকালের সেরা সফলতা, সিলেটের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র পুলিশ সুপার, যার উদ্যোগে সিলেট জেলা পুলিশের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উপলে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ২২৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করে সিলেটে আলোচনার ঝড় তুলেন। সিলেটের পুলিশ লাইনস বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ এসপি এম. শামছুল হক মিলনায়তনে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট রেঞ্জ এর ডিআইজি মো. কামরুল আহসান বিপিএম-বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া ও সিলেট রেঞ্জের এ্যাডিশনাল ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র, বিপিএম-সেবা।

সিলেট জেলার (উত্তর জোন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দণি) ইমাম মোহাম্মদ শাদিদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা শাহনেওয়াজ ও গীতা পাঠ করেন এএসআই রুপক আচার্য্য। এরপর মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে তাদের বীরত্ব গাঁথা অম্ল মধুর স্মৃতিচারণ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন মহান মুক্তি সংগ্রামে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবজনক অধ্যায়ের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বর্তমান প্রজন্মের পুলিশ সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস হৃদয়ে ধারণ করে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেবার আহবান জানান। তিনি বলেন জাতির পিতা মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাঙালী জাতি দলমত পথের উর্ধ্বে ওঠে দেশ মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে এ দেশটাকে স্বাধীন করেছে। আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। তিনি মুক্তিযোদ্ধের চেতনাধারী পরিবারের সন্তান হিসেবে তাহার বাবার কাছে শোনা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার পাক বাহিনীর লোহমর্ষক অত্যাচার-নির্যাতনের নিদারুণ গল্পের কথা স্মৃতিচারণ করে বলেন ৩০ ল শহীদ ২ ল ৬৯ হাজার মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে, এ স্বাধীন দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের ল্েয সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমাদের সকলকে একাট্টা হয়ে কাজ করতে হবে।

সিলেটের ডিআইজি, কমিশনার, এসপিসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা ও জাতির সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগন একই সাথে বসে দুপুরের খাবার আয়োজন ছিল একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। বীর মুক্তিযোদ্ধাগনের অশ্র“সিক্ত ভালবাসায় প্রশংসিত হন এসপি ফরিদ উদ্দিন। এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক প্রদানে তিনি ভীষণ প্রশংসা কুড়ান।

সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন মাত্র একশত টাকা খরচের মাধ্যমে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেয়ায় দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলেন তিনি। পুলিশে নিয়োগ ও বদলীতে অনেক পুলিশ সুপারই টাকা ছাড়া কাজ করেন না। তাঁর কথা হলো; আমি ঘুষ খাব না, কাউকে ঘুষ খেতেও দিব না। সিলেটে হয়তো ঘুষ থাকতে না আমি থাকবো। রদবদলে নেই তার টাকার কোনো চাহিদা, তাঁর সততা, কর্মদতা ও নিষ্টার ফল ভোগ করছেন সিলেটবাসী। তার নিয়োগের পর থেকে সিলেটের থানাগুলোতে জিডি ও অভিযোগে কোন টাকা লাগে না। পুলিশিং কোন ধরনের হয়রানি নেই বললেই চলে।
পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কাজ ও কর্মে সিলেটবাসীকে চমক দেখিয়ে দেন এসপি ফরিদ উদ্দিন। পৃথকভাবে প্রতিটি থানা পরিদর্শন ও থানার আওতাধীন এলাকার সার্বিক দিক বিবেচনা করে তৈরি করেন প্রতিটি থানায় একেকটি টিম। সিলেটের এসপি হিসেবে যোগদানের সূচনালগ্ন গেল বছরের জুলাই থেকে ১৫ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত সিলেট জেলায় ৪৮৩টি মাদক মামলায় ৩৮৫ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠান। জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৯ হাজার ৭৭১ টাকা সমমূল্যের মাদক দ্রব্য ও ২১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন এবং ৩৯,৮৯,১০০/- টাকার বিদেশী মদ ও কোটি টাকা মূল্য মানের ১ কেজি হেরোইন জব্দ করতে সম হন। তিনি বিগত ৯ মাসে সিলেটের সবকটি থানায় রুজুকৃত মোট মামলার সংখ্যা ২২১৮, গ্রেফতারের সংখ্যা ২১৫৩, গ্রেফতারী পরোয়ানামুলে গ্রেফতারের সংখ্যা ২৯৮০, অন্যান্য আইনে গ্রেফতারের সংখ্যা ৬৪, মোট আসামী গ্রেফতারের সংখ্যা ৫১৯৭। এর মধ্যে খুনের মামলা ৪২টি, খুন মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা ১৫৫, নারী নির্যাতন মামলার সংখ্যা ১১২, শিশু নির্যাতন মামলার সংখ্যা ১৩৩, নারী ও শিশু নির্যাতন মোট মামলার সংখ্যা ২৪৫, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মোট আসামী গ্রেফতারের সংখ্যা ৩৬৮, ডাকাতি মামলার সংখ্যা ১০, ডাকাতি মামলায় আসামি গ্রেফতারের সংখ্যা ৭৩, চিহ্নিত ডাকাত গ্রেফতারের সংখ্যা ৫১, দস্যুতা মামলার সংখ্যা ৬, দস্যুতা মামলায় আসামী গ্রেফতারের সংখ্যা ১৯, মাদক মামলার সংখ্যা ৪৮৩, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারের সংখ্যা ৩৮৫, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য মামলায় মালামাল উদ্ধারের আনুমানিক মূল্য ২,৬৩,০৯,৬৭১/-, উদ্ধারকৃত বিদেশি মদের আনুমানিক মূল্য ৩৯,৮৯, ১০০/-, চোরা চালান মামলার সংখ্যা ৬৬, চিহ্নিত চোরাকারবারির গ্রেফতারের সংখ্যা ৪৫, চুরাকারবারী মাল উদ্ধানের আনুমানিক মূল্য ১,৬৫,৫০,২৬৩/-। ২৩৪টি মামলার বিপরীতে ১ হাজার ২৮জন আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন (পিপিএম) এর টিম। সততা, নিষ্ঠা, কর্মদতা, সাহসিকতা, কর্তব্যপরায়ণ, টিমওয়ার্কে বিশ্বাসী এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম দিনে দিনে হয়ে উঠেন সিলেটের ভাল মানুষের পরম বন্ধু ও অপরাধীদের আতঙ্ক। পবিত্র ভূমি সিলেটবাসীর প্রাণ পুরুষ।

পুলিশ সুপার হিসেবে সিলেটে যোগদানের পর থেকে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার তথ্য উৎঘাটন, জেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেন। বর্তমানে তিনি সিলেটের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন একটি আস্থা, ভালবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক। একজন পুলিশ কর্মকর্তার মূল কাজ জনগণের সেবা করা। বিপদাপদে তাদের পাশে থাকা পুলিশের সকল কর্মকর্তা সে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এসপি ফরিদ উদ্দিনের দায়িত্ব পালনে রয়েছে আলাদা কৌশল, সততা, নিষ্টা ও পরিস্থিতির ত্রে বোঝে সময়োচিত পদপে গ্রহণ। প্রশাসনের কাতার থেকে জনতার কাতারে নেমে, জনতাকে সাথে নিয়ে সৎ মানুষকে খুঁজে বের করে তাকে নিয়ে কাজ করা। এসপি ফরিদ উদ্দিন আসার পূর্বে পুলিশ প্রশাসনের আর কোন এসপি সিলেট জেলার মিডিয়া জগৎ এর মন কাড়তে পারেনি। সিলেটের এসপি ফরিদ উদ্দিন তার কর্ম দিয়ে সিলেটের মিডিয়ার নজর কেড়েছেন। সিলেটের পত্র-পত্রিকা খুললেই এখন সিলেটের পুলিশ প্রশাসন সাধারণ মানুষের প্রশংসার পঞ্চমুখ। এটা তিনির কর্মের ফসল, এটা তাহার মানবিকতা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

May 2020
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares